রওশনের অনুপস্থিতি জাপার কাউন্সিলে নানান প্রশ্ন

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
রওশন এরশাদ/ছবি: সংগৃহীত

রওশন এরশাদ/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে রওশন এরশাদের অনুপস্থিতি নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন শারীরিক অসুস্থতার কথা, আবার কেউ কেউ বলতে চাইছেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদে অতুষ্টির কথা।

যাই হোক, কাউন্সিলে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এমনকি ঘোষকরাও কেউ এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। কেন কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে রওশন নেই? অসুস্থতাজনিত কারণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তার অবস্থান পরিষ্কার করে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া একটি অলিখিত রেওয়াজ। কেনো সেটিও করা হলো না। এ কারণেই কানাঘুষা বেড়েছে। এমনকি ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদের অনুপস্থিতিতে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কেউ বলছেন, এই প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদে সন্তুষ্ট না রওশন। যে কারণে কাউন্সিলেই আসেননি। আবার রওশনপন্থী বলে পরিচিতদের সদলবলে উপস্থিতি হিসেব মেলাতে পারছেন না কেউই।

অবশ্য রওশনপন্থী সিনিয়র নেতাদের ঠান্ডা করতে নতুন করে আরও কো-চেয়ারম্যান পদ সৃজন করা হয়েছে। যেসব পদে ওইসব নেতারাই মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত বলা চলে। তাহলে কি রওশনকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করে সিনিয়ররা পদ বাগিয়ে নিলেন। তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে সমঝোতার কি হবে। তাহলে কি শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে!

তবে যাই হোক রওশন এখন আরও একা হয়ে গেলেন। তৃণমূলে তার সমর্থন দশমিকের নিচে আগে থেকেই বিরাজমান। গুটিকয়েক সিনিয়র নেতা ছিল তার সভাসদ। তারাও যদি পদ নিয়ে সটকে পড়েন তাহলে কি থাকলো। নাকি সিনিয়ররা পদ নিয়েও আগের লাইনে থেকে যাবেন। যেমনটি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ঘটেছিল, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন ডাক দিলে স্ববান্ধব হাজির হতেন ব্যারিস্টার আনিসসহ সংসদ সদস্যরা। পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ডাক দিলেও তারা সাড়া দিতেন না। এ নিয়ে প্রয়াত এরশাদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। রওশনের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের বেইমান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

এক সভায় প্রকাশ্য বলেছিলেন, এখন আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছো না। এমন সময় আসবে এরশাদের কাছেই আসতে হবে। সেদিন তিনি পরবর্তীতে মনোনয়নের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন। তারপরও লক্ষণীয় কোনো পরিবর্তন তখন দেখা যায়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এরশাদ ছিলেন অসুস্থ। তখন সেই আগের নেতারাই মনোনয়ন পান মহাজোট থেকে।

এবার রওশন আরও বেশি ক্ষমতাবান। নির্বাহী দায়িত্ব না থাকলেও, সংসদে বিরোধীদল নেতার পাশাপাশি পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়েছেন আমৃত্যু। চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পরিণতি কি এরশাদের মতো হতে যাচ্ছে। তিনি দল চালাবেন আর সংসদীয় দলসহ ক্ষমতার মসনদে থাকবে রওশন ও তার অনুসারীরা। তেমনটি হলে মণ্ডা মিঠাইয়ের লোভে সেই পাল্লাই ভারী হবে। আর যদি সরকারের জুজু ভর করে তাহলে তো কথাই নেই। অনেক নেতাই মনে করেন, আরও দুটি নির্বাচন আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধানেই হবে। আর সরকারের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে রওশনকেই বেছে নেবেন। সে কারণে মন্ত্রী-এমপি হতে চাইলে রওশনের আনুকূল্য জরুরি।

রওশনের অনুপস্থিত প্রসঙ্গে রওশনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, আমি যতটুকু জানি তাকে সেভাবে বলাই হয়নি কাউন্সিলে যাওয়ার জন্য।

প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা প্রসঙ্গে রওশনের প্রতিক্রিয়া কি জানতে চাইলে ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমি এখনও জানি না। তবে যারা রওশনকে চেয়ারম্যান করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কারা মামলা করেছিলো, আর এতগুলো কো-চেয়ারম্যান পদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা। কেনো করা হলো, এটা কি দলের জন্য জরুরি ছিল। নাকি নেতাদের জন্য পদ ক্রিয়েট করা হয়েছে। কেউ নিজের পদ নিশ্চিত করে সটকে পড়েছেন কিনা একটু খোঁজ নেন সব পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন :