সম্মেলন ঘিরে খুলনা আ.লীগে প্রাণচাঞ্চল্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
সম্মেলন ঘিরে খুলনা নগরে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ

সম্মেলন ঘিরে খুলনা নগরে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নগরীতে সাজ সাজ রব পড়েছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে নগরের প্রায় প্রতিটি সড়ক ও সম্মেলনস্থল সার্কিট হাউজ ময়দানের আশপাশের এলাকায় শতাধিক দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও নানা রং-বেরংয়ের পতাকা, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে উৎসবের আমেজে নবরূপে সাজানো হয়েছে শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। ইতিমধ্যে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে সম্মেলনের মঞ্চ তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এখানেই মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সার্কিট হাউজ মাঠের পূর্ব থেকে পশ্চিম দিক পর্যন্ত ৪২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক পর্যন্ত ৩৪০ প্রস্থ আকারে মঞ্চের প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। এছাড়াও ময়দানের পূর্বপাশে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থ আকারে ডিজিটাল মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে খুলনা এখন উৎসবের নগরী।

সম্মেলন মঞ্চ

দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১২ জন কাউন্সিলর ও ২০০ জন ডেলিগেটকে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে, বর্তমানে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে যারা দায়িত্বে আছেন পুনরায় তারাই দায়িত্বে আসতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও নানা সমীকরণে ঘুরপাক খাচ্ছে জেলা ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পদ। জেলা ও নগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরেই চলছে যতো আলোচনা-সমালোচনা। দুই কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একাধিক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আগেই। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাদের সক্রিয় যোগাযোগের কথাও শোনা যাচ্ছে।

সম্মেলনস্থল

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের একক নাম শোনা যাচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদর থানা আ’লীগের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ কামাল ও দৌলতপুর থানা আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী প্রমুখ।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হারুনুর রশীদের পাশাপাশি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এম এম মুজিবুর রহমান, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (এমপি), নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক, সাবেক সাংসদ মোল্লা জালাল উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সভাপতি পদে শেখ হারুনুর রশীদের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সবাই।

নগরজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ

এ কারণে সভাপতি পদের প্রার্থী সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (এমপি), নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক আবার সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী। এছাড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু (এমপি), বটিয়াঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খান, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন এবং সাংগঠনিকভাবে যোগ্য কমিটি উপহার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন থাকবে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেওয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, বিভিন্ন দল থেকে আসা বিতর্কিতদের বিষয়ে এবার সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসবেন এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা সুন্দরভাবে একটি সম্মেলনে আয়োজন করছি। সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতারাই মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন। সবশেষে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করবে কেন্দ্র। এজন্য আমাদের ১০ ডিসেম্বরের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সম্মেলনে জানা যাবে কে হবে পরবর্তী নেতা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশিদকে সভাপতি ও এসএম মোস্তফা রশিদী সুজাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর ৯ মাস পর গঠিত হয় জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এরপর গত বছর ১৮ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা ইন্তেকাল করেন।

২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :