শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাত পোহালেই জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র হুমকি মাথায় রেখেই শনিবার (৯ নভেম্বর) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ-চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১টায় তিনি সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হবেন। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ সূচনা করবেন বলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

এরপর বিকেল ৩টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই অধিবেশনেই নতুন পদপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হবে।

এদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ। প্রতিদিনই সংগঠনটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থাকছে নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর। প্রার্থীদের শো ডাউন দেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন, সেটা নিয়েই তৃণমূলে চলছে বিস্তর আলোচনা। তারুণ্য নির্ভর, ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চাচ্ছেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। হাই কমান্ডেরও একই ইচ্ছে।

ফলে শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে কাবু নেতারা। সেই সঙ্গে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নেতাদেরও রাজনীতি থেকে বিদায় দেওয়া হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

শ্রমিক লীগের সম্মেলন প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতা শাজাহান খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের বহু শ্রমিক সংগঠন এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যারা শ্রমিক আন্দোলন করেন, ট্রেড ইউনিয়ন করেন- তারা সম্মেলন নিয়ে বেশ আশাবাদী। ফলে এই সংগঠনের গুরুত্বটা সবাই অনুভব করতে পারছে। ৭ বছর পর এই সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সব ধরণের প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি। স্মরণকালের বৃহৎ ও একটি জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন করার ইচ্ছা আছে।

সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সারা দেশ থেকে ৮ হাজার ১১৭ জন কাউন্সিলর সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সম্মেলন বাঁধাগ্রস্ত হবে না বলেই আশা করছি।

এদিকে সম্মেলনকে সফল করতে মঞ্চ ও সাজসজ্জা চূড়ান্ত। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মঞ্চ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এ সংগঠনটি ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। সে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহামুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম। দীর্ঘ সাত বছরে শুকুর-সিরাজ কমিটি মাত্র ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি গঠন করেতে পেরেছে।

শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন-হাবিবুর রহমান আকন্দ, ইসরাফিল আলম, আমিনুল হক ফারুক, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মন্টু ও সিরাজুল ইসলাম।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন- সফর আলী, শামসুল আলম মিলকী, সুলতান আহমেদ, শাহাবুদ্দিন মিয়া, কাউসার আহমেদ পলাশ, আজম খসরু ও আবদুল হালিম।

আপনার মতামত লিখুন :