'সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে দেশে গণতন্ত্র নেই'

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ছবি: বার্তা২৪.কম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে যে গণতন্ত্র নেই- সদ্য শেষ হওয়া ঢাকার সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি আবারও প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

মোশাররফ বলেন, আমাদের সফলতা হচ্ছে, আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো দেশে গণতন্ত্র নেই। ঢাকার সিটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতো। এই সরকারের গণতন্ত্র হত্যা, ডাকাতি, চুরি, রাহাজানি, লুট, ক্যাসিনোর কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ ছিল। জনগণ এর জবাব দিতে চেয়েছিল। এটা বুঝতে পেরে সরকার জনগণকে ভোট দিতে বিরত রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করে। জনগণও তাদের প্রত্যাখ্যান করে ভোট দিতে আসেনি।

তিনি বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঢাকা শহরে বিশেষ করে দক্ষিণে ও উত্তরে জনগণের মধ্যে ধানের শীষ ও কাউন্সিলরদের পক্ষে যে জনসমর্থন সৃষ্টি হয়েছিল সেটা মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষ দেখেছে।

বিএনপির এ স্থানী কমিটির সদস্য বলেন, সরকার এই নির্বাচনকে ইভিএমের মাধ্যমে করেছে কারণ- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সম্মুখীন হতে সাহস পায়নি। ২৯ তারিখে ভোট ডাকাতি করেছে। তারা মনে করেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগের রাতে ভোট ডাকাতির যে কৌশল সেটা আমরা জেনে ফেলেছি। সেজন্য সে কৌশলে না গিয়ে ইভিএম কৌশল গ্রহণ করেছে।

ড. মোশাররফ বলেন, এখানে আমাদের কাউন্সিলররা সবাই বলেছেন, নির্বাচনে ৭ ভাগের বেশি ভোটার উপস্থিত হয়নি। তারপরও দক্ষিণে ২৯ আর উত্তরে ২৫ ভাগ ভোট দেখানো হয়েছে ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে। ইভিএম যে গ্রহণযোগ্য নয় সেটা প্রমাণিত হয়েছে। স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আঙ্গুলের ছাপ মেশিন গ্রহণ করেনি।

‘তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের ছাপে ভোট দিয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয়েছে এই মেশিন কত ত্রুটিপূর্ণ। এইভাবে প্রিসাইডিং ও এসিস্টেন্ট প্রিসাইডিং আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে কতজন ভোট দিয়েছে। সেটা গণনা থেকে বোঝা যায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। আমরা দেখেছি একটি মিথ্যা ফরমায়েশি মামলায় তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এর একমাত্র কারণ যে যারা আজকে সরকারে আছে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে নয়, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে। সেই গণতন্ত্র যাতে পুনরুদ্ধার না হয় সেজন্য আমাদের নেত্রী কারাগারে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, দক্ষিণ সিটির বিএনপি মনোনীত পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর