‘বর্তমান সংবিধানে প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জিএম কাদের, ছবি: বার্তা২৪.কম

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জিএম কাদের, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়। এ সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা আমরা করতে পারছি না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য জিএম কাদের।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৯০ সালের এ দিনে আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরের বছর থেকে দিবসটিকে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে জাতীয় পার্টি।

জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা সংসদীয় পদ্ধতির মূল স্পিরিট বা আসল চেতনা গ্রহণ করতে পারিনি। ৭০ ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি বা বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। দলের সঙ্গেই তাদের থাকতে হবে, দলের বাইরে তারা যেতে পারেন না। সংসদকে সব কার্যক্রমের কেন্দ্র বিন্দু করা আমাদের সংবিধান অ্যালাও করে না এবং সংসদের কাছে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতাও আমাদের সংবিধান অ্যালাও করে না। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের কাজের বিরোধীতা করতে পারেন না।’

‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সরকার প্রধান সব কার্যক্রমের কেন্দ্র বিন্দু থাকেন। এ কারণে, আমাদের দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা অর্জিত হচ্ছে না। আর এ কারণেই আগে পিছে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাদের সবাইকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। কিন্তু সবাই মিলে দোষ দিয়েছেন শুধু একজনকে, তিনি হচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ অপবাদ দিয়েই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির ওপর চরম অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ‘যদি সংবিধানের ৭০ ধারা উঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন, তাহলে সরকারের স্থায়ীত্ব কম হবে। এতে প্রতি মাসেও সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কোনো বিল পাস করতেও সমস্যা হবে সরকারের। এমন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে আমরা পূর্ণ গণতন্ত্র চর্চার জন্য উপযুক্ত হতে পেরেছি কিনা তাও বিবেচনা করতে হবে। আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে যে কোনো রাজনৈতিক দলও প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারে না। জাতীয় পার্টি সংবিধান সংরক্ষণ করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে আমরা আজীবন কাজ করে যাব। জাতীয় পার্টির বড় অর্জন, অন্য কোনো কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে না চেয়ে এরশাদ সংবিধানকে সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্থান্তর করেছেন। অন্যায়-অবিচারের মধ্যেও জাতীয় পার্টি সংবিধান সমুন্নত রাখতে রাজনীতি করে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি কাজ করছে গণতন্ত্র বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র বিকশিত করতে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় দেশে তুলনামূলক বেশি সুশাসন বজায় ছিল। জনগণের কল্যাণের ক্ষেত্রে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের তুলনা হয় না। কিন্তু এখনো জাতীয় পার্টির শাসনামলের কুৎসা রটনো হচ্ছে, যেটা সম্পূর্ণ অন্যায়। জাতীয় পার্টিতে নব-জাগরণ শুরু হয়েছে। দেশ ও জাতির প্রত্যাশিত দেশ উপহার দেবে জাতীয় পার্টি।’

পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘দেশে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়, আবরার হত্যা হয়। সারের জন্য কৃষককে খুন হতে হয়, এটাকে আমরা গণতন্ত্র বলতে পারি না। এরশাদকে যারা স্বৈরাচার বলেন, তাদের লজ্জা করা উচিত। কারণ, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাদের সবাইকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে যেতে হয়েছে। দেশের ৮৯ ভাগ উন্নয়ন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে হয়েছে। জেলখানায় থেকে পাঁচটি করে আসনে নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।’

উপলক্ষে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদাসহ অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর