জাপার কমিটি চূড়ান্ত করবেন জিএম কাদের-রওশন

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কাউন্সিল ঝঞ্ঝাট মুক্ত করতে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান পদ ঘোষণা দিতে চায় জাতীয় পার্টি। চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদই থাকছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

তবে মহাসচিবসহ অন্যান্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে কাউন্সিলের পর। এর দায়িত্ব দেওয়া হবে পার্টির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানকে। কাউন্সিলের পর তারাই চূড়ান্ত করবেন মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আকার। কাউন্সিলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে জাতীয় পার্টির একটি পক্ষ চাইছেন অতীতের মতো কাউন্সিলেই পার্টির চেয়ারম্যান, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে ঘোষণা আসুক।

মহাসচিব পদে ঘোষণার বিপক্ষে মতামত প্রদানকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, এতে কাউন্সিলে পেশি শক্তির মহড়া হতে পারে। এমন হতে পারে, মহাসচিব পদের প্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের জড়ো করতে পারেন। আর এই জমায়েত থেকেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর প্রথম কাউন্সিলে এই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না সিনিয়র নেতারা। বিশেষ করে জিএম কাদের পন্থীরা চাইছেন না কাউন্সিলে মহাসচিব পদে ঘোষণা দিয়ে ঝুঁকি নিতে। তারা চাইছেন সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে কাউন্সিল শেষ করতে। পরে দেবর-ভাবি বসে চূড়ান্ত করুক সব কিছু।

আরও পড়ুন: রংপুরে জয়ী লাঙ্গল, পরাজিত জিএম কাদের

কাউন্সিলে এখন পর্যন্ত মহাসচিব পদে চারজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- বর্তমান মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। যদিও পৃথক জাতীয় পার্টি গঠনের জন্য কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেন কাজী ফিরোজ রশীদ।

এদিকে, কয়েক দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর ২৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলের তারিখ। অতীতের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিলের আয়োজন করতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের হল রুম বুকিং দেওয়া হয়েছে। যদিও কাউন্সিল নিয়ে খুব একটা তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে। স্বাভাবিকভাবে কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পরপরই প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু মাস খানেক পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়নি।

ইতোমধ্যে ৩৫টি জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেগুলোর নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত তারিখেই কাউন্সিল করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। যেসব জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে যতটা সম্ভব কাউন্সিল করে আপডেট করা হবে। আর যেগুলো করা সম্ভব হবে না, সেগুলোর মেয়াদ বর্ধিত করে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল যথা সময়ে করার প্রচেষ্টা রয়েছে।’

এরশাদ বিহীন প্রথম কাউন্সিলে নেতাকর্মীরা নানান রকম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। এখানে সিদ্ধান্তে কোনো ভুল হলে চরম মাশুল দিতে হতে পারে। বিশেষ করে রওশন ও কাদের পন্থীরা ঐকমত্য না হলে মারাত্মক কিছু ঘটে যেতে পারে। কেউ কেউ শঙ্কা করছেন সমঝোতা না হলে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে পার্টি। এখানে সবচেয়ে জটিলতা তৈরি হবে রওশন পন্থীদের পদায়ন নিয়ে।

রওশন পন্থী বলে পরিচিত ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, ফখরুল ইমাম এমপিসহ অনেকে রয়েছেন যারা পার্টির কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না। বিশেষ করে জিএম কাদেরের কোনো অনুষ্ঠানে তাদের হাজির থাকতে দেখা যায় না। এখন স্বভাবতই তাদের বাদ দেওয়ার দাবি রয়েছে কাদের পন্থীদের। এখানে কী সিদ্ধান্ত নেবেন জিএম কাদের? তাদের বাদ দিতে গেলেও বিপদ, আবার রাখতে গেলেও সক্রিয় নেতাদের পদায়ন করতে পারবেন না। এতে পার্টির কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়তে পারে।

সিনিয়র নেতারা মনে করছেন- জিএম কাদেরকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে তিনি দুটি ফাউল খেলে দুই-এক গোলে পরাজিত হয়েছেন। এর একটি প্রেসিডিয়ামের বৈঠক ছাড়াই হঠাৎ করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেওয়া, আরেকটি হচ্ছে পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক কিংবা রওশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া গোপনে নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা বানানোর চেষ্টা।

এতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি খায় জাতীয় পার্টি। এবার ভুল করলে ঝাঁকুনি নয় বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে জাপা। জিএম কাদের হার্ডলাইনে নাকি সমঝোতার লাইনে থাকবেন, তার ওপর নির্ভর করছে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ। জটিলতা তৈরি হতে পারে এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদের পদ নিয়েও। রওশন চাইবেন তাকে সম্মানজনক পদে পদায়নের জন্য।