‘নির্বাচন কমিশন আইন নতুন মোড়কে পুরনো জিনিস’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে যে আইনটি পাস হয়েছে তাতে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। যথাযথ ক্ষমতায়নের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়নি, আমরা মনে করি ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিদ্যমান আইন বা আলাদা একটি আইন হিসেবে আনা দরকার ছিল।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) জাপার বনানী কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। চলতি সংসদ অধিবেশনে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় যোগদান করতে পারেননি জাপা চেয়ারম্যান। আইনটি নিয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়টি খুব একটা কার্যকর হতে দেখা যায় না। ফলে কিভাবে এটি প্রযোজ্য হবে বা কার্যকর করা যাবে তার বিস্তারিত বর্ণনা থাকা আবশ্যক। আমাদের প্রস্তাব ছিল এ বিষয়েও একটি আইন থাকা প্রয়োজন। যে আইনে, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনী কাজে কোন কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাবলী পালন না করলে নির্বাচন কমিশন নিজেই যেন প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এইরকম একটি আইন করা দরকার।

তিনি বলেন, যথোপযুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই তা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নির্বাচন কমিশনকে কর্তব্য সম্পাদনের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আইনে একটি সার্চ কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সে বিষয়ে সুনিদিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। সার্চ কমিটির মাধ্যমে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় সম্বলিত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থায় প্রকাশ করার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাছাড়া মাত্র ১৫ (পনের) কর্মদিবসের মধ্যে নাম প্রস্তাব করার বিধানটি বেশি তাড়াহুড়ো বলে মনে হয়। যা জনমনে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে, ফলে সার্চ কমিটির কাজের স্বচ্ছতা থাকছে না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার পূর্বে সার্চ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত নাম সমূহ জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রয়োজন ও জনগণের মতামত প্রদানের ব্যবস্থা রাখা উচিত। জনগণের মতামত বিবেচনায় এনে তালিকা সংশোধনের সুযোগ রাখার ব্যবস্থা রাখলে বাছাইয়ের সার্বিক বিষয়টি স্বচ্ছতা পেত। সার্চ কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তালিকাটি প্রকাশ করার বিধান না থাকার ফলে শেষ পর্যন্ত সেই তালিকার সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে কি না সেই বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়। কারণ সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ দফার কারণে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর মতামতের প্রধান্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার দলীয় বিবেচনায় যেকোন ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে মনোনীত করার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান আইনটিতে যাতে উপরোক্ত সুযোগ না থাকে সেজন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর ৩ ধারার পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দানের বিষয়টিও সরাসরি রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি। এ আইন প্রণয়ন করার ফলে নির্বাচন কমিশন গঠন ও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের ক্ষমতায়নে আগের তুলনায় কোন উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। আগের মতই উপরোক্ত বিষয় সমূহ পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অর্থাৎ নতুন করা আইনটি পুরাতন পদ্ধতিকে একটি আইনগত কাঠামোতে এনে আইন সম্মত করা হচ্ছে। এক কথায় এই আইনটি করার পরেও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির সংলাপে প্রস্তাব করেছিলাম আগামীতে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে তার জন্য উপরোক্ত সংবিধানের বিধান অনুসারে একটি আইন করা দরকার। আইনের উদ্দেশ্য হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন গঠন ও সে অনুযায়ী যোগ্য ও মোটামুটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করার মাপকাঠি ও পন্থা সুনির্দিষ্ট করা। আমরা যোগ্যতার মাপকাঠি বলতে দায়িত্ব পালনের দক্ষতাকে বুঝিয়েছি। মোটামুটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বলতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তি নির্বাচনের কথা বুঝিয়েছিলাম।

জাতীয় পার্টি সব সময় চায় অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। কারণ, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রবেশদ্বার। নির্বাচন সঠিক হলেই দেশে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। সুশাসনের পরিবেশের উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষ তার পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পাবার পথচলা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দলের এর বাইরে কিছুই করার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এসএম আব্দুল মান্নান, ফখরুল ইমাম এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, নাজমা আখতার এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মিয়া প্রমুখ।

বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের ত্রাণ বিলাস: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের ত্রাণ বিলাস বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৩ জুলাই) দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফেনীর সোনাগাজিতে বিএনপি নেতারা ত্রাণ বিতরণের নামে নাটক করেছে। তারা ফেনী থেকে ফেরত এসে সংবাদ সম্মেলন করেছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাহস থাকলে নিশ্চয়ই তারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতো। তারা সাহায্য প্রদানের চেয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিক মনোযোগী।

যতদিন পর্যন্ত বিএনপি অপরাজনীতি ছেড়ে জনকল্যাণে মনোনিবেশ না করবে ততদিন পর্যন্ত তাদের সকল অপকৌশল জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু তাদের কাল্পনিক অভিযোগ দিন দিন বাড়বে— এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি নেতারা বানভাসি মানুষের সাথে লোক দেখানো ফটোসেশন করছে। তাদের এক চিমটি সাহায্য মানুষের ভোগান্তির সাথে নির্মম পরিহাস ছাড়া কিছু নয়। সাহায্যের নামে বিএনপির লোক দেখানো ত্রাণ থেকে মানুষ পরিত্রাণ চায়।

তিনি বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনমানুষের পাশে রয়েছে। অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আর যারা রাজনীতিকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার মনে করে, যাদের জন্মই হয়েছিল স্বৈরতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য তারা জনগণের দুর্দশা নিয়েও অপরাজনীতি করে।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা হাস্যকর অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ নাকি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক দল! অথচ দেশের মানুষ ভাল করেই জানে, কোন দল সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, কাদের রাজনৈতিক দর্শনে সন্ত্রাসনির্ভরতা রয়েছে। এদেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাসের জন্মদাতা, লালনকর্তা বিএনপি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের নির্মম-নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা সংঘটিত হয়েছিল। এদেশে আগুন সন্ত্রাস আর জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার ভয়াবহ অপসংস্কৃতিও তারা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা জনবিচ্ছিন্ন, যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, যারা অপরাজনীতির কারণে জনপ্রত্যাখ্যাত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার। এই সন্ত্রাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনকল্যাণের রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে গণভিত্তির মধ্য দিয়ে কিংবা জনগণের সংগঠিত প্রয়াস হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়নি- এক নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের বন্দুকের নলের মুখে জনগণকে জিম্মি করে বিএনপির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপি একটি সন্ত্রাসনির্ভর ও ষড়যন্ত্রমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগন্ত্রে কাছে চিহ্নিত। শুধু দেশেই নয়, কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শুধু সন্ত্রাসনির্ভরতাই নয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিবিরোধী অপশক্তি হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিএনপি। তাদের বোঝা উচিত, কথামালার বৃষ্টিতে এদেশের জনগণের মন ভেজে না। জনগণ মুখোশের অন্তরালে থাকা তাদের প্রকৃত চেহারা চেনে ও জানে।

;

আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন

আ.লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য মুকুল বোস মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

শনিবার (২ জুলাই) চেন্নাই এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সোয়া পাঁচটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুকুল বোস বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে মুকুল বোসের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র এক কন্যা রেখে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও  আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল বোসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সবশেষ কাউন্সিলের পর ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি মুকুল বোসকে দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য করা হয়।

;

বালিয়াকান্দিতে আ.লীগের কমিটি গঠনে হামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
বালিয়াকান্দিতে আ.লীগের কমিটি গঠনে হামলা

বালিয়াকান্দিতে আ.লীগের কমিটি গঠনে হামলা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় রাতেই ১৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষিয়ক সম্পাদক বাশারুল আলম বাপ্পু।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকালে নবাবপুর ইউনিয়নের বড়হিজলি আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এঘটনা ঘটে। আহতদের দুজন বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তারা হলেন বড়হিজলি গ্রামের খালেক মিয়ার ছেলে খোকন ও বেরুলি গ্রামের রহিম মোল্লার ছেলে রইস মোল্লা। আহত অপরজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাতেই হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

থানায় অভিযোগকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বাশারুল আলম বাপ্পু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন কাজ চলছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যের সময় অতর্কিতভাবে নবাবপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য বাদশাহ আলমগীরের উসকানিতে তার অনুসারী ২৫-৩০ জন দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীরা আমাদের অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাংচুরসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাদশাহ আলমগীর ২০১৭ ও ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দল তাকে বহিষ্কার করে৷ তার পরিবারের সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপি কর্মীদের নিয়েই সে হামলা চালিয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমরা পরবর্তী দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদশাহ আলমগীর বলেন, এই ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত না। এই ঘটনার সূত্রপাত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে। আমাকে শুধু শুধু এখানে জড়ানো হচ্ছে। তবে চেয়ার ভাংচুরের ঘটনাটি তিনি স্বীকার করেন।

;

‘গণতন্ত্রের প্রশ্নে সরকার কখনই মাথা নত করবে না’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
'গণতন্ত্রের প্রশ্নে শেখ হাসিনা সরকার কখনই মাথা নত করবে না'

'গণতন্ত্রের প্রশ্নে শেখ হাসিনা সরকার কখনই মাথা নত করবে না'

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দী বলেছেন, শান্তি, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার কখনই অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) কর্তৃক আয়োজিত তরুণ নেতৃত্ব গঠন ফেলোশিপ প্রোগ্রামে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজিত রায় নন্দী বলেন, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু আমাদের মর্যাদার প্রতীক, সক্ষমতার প্রতীক, সাহসিকতার প্রতীক। এর সফল নায়ক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অশুভ শক্তি মেনে নিতে পারছে না। দেশে তারা মাথা চাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারেনি শুধু মাত্র শেখ হাসিনার কারণে। সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা বাংলাদেশে হবে না। বাংলাদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গণতান্ত্রিক দেশ।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বলেন, রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। আমরা কেউ হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করব না। মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই কাজ করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পার্টির প্রধান ডানা ওল্ডস, ক্রিস্টিন ওয়াল, ডিরেক্টর অফিস অফ ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গভর্নেন্স, ইউএসএআইডি, লেসলি রিচার্ডস,ডেপুটি চিফ অফ পার্টি, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদনান এমপি, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।

;