দেশে এখন আর সুশাসন নেই: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, দেশে এখন আর সুশাসন নেই। সাংবিধানিকভাবেই দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে। সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) গাজীপুরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালে গণতন্ত্র মুক্তি পাক বলে দেশের মানুষ স্লোগান দিতে পেরেছে। দেশের মানুষ এখন কি স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্লোগান দিতে পারে? এ থেকেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র উপভোগ করতে পারছেন।

তিনি বলেন, এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক নেতাই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগে আর জায়গা নেই, এত নেতা-কর্মীর সংকুলান হচ্ছে না আওয়ামী লীগে। কেউ ইচ্ছে করলেই আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারছে না। আবার বিএনপির অবস্থা হতাশাব্যঞ্জক। বিএনপিতে চরম নেতৃত্ব সংকট চলছে। দেশের মানুষ বিএনপির ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত। তাই দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান মানুষের সামনে জাতীয় পার্টি হচ্ছে একমাত্র রাজনীতির বিকল্প শক্তি।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আবারও জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। ১৯৯১ সালের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশের মানুষের সাথে কথা রাখেনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এক সময় ব্রিটিশরা বৈষম্য সৃষ্টি করেছিলো, তারপর বৈষম্য সৃষ্টি করেছিলো পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু এখন দুটি দল মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি না করলে কেউ চাকরি পায় না, ক্ষমতাসীন দল না করলে ব্যবসা করতে পারে না কেউ। দেশের মানুষ এখন বলেন, এরশাদের শাসনামলে বেশি সুশাসন ভোগ করেছেন। তাই আবারও তারা জাতীয় পার্টির শাসনামল ফিরে পেতে চায়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পরিবহন সেক্টর কে নিয়ন্ত্রণ করছে তা কেউ জানে না। কিছু সমিতি ও ইউনিয়ন পরিবহন সেক্টরকে জিম্মি করে রেখেছে। সরকারের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা সাধারণ মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে পরিবহন সেক্টরের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে। তাই গণপরিবহনে নৈরাজ্য কমছে না।

জিএম কাদের বলেন, প্রতি বছর দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। আমরা বিদেশি সূত্রে জানতে পারছি টাকা পাচারের খবর। দেশের কোন সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করছে না। আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা চাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই দেশের মানুষ গণতেন্ত্রর প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিসেস শেরীফা কাদের এমপি প্রমুখ।

‘অনেকটা নিরুপায় হয়েই জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে সরকার’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় জনগণের স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য এডজাস্টমেন্টে যেতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

সোমবার (০৮ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২০১৬ সালের এপ্রিলে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য রি-এডজাস্টমেন্ট করবে সরকার।

জয় বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। বাংলাদেশে ভারতের কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্টোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা শতভাগ।

এশিয়ার অনান্য দেশ যেমন- নেপালে ডিজেল ১২৭ টাকা, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩৮, সিঙ্গাপুরে ১৮৯, চীনে ১১৮, আরব আমিরাতে ১২২.৮০ টাকা ও হংকংয়ে ২৬০ টাকা।

বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বলেন, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ডিজেলের মূল্য ১১৪.০০ টাকা করা হলেও জুলাই মাসের গড় হিসেবে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে ১২২.১৩ টাকা অর্থাৎ প্রতি লিটারে তারপরেও ৮.১৩ টাকা লোকসান বিপিসিকে বহন করতে হবে।

জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বশেষ জুলাই মাসের গড় প্লাটস রেট অনুযায়ী বিপিসি’র দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ডিজেলে- প্রায় ৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা ও অকটেনে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ২১৬।

;

বিএনপিকে আগুন নিয়ে না খেলার আহবান জানালেন কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপিকে আগুন নিয়ে না খেলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড়। বিএনপি তো এই পথে নতুন। আসুন রাজপথে মোকাবিলা হবে, ফয়সালা হবে। আগুন নিয়ে খেলতে আসলে পরিণাম হবে ভয়াবহ।

সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে  শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হতে পেরেছেন তার পাশে সহযোদ্ধা, সহযাত্রী হিসেবে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতো মহীয়সী নারী ছিলেন বলেই। তার মতো প্রজ্ঞা ও ধৈর্যশীল নারী না থাকলে একটি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেয়া জাতির পিতার জন্য দুরূহ হতো।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এ সময় জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি, শাজাহান খান এমপি, আবদুর রহমান, এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস. এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

;

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান রওশন এরশাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান রওশন এরশাদের

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান রওশন এরশাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক হলেও সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন, পেট্টোলের দাম যে মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে তা নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।

সামগ্রিকভাব অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে আছে, কোভিড-পরবর্তী একটা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছিল এবং জনজীবনে মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের চাপ রয়েছে-এ অবস্থায় জ্বালানির দাম যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আরেকদফা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তেল-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, করোনা অতিমারির বিরূপ প্রভাব এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত ইতোমধ্যে জনসাধারনের উপার্জন এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে। এর মধ্যে যদি জ্বালানির মূল্য অসহনীয় হয়ে ওঠে তাহলে জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় মানুষের জীবনমানের দিক বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন- এমনই প্রত্যাশা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

;

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাপার দুই দিনের কর্মসূচি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাপার দুই দিনের কর্মসূচি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাপার দুই দিনের কর্মসূচি

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৮ আগস্ট ৩টায় কাকরাইলস্থ জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ, পরদিন ৯ আগস্ট সারাদেশে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও সকল ইউনিট পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।

রোববার (৭ আগস্ট) জাপার বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানদের এক সভায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, পার্টি মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সালমা ইসলাম এমপি এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাপা। তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দলটি। জাপার চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ৫১ শতাংশেরও বেশি পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন। জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে। প্রমাণ হলো দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোন দরদ নেই।

;