বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে ইসি গঠনে অংশ নিবে বিএনপি



আকরাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এরমধ্যেই গঠন করতে হবে নতুন নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে ইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ নানা মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দাবি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার। বর্তমান সরকারেরর অধীনে নির্বাচনে অংশ নিবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশন গঠনেও তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তবে ইসি'র ভাবনা একবারে ঝেড়ে ফেলেনি। নিজেদের পরিকল্পনা আগে-ভাগেই করে ফেলেছে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারলে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে তারা।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী থেকে আহ্বান আসলে বিবেচনা করবে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনা করবে। আলোচনার টেবিলে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যমতে পৌঁছালে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে।

সূত্রটি জানান, বর্তমান সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে বাম দলগুলোসহ বেশকিছু দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করতে নমনীয় হয়েছে। এসমস্ত বাম দলগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের পাশে পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ব্যাপারে সতর্কও থাকবে। এজন্য সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমত হলেই কেবল মাত্র ইসি গঠনে অংশ নিবে। ঐক্যমত না হলে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে না বিএনপি।

তবে এ ব্যাপারে এখনই প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না জাতীয়বাদী দল। দলের নেতাদের দাবি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার হলে তারাই ইসি গঠন করবে।

বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বার্তা২৪.কমকে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনের কোনো নির্বাচন কমিশনই জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে না। আমরা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার চাই। নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হলে তার অধীনে নির্বাচন কমিশন হবে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন হলে তা আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ কমিশনই হবে। ইতিপূর্বে দুটি কমিশন সেভাবেই হয়েছিল। আওয়ামী লীগের মনোভাবাপন্ন লোকদের দিয়েই সার্চ কমিটি হবে। তাদের মাধ্যমে যে কমিশন হবে তা আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ কমিশনই হবে। সকল দলের অংশগ্রহণ নির্বাচন কমিশন চাই। নির্বাচন কমিশনকে সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে। একই সাথে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সরকার থেকে আহ্বান আসলে বিএনপি কী করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন, বিএনপি একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আগাচ্ছে। এখানে সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের করণীয় নির্ধারণ হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভাবনা নিয়ে বিএনপির নাই। নির্বাচন কমিশন দিয়ে কী হবে। কমিশনের দায়িত্ব ফেরেস্তা হলেও তো কিছু না। মানুষ ভোট দিতে পারে না। নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। বিএনপির দাবি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে যে প্রেক্ষাপট আছে তাতে একটা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না, সম্ভব না। যত ভালোই লোককে নিয়ে দেন- সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা করতে না দেয় তাহলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সেই কারণে আমরা পরিস্কারভাবে বলেছি যে, আগে পদত্যাগ করো-রিজাইন এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দাও। কিন্তু ওদিকে তারা (সরকার) যাবে না। তারা সার্চ কমিটির মাধ্যমে সেই লোকগুলোই তো নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এটা কোনো দিনই গ্রহনযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন যদি করতে হয় আগে সরকারকে সরে যেতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এবং সেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

২০১৭ সালে সর্বশেষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেন। এরপর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে (তখন তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন) সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাঁচটি করে নাম চায়। এরপর তারা ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠায়। রাষ্ট্রপতি কে এম নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আরও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেন।