নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগরে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

শনিবার (১৪ মে) রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ ছাড়া নতুন কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

একই সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ ঘোষিত সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ, সেনবাগ উপজেলা, সেনবাগ পৌরসভা ও সেনবাগ কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত জেলায় দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা সশরীরে নোয়াখালী গিয়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন।

এর আগে, গত ১ মে ঘোষিত সেনবাগ উপজেলা কমিটি, পৌর শাখা কমিটি, কলেজ শাখা কমিটি এবং ১১ মে নোয়াখালী সদর উপজেলা কমিটি, নোয়াখালী পৌর শাখা কমিটি, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গত ১ মে ও ১১ মে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করে। এ নিয়ে বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে পদ বঞ্চিত একাংশের নেতাকর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনান নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য যায় নি।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন,অচিরেই ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মেনে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

দলের ভাঙন ঠেকাতে ২০১৮’র নির্বাচনে বুঝে-শুনে ফাঁদে পা দেয় বিএনপি



আকরাম হোসেন, স্টাফ করসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি লোগো

বিএনপি লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না- এমন অভিযোগ করে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। দলটির দাবি ছিল- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। একই দাবি ছিল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। কিন্তু, নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে হঠাৎ সরে আসে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি। পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরী জোট থেকে বের হয়ে গেলেও ডা. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনে যায় দলটি।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কারণে বরাবরই দলের হাইকমান্ডকে দুষছে তৃণমূলের একাংশ। ড. কামালের পাতা ফাঁদ বুঝতে না পারার জন্য হাইকমান্ডকে দোষারোপ করেন। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে হাইকমান্ডের নজর ছিল সুদূরপ্রসারী। ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে ভালোভাবেই জানতেন তারা। দলের ভাঙন ঠেকাতে সে সময় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে নির্বাচনে যাওয়া। বিএনপিকে ভাঙার যে ষড়যন্ত্র তখন হয়েছিল তা বানচাল করতেও সক্ষম হয়।

দলটির একটি সূত্র জানান, নির্বাচনে না গেলে বিএনপির থেকে কিছু নেতা বের হয়ে যেত। আমরা ১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করি। স্বাভাবিকভাবে ১৮ সালের নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে মাঠ-পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশের চাপ ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিই হচ্ছে নির্বাচনমূখী। কয়েকজন নেতা নির্বাচনে যেতে উদগ্রীব ছিলেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়। সেখানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আ স ম আবদুর রবসহ বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। ফলে বিএনপি নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে এরা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করত। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যের একটা অংশ ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। এই সংখ্যাটা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের মত। এর বাইরেও কিছু দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতা ছিলেন। সে সময়ে ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে কোনো রাস্তা ছিল না। দলের ভাঙন ঠেকাতে ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া অপরিহার্য ছিল। এক রকম জেনেশুনে, বুঝে ফাঁদে পা দেয় বিএনপি।

বিএনপির আরেক দায়িত্বশীল সূত্র জানান, নির্বাচনে না গেলে আমাদের কিছু সাবেক সংসদ সদস্য ও তৃণমূল নেতাকর্মী ঐক্যফ্রন্টে চলে যেত। ঐক্যফ্রন্ট শক্তিশালী হত। নির্বাচনের পরিবেশও সহজ করে দিত আওয়ামী লীগ। ঐক্যফ্রন্টকে ৪০-৫০টি আসনও হয়ত দিয়ে দিত। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এটাও বোঝাতে সক্ষম হত আওয়ামী লীগ। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি এখানের থেকে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যেত।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান অবস্থা ২০১৮ সালের মতো না। দেশের সকল মানুষ জেনে গেছে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিএনপি, এমনকি আওয়ামী লীগের লোকজনও জানে শেখ হাসিনা সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটাই বোঝাতে চেয়েছি। আমরা সফলও হয়েছি। এটা বোঝানোর জন্য মাঝে কয়েকটি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। এবার তৃণমূল থেকে নির্বাচনে যাওয়ারও কোনো চাপ নেই। দলের কেউ চায় না আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন করতে। সবাই মনে করে বিএনপির বাইরে কোনো জোট হলে সেটা আওয়ামী লীগের বি-টিম হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বার্তা২৪.কম-কে বলেন, নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এটা তৃণমূলের দাবি, তৃণমূলের মতামতের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

২০১৮ সালে বিএনপির ভরাডুবি হলেও দীর্ঘ মেয়াদি লাভবান হয়েছে দলটি। সুশীল ও নাগরিক সমাজকে বোঝানো গেছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নির্বাচনে গিয়েই এটা বোঝানো গেছে। নির্বাচনে না গেলে এটা বোঝানো যেত না। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নেতাকর্মীও বুঝেছে। তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড-এক সিদ্ধান্তে অটল। অতীতের তুলনায় বেশি সংগঠিত। এক দফায় সবাই অটল। এটাই বিএনপির অর্জন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করার পর আমরা স্থানীয় সরকার পৌরসভার, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে গিয়েছিলাম। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা বিএনপি প্রতীকধারীরা পেয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে গায়েবি-ভুয়া মামলা দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়। ঠিকঠাক মত তাদেরকে কাজ করতে দেয়া হয় নাই। কারাগারে অনেক মারাও যান। নির্বাচন বর্জন, নির্বাচনে যাওয়া, নির্বাচিত হয়েও তো কিছু হচ্ছে না। সবটাই করে দেখেছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, সুশীল সমাজ, দেশ নিয়ে চিন্তা করেন এমন কিছু ভালো মানুষ আমাদেরকে নির্বাচনে যেতে বলেছিল। বলেছিল আপনারা আগের নির্বাচনে যাননি, এবার যান, যেয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু আমারা দেখেছি উল্টোটা হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা দল ছেড়ে যায়নি বলে মনে করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিএনপি নেতা দল ছেড়ে যায়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সকল রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই কথা দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করে তখন নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভয়ংকরভাবে কারচুপি হয়েছে।

;

অভ্যরন্তীণ কোন্দল মিটিয়ে আ.লীগকে সুসংগঠিত করার আহ্বান কাদেরের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাঁর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভেতরের সকল অভ্যরন্তীণ কোন্দল মিটিয়ে যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৬ বছর নির্বাসনে থেকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দেশের মাটিতে পা রেখেই  কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার শপথ নিয়ে শেখ হাসিনা সারা বাংলায় ঘুরে ঘুরে দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করেছিলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে গোটা জাতিকে কলংকমুক্ত করেছেন। তিনি প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অর্জনে বিশ্বের বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলেই সকল ষড়যন্ত্র ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ হয়েছে বলে জানান তিনি।

আগামী মাসেই পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত করা সাপেক্ষে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে জাতিকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

পদ্মাসেতুর নির্মান ব্যয় নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা নদীতে প্রবল খর¯্রােতা থাকায় নদীর এপার-ওপার ভাঙ্গা গড়ার খেলায় অনেক কষ্টে এই ভাঙ্গনের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শতভাগ সততার সাথে এই প্রকল্প কাজ শেষ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সফলভাবে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রমুখ।

;

সরকারিভাবে সিলেটের বন্যার্তদের সহায়তা দিতে হবে



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) এক বিবৃতিতে বন্যার্ত মানুষের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ব্যাপী বন্যায় সিলেটের পানিবন্ধি মানুষ সিমাহীন দূর্ভোগে দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যেই অনেক পরিবারেই খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দিন এনে দিন খায়, এমন মানুষের সংসারে হাহাকার উঠেছে। পাশাপশি সিলেটের বিভিন্ন ইউনিয়নেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

তাই প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে আহবান জানান তিনি।

;

অর্থনীতিতে ‘অশনি সংকেত’ দেখছে বিএনপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচক পর্য়ালোচনায় বর্তমান অর্থনীতিতে ‘অশনি সংকেত’ দেখছে বিএনপি।

বুধবার (১৮ মে) বিকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান যে অর্থনৈতিক অবস্থা যেটাকে আমি মনে করি এটা হচ্ছে এলার্মিং, এটা অশনি সংকেত আমাদের জন্য।

‘অদূর ভবিষ্যতে আমরা যে শ্রীলংকার মতো বিপদে পড়তে পারি তার আশঙ্কাও আমাদের মধ্যে (স্থায়ী কমিটি) করা হয়েছে এবং সেই আশঙ্কা এখন আছে এবং এটাকে বাস্তবভিত্তিকই বলা যেতে পারে।'

গত ১৬ মে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্য়ালোচনা করে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে তা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রুপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠেছে জিনিসপত্রের দাম। মনে হচ্ছে আগামী দিনে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠবে।

‘রিজার্ভ নিয়ে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। এটি দ্রুত কমে আসছে। গত আট মাসে রিজার্ভ ৪৮ বিলয়ন ডলার থেকে ৪২ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। পরের দুই মাসে এটা আরো ৪ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে। এভাবে যদি রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়তে থাকে এবং সেটা যদি রেমিট্যান্স দিয়ে পুরণ করা না যায় তাহলে অতি দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ শেষ হয়ে যাবে। রিজার্ভ শেষ হওয়ায় কি ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে শ্রীলংকার চলমান পরিস্থিতি তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ।'

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে মাত্র পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমদানি ব্যয় আমাদের বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। আমদানি যে হারে বেড়েছে, রপ্তানি যে হারে বাড়েনি। আবার প্রবাসী আয়ও কমে গেছে। ফলে প্রতি মাসে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ‘এলার্মিং’ অবস্থায় উল্লেখ করে অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, আইএমএফের সুপারিশ মোতাবেক সঠিক নিয়মে রিজার্ভ হিসাব করলে বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বাস্তবিকভাবে আইএমএফ প্রনীয় নিয়মে রিজার্ভ হিসাব করা হলে বাংলাদেশের হাতে আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে মাত্র সাড়ে তিন মাসের। যা একেবারেই অশনিসংকতে।

বর্তমান এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে বর্তমান বিভীষিকাময় অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার জন্য জবাবদিহিহীন এই অবৈধ সরকারই দায়ী। দেশকে রক্ষার জন্য, মানুষকে বাঁচানোর জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এই মুহূর্তে সার্বজনীন ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে অনতিবিলম্বে এই সরকারকে হটানোর বিকল্প নাই।

;