‘বিএনপি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নাম করে ও নানান অরাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়।

শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী একথা বলেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে উদ্দেশ্যে ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তারা এখনো বাংলার মাটিতে তৎপর রয়েছে। কারণ, দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নের উগ্রযাত্রা আরও বহুদুর এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। দেশকে আমরা আর অস্থীতিশীল করতে দিব না।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের ও সাফল্যে যে উচ্চতায় উঠেছে তা ধরে রাখতে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হলে যেকোন মূল্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী বলেন- নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন করার জন্য আইন করতে হবে। আমাদের সংবিধানে রয়েছে আইন করতে হবে। আমি তাদের সঙ্গে অবশ্যই একমত পোষণ করছি। তবে কোনোদিনই আইনি ভিত্তি ছাড়া এ দেশে নির্বাচন হয়নি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। নোটিশ হয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছে। নানাভাবে এ দেশে নির্বাচন হয়েছে। আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হয়নি। আমরা বলি ’৯১ এর নির্বাচন খুবই স্বচ্ছ নির্বাচন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ নির্বাচন। ২০০৮ সালের নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর স্বচ্ছ নির্বাচন। সেটাই যদি হয় তখন তো আইনই ছিল না। তারপরও তো হয়েছে, যেটাকে আপনারা বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই সংবিধান ১৯৭২ সালে করা হয়েছিল। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এই আইন করেননি কেন? তারাও কিন্তু আইন করেননি। নানা কারণে আইন হয়নি। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি তো নির্বাচন করে ১৯৯১, ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। তখন কি বলেছিলেন, নির্বাচন সঠিক হয়নি- প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালে সরকারের সব কিছু পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও কমিশনাররা শপথ নিয়েছেন সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো দায়িত্ব নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন সব কিছু থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধিনে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে যদি দায়িত্ব পালন না করে এর দায় প্রধানমন্ত্রীর নয়, আওয়ামী লীগেরও নয়।

তিনি বলেন, কেউই রাজনীতির বাইরের লোক নয়। সবারই রাজনৈতিক আদর্শ আছে। নিরপেক্ষ কাকে বলবেন। এই দেশের মানুষকে দিয়েই তো কমিশন গঠন করতে হবে। চাঁদ থেকে বা মঙ্গল গ্রহ থেকে তো আর মানুষ নিয়ে আসবেন না?

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, ছানোয়ার হোসেন এমপি, সোহেল হাজারী এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্যসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোকো’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৪ জানুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ২৪ জানুয়ারি।

ওই দিন সকাল ৮টায় মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র বনানীস্থ কবরস্থান প্রাঙ্গণে কোরআন খানি ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

দুপুর ১২টায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোকো’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৬টি থানায় বিশেষ দোয়া এবং এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

এছাড়াও বিকাল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।

সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোরভাবে স্বাস্থবিধি মেনে দিনব্যপী এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

;

‘ব্লক চেইন টেকনোলজিতে বিতর্কমুক্ত নির্বাচন হতে পারে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

  • Font increase
  • Font Decrease

জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেছেন, ব্লক চেইন টেকনোলজি প্রচলিত সব প্রযুক্তির সেরা। নিরপেক্ষ,  বিতর্কমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে ব্লক চেইন টেকনোলজি এবং ই-ভোটিং বাস্তাবায়ন এখন সময়ের দাবী।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে  বনানীস্থ জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ব্লক  চেইন” এর মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বাস্তবায়ন, ই-ভোটিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে ভোট প্রদানের প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আমরা পেশ করেছি। যা রাষ্ট্রপতির কাছে এ ধরনের সর্বপ্রথম প্রস্তাবনা। এ প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রপতি চমৎকৃত হন  এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের সদস্য ভোটারদের নাম, আইডি কার্ড এবং স্ব-স্ব দলের সমর্থক ভোটারদের ভোটারের নাম, আইডি কার্ড, স্বাক্ষর এবং ছবিযুক্ত ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে। এ ডাটাবেজ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। তা হলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংরক্ষিত ভোট আছে তার প্রমাণ নির্বাচনের পূর্বেই নির্বাচন কমিশন অবহিত থাকবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন এ ডাটাবেজ একটি অ্যাপের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উম্মুক্ত করে দিবে। এতে করে ভোট গননা এবং ফলাফলের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট প্রদান, সংখ্যা এবং ফলাফলের সাথে চেক এন্ড ব্যালেন্স আসতে পারে।

তিনি বলেন, ব্লক চেইন প্রযুক্তি সবচাইতে গতিশীল এবং সুরক্ষিত। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কেউ চাইলেই লেনদেনে গড়মিল তৈরী করতে পারে না। ভোটার ডাটা ব্লক চেইন এর মাধ্যমে ষ্টোর করা এবং ভোটের ডাটাবেজ দেশের সকল নাগরিকদের জন্য উম্মুক্ত করে দিতে হবে। এই পদ্ধতিটি হ্যাকড করা সম্ভব নয়, বাকি সব পদ্ধতি হ্যাকিং হতে পারে।

জাকের পার্টি চেয়ারম্যান স্টার্টআপ দের জন্য স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ড, বয়স্কদের জন্য পেনশন ফান্ড, আয়ের গড়  হিসাবের প্রচলিত ধারার অসামঞ্জস্য এবং  সঞ্চয়কারীদের সঞ্চয় কে  বিনিয়োগের আরো বড় খাত তৈরির অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সুষম বন্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কি করে আমরা গরীব মেহনতি মানুষকে মূল অর্থনীতির স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। বাংলাদেশে  ল্যান্ড সাইজ ছোট হতে পারে কিন্তু একেকটি জেলা একটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের সমান। আমাদের ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট যদি সমান ভাগে ভাগ করা হয় তাহলে প্রতিটি জেলা পায় ১০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ৫বছর মেয়াদে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পায়, গুণগত ব্যায় ও সুষম বন্টন নিশ্চিত করা গেলে আমরা দারিদ্রতা কে পরাজিত করতে পারতাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলা পর্যায়ে গভর্নর নিয়োগ করার প্রস্তুতি নিয়ে ছিলেন, যাতে করে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে আরও উন্নত করা যায়।

মূল্যস্ফীতিকে আমানতকারীর আমানতের সাইলেন্ট কিলার আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতি বছর দ্রব্য মূল্যের দাম যে হারে বাড়ছে, আজকের ১০ লক্ষ টাকা ১০ বছর পর তার বাজার মূল্য হবে ৪ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ এখানে পরিস্কার দেখা যায় যে, সঞ্চয় এর মূল্য থাকছে না। সঞ্চয়কারীর সঞ্চয়কে ব্যবহার করে বিনিয়োগের খাত আরও ব্যাপক ভাবে সৃষ্টি করতে হবে। কারো বার্ষিক আয় ১০ কোটি টাকা, কারো ১ লাখ টাকা। কিন্তু আয়ের গড়ে বললাম ৫ কোটি টাকা গড় হিসাব এভাবে দেখলে আসল চিত্র বুঝা যায় না। তাই টার্গেট ধনী কে গরীব বানানো না, টার্গেট হবে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে কি করে আরো উন্নত জীবন দেয়া যায়।

;

জিয়ার অবদান মুছে ফেলতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: আমান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, শহীদ জিয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। যিনি সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আজ তার অবদান মুছে ফেলতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং তারেক রহমানকেও দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু সেসব সম্ভব হবে না। তারা রয়েছেন দেশের মানুষের হৃদয়ে। কেননা শহীদ জিয়া দেশের উন্নয়নের জন্য যা করেছেন তা কখনো জাতি ভুলবে না।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেডআরএফ।

জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মাহবুব আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

আমান বলেন, বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা ও জবাবদিহিতা নেই। কারণ তারা বিনাভোটের সরকার। তারা সংসদ থেকে বের না হলে জনগণ তাদেরকে বের করে আনবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন।

;

‘দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আ.লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং দেশের চলমান সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেডআরএফ।

জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মাহবুব আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নন দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সকল সেক্টরে অবদান রেখেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার জন্মবার্ষিকীতে জেডআরএফের আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। আমি বলব-দেশের বিশেষ দুটি দিন। একটি ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে উই রিভোল্ট বলে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে অনেকেই জিয়াউর রহমানকে হিংসা করেন। তার নাম মুছে ফেলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই তারা করছে না। যারা জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করেন না তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না। অন্যরা তো তখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। কেউ ইচ্ছা করলে ইতিহাস মুছে দিতে পারে না।

আরেকটি ঘটনা হলো ৭ নভেম্বর। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংস করেছিল। কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করেছিলো। রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ হত্যা করে প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিলো। তখন ক্যু আর পাল্টা ক্যু হচ্ছিল। তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব যে সংঘটিত হলো সেটা হলো ইতিহাসের আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট। তখন দেশের ক্ষমতার পাদপ্রদীপে আবির্ভূত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুদ্ধার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছেন। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাট চলছিল।

শহীদ জিয়া দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্র হত্যা করেছে আর বিএনপি তা বার বার পুনরুদ্ধার করেছে। এগুলো ইতিহাস। চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না। তেমনি আজকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দী।

আজকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করেছে তার জাতির সাথে আরেকটি নাটক। আমরা বলেছি আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনো কোনো নির্বাচনে যাবে না। কেননা আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন সরকারের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং এসব সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের কোনো বিকল্প নেই। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

;