‘ভোট ছাড়া সংসদ হলে পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হবে না কেন?’

  সাদেক হোসেন খোকা আর নেই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভোট ছাড়া যদি সংসদ হয়, তাহলে পেঁয়াজ ছাড়া তরকারি হবে না কেন?’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, পেঁয়াজ খাবেন না। আমি আমার বাবুর্চিকে বলে দিয়েছি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করেন। এখন অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করলে বলা হবে দেশে থাকেন কেন? যদি বলা হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নাই, তাহলে বলা হবে সংবাদপত্রে চাকরি করেন কেন?’

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত সাদেক হোসেন খোকার স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘পেঁয়াজের অপ্রতুলতা থেকে পেঁয়াজের অভাবের প্রচারটা সিন্ডিকেটকে আরো সুযোগ করে দিয়েছে মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কারসাজিই পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ। কারণ কোনো জিনিসের টান পড়লে তার দাম এমনিতেই বেড়ে যায়।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা না থাকলে আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। এ কথাটা আমরা আগে বুঝিনি।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নিজেকে জাহির করার মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে মনোনিবেশ করতে হবে। কিছু কিছু নেতা পত্রিকায় নাম ছবি না এলে ক্ষুব্ধ হন। পত্রিকায় নাম না এলে কি আন্দোলন হয় না? এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় এত প্রচার মাধ্যম ছিল না। তাহলে সেই সময় কি আন্দোলন হয় নাই? বর্তমানে বিএনপির আন্দোলন দুই ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে- একটি প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক আন্দোলন, সংবাদ সম্মেলন এবং আরেকটি বিএনপি কার্যালয় কেন্দ্রিক আন্দোলন। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি হয়ে উঠেছে আত্মরক্ষামূলক রাজনীতি। এ মানসিকতা বাদ দিয়ে আক্রমণাত্মক রাজনীতি করলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি সাতটি দফা দিয়েছিল। এক দফা দাবি খালেদার মুক্তি যদি চাইতাম, তাহলে খালেদার মুক্তি না হয়ে যেত না। নির্বাচনের ফলাফল যে এমন হবে, তা তো আমরা আগে থেকেই জানতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো আমাদের দাওয়াত দেননি। ড. কামাল হোসেন দাওয়াত চেয়েছেন। চেয়ে দাওয়াত নিলে সেখানে অতিথি আপ্যায়নও তেমনই হয়।’

সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে তিনি বলেন, ‘উনি একজন আপোষহীন নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও অনেকেই তার কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার অনেক রাস্তার নামকরণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে ঢাকার কোনো রাস্তার নামকরণ হয়নি- তিনি হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ওনার নামে বিমানবন্দর রয়েছে দেখে হয়তো উনি এ চিন্তা মাথায় আনেননি।’

স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

  সাদেক হোসেন খোকা আর নেই