দেশে নতুন রূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে: মির্জা আব্বাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে আজ নতুন রূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, মানুষ কথা বলতে পারে না। সাংবাদিকরা লিখলে সাগর-রুনির পরিণতি ভোগ করতে হয়, জেলে যেতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে টুটি চেপে ধরে রেখেছে। অনেক সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, বাকশাল কী জিনিস তা নতুন প্রজন্ম জানে না। সে সময় মায়ের বুকে যুবকরা ঘুমাতে পারতো না। আওয়ামী লীগ ও রক্ষীবাহিনী গণবাহিনী আখ্যা দিয়ে ৫০ হাজার যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এই আওয়ামী লীগ মানেই গণতন্ত্র হত্যা। যখনই এরা ক্ষমতায় আসে তখনই খুন-গুম ও লুটতরাজের স্বর্গ তৈরি করে। লুট করে নেয় বাকস্বাধীনতা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে! লবিস্ট কী জিনিস তাইতো আমরা জানতাম না। ১৪ সালে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে নানা অপকর্ম ডাকতে আপনারাই অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। আপনারা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করছেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা কি বিশ্ব দেখে না?

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ রাজপথে অলরেডি নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দীন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল প্রমুখ।

সভাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।

পরিসর বাড়লো গণঅধিকার পরিষদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিসর বেড়েছে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কমটির। কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১৯ জন। আগের ১০১ জন নিয়ে বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২০ জন।

শনিবার (২১ মে) রাতে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নূরের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম জানানো হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন

যুগ্মআহ্বায়ক:

কর্ণেল (অবঃ) মিয়া মশিউজ্জামান, চোধুরী আশরাফুল বারী নোমান, অধ্যাপক (অবঃ) ড. আবদুল মালেক ফরাজি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, মেজর (অবঃ) আমিন আহমেদ আফসারী, মেজর (অবঃ) ড. বদরুল আলম সিদ্দিকী, জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) শামস-উল- আলম খান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন।

যুগ্ম সদস্য সচিব:

মো. তারেক রহমান, স্কোয়াড্রন লীডার (অবঃ) মাহমুদ আলী, লেঃ কমাঃ (অবঃ)মু্হাঃ আব্দুল বাসেত, ওয়াহেদুর রহমান মিল্কি।

সহকারী সদস্য সচিব:

শামসুদ্দিন আহমেদ, আনিসুর রহমান মুন্না।

সদস্য:

প্রিন্সিপাল এম.এ মালেক, শাহরুখ খান (আজাদ), কাজী মোকলেস, নুর আলম মোল্লা, মো. শহিদুল ইসলাম।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর বলেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গণঅধিকার পরিষদে আপনাদের নেতৃত্ব আগামীর বাংলাদেশ বির্নিমানে জাতিকে পথ দেখাবে বলে আশা করি।

বার্তা২৪.কম-কে নূর বলেন, আত্মপ্রকাশের পর প্রথমবারের মত আহ্বায়ক কমিটির পরিসর বাড়ানো হল। আমরা দ্রুত জেলা কমিটিগুলো দেয়ার চেষ্টা করছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে চেষ্টা করব ৫০টির মতো জেলা কমিটি দেয়ার। চলতি বছরের মধ্যে জেলা কমিটিগুলো দিয়ে কাউন্সিল করা হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে।

;

ছাত্রদলের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছাত্রদলের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি

ছাত্রদলের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা, মামলা ও গ্রেফতার বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

শনিবার (২১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, এই অবৈধ সরকারের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে প্রিয় মাতৃভূমি৷ ঈদুল ফিতরের পর অল্প কয়দিনের ব্যবধানে কোন কারণ ছাড়াই কয়েকবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার গ্রেফতারের চেষ্টা ছাত্রসমাজকে খুবই মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে৷ আমরা ছাত্রদল এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকার তাদের ক্ষমতার প্রথম মেয়াদ থেকেই বিরোধী দল ও মতের মানুষের উপর খড়গহস্তে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে আসছে৷ জেল-জুলুম আর অত্যাচার-নির্যাতনকেই ক্ষমতায় টিকে থাকার মানদণ্ড হিসেবে বেছে নিয়েছে৷ না হলে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বর্তমানে যখন কোন নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচির চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময় ছাত্রদল সভাপতিকে বারবার গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে হয়রানি, গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়৷

ছাত্রদল সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কোনদিনই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে ছিল না৷ তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীনতার বহু উদাহরণ এদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে৷ সেই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো ছাত্রদল সভাপতিকে বিনা কারণে বারবার গ্রেপ্তারে ও হয়রানির অপচেষ্টা।

তিনি বলেন, ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ শুক্রবার দিবাগত রাতে ধানমন্ডিতে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন৷ এসময় সাত-আটজন সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের প্যান্টের বেল্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তাদের সাথে দুই গাড়ি পুলিশ ছিল। কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও তার সাথে থাকা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৫-৫০ নেতা কর্মীর উপর পুলিশ অশালীন আচরণ ও মারধরের ঘটনা ঘটায়।

সাইফ জুয়েল বলেন, উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতিকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়ে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ ও কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবুকে বেধড়ক মারধর করে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়৷

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় থেকে বাসায় যাওয়ার পথে গুলশান থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম জাসামকে কাকরাইল মোড় থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যায়৷ অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ সকালে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকায় চোখ ও হাত বাধা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়৷

অবিলম্বে আটক ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সিনিয়র সহ সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া উপস্থিত ছিলেন।

;

সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

কর্তৃত্ববাদী সরকারের সামনে প্রশাসন বা সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। তাই কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি।

শনিবার (২০ মে) দুপুরে জাপার বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোকিত মানুষ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজমিন সুলতানা তুলির নেতৃত্বে একদল নারী উদ্যোক্তা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ইতিমধ্যেই সরকার প্রধান ঘোষণা করেছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সবগুলো আসনে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ না করলেও, যে সকল আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না সেখানে হয়তো ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ চলবে। জাতীয় পার্টি প্রহসনের নির্বাচন চায় না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য ডাকা হলে, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সংলাপে অংশ নেবো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। উপনিবেশিক আমলে মানুষকে শোষণ করতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতো। প্রশাসকদের জবাবদিহিতা থাকতো শুধু সরকারের কাছে, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসকদের কোন জবাবদিহিতা থাকে না। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও নেই। সকল ক্ষেত্রে প্রসাশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, রাজনীতিবিদদের কোন কর্তৃত্ব নেই। তাই দেশের জনগণের কাছে কারো জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, চরিত্রগত কোন পার্থক্য নেই। দল দুটি দুর্নীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি করে মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করেছে। তারা বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশের মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের কোন অধিকার নেই, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। হাসপাতালের জন্য বড় বড় ভবন তৈরি হচ্ছে, কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার নেই, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে লেখাপড়া নেই, ছাত্রদের শুধু পাশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। অভিযোগ আছে জাতিকে ধ্বংস করতে মাদক বিস্তারে ক্ষমতাশীনরা জড়িত।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। গেলো তিন বছরে মানুষের ব্যয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ, কিন্তু আয় বাড়েনি। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় না। মন্ত্রীরা যা বলেন, তা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন না। মন্ত্রীরা দেশের মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে জানেন না। আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বিএনপিকেও বিশ্বাস করেন না সাধারণ মানুষ। দুটি দলের বিকল্প হিসেবে জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশের মানুষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদের এমপি, নাজনীন সুলাতানা, মাসরুর মওলা, ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ শফি, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, আব্দুল হামিদ ভাসানী, মো. বেলাল হোসেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এনাম জয়নাল আবেদীন, হুমায়ুন খান প্রমুখ।

;

দলের ভাঙন ঠেকাতে ২০১৮’র নির্বাচনে বুঝে-শুনে ফাঁদে পা দেয় বিএনপি



আকরাম হোসেন, স্টাফ করসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি লোগো

বিএনপি লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না- এমন অভিযোগ করে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। দলটির দাবি ছিল- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। একই দাবি ছিল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। কিন্তু, নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে হঠাৎ সরে আসে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি। পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরী জোট থেকে বের হয়ে গেলেও ডা. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনে যায় দলটি।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কারণে বরাবরই দলের হাইকমান্ডকে দুষছে তৃণমূলের একাংশ। ড. কামালের পাতা ফাঁদ বুঝতে না পারার জন্য হাইকমান্ডকে দোষারোপ করেন। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে হাইকমান্ডের নজর ছিল সুদূরপ্রসারী। ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে ভালোভাবেই জানতেন তারা। দলের ভাঙন ঠেকাতে সে সময় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে নির্বাচনে যাওয়া। বিএনপিকে ভাঙার যে ষড়যন্ত্র তখন হয়েছিল তা বানচাল করতেও সক্ষম হয়।

দলটির একটি সূত্র জানান, নির্বাচনে না গেলে বিএনপির থেকে কিছু নেতা বের হয়ে যেত। আমরা ১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করি। স্বাভাবিকভাবে ১৮ সালের নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে মাঠ-পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশের চাপ ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিই হচ্ছে নির্বাচনমূখী। কয়েকজন নেতা নির্বাচনে যেতে উদগ্রীব ছিলেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়। সেখানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আ স ম আবদুর রবসহ বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। ফলে বিএনপি নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে এরা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করত। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যের একটা অংশ ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। এই সংখ্যাটা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের মত। এর বাইরেও কিছু দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতা ছিলেন। সে সময়ে ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে কোনো রাস্তা ছিল না। দলের ভাঙন ঠেকাতে ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া অপরিহার্য ছিল। এক রকম জেনেশুনে, বুঝে ফাঁদে পা দেয় বিএনপি।

বিএনপির আরেক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, নির্বাচনে না গেলে আমাদের কিছু সাবেক সংসদ সদস্য ও তৃণমূল নেতাকর্মী ঐক্যফ্রন্টে চলে যেত। ঐক্যফ্রন্ট শক্তিশালী হত। নির্বাচনের পরিবেশও সহজ করে দিত আওয়ামী লীগ। ঐক্যফ্রন্টকে ৪০-৫০টি আসনও হয়ত দিয়ে দিত। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এটাও বোঝাতে সক্ষম হত আওয়ামী লীগ। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখানের থেকে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যেত।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান অবস্থা ২০১৮ সালের মতো না। দেশের সকল মানুষ জেনে গেছে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিএনপি, এমনকি আওয়ামী লীগের লোকজনও জানে শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটাই বোঝাতে চেয়েছি। আমরা সফলও হয়েছি। এটা বোঝানোর জন্য মাঝে কয়েকটি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। এবার তৃণমূল থেকে নির্বাচনে যাওয়ারও কোনো চাপ নেই। দলের কেউ চায় না আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন করতে। সবাই মনে করে বিএনপির বাইরে কোনো জোট হলে সেটা আওয়ামী লীগের বি-টিম হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বার্তা২৪.কম-কে বলেন, নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এটা তৃণমূলের দাবি, তৃণমূলের মতামতের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

২০১৮ সালে বিএনপির ভরাডুবি হলেও দীর্ঘ মেয়াদি লাভবান হয়েছে দলটি। সুশীল ও নাগরিক সমাজকে বোঝানো গেছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নির্বাচনে গিয়েই এটা বোঝানো গেছে। নির্বাচনে না গেলে এটা বোঝানো যেত না। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নেতাকর্মীও বুঝেছে। তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড-এক সিদ্ধান্তে অটল। অতীতের তুলনায় বেশি সংগঠিত। এক দফায় সবাই অটল। এটাই বিএনপির অর্জন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করার পর আমরা স্থানীয় সরকার পৌরসভার, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে গিয়েছিলাম। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা বিএনপি প্রতীকধারীরা পেয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে গায়েবি-ভুয়া মামলা দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়। ঠিকঠাক মত তাদেরকে কাজ করতে দেয়া হয় নাই। কারাগারে অনেক মারাও যান। নির্বাচন বর্জন, নির্বাচনে যাওয়া, নির্বাচিত হয়েও তো কিছু হচ্ছে না। সবটাই করে দেখেছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, সুশীল সমাজ, দেশ নিয়ে চিন্তা করেন এমন কিছু ভালো মানুষ আমাদেরকে নির্বাচনে যেতে বলেছিল। বলেছিল আপনারা আগের নির্বাচনে যাননি, এবার যান, যেয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু আমারা দেখেছি উল্টোটা হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা দল ছেড়ে যায়নি বলে মনে করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিএনপি নেতা দল ছেড়ে যায়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সকল রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই কথা দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করে তখন নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভয়ংকরভাবে কারচুপি হয়েছে।

;