বৃহস্পতিবার জাপার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির লোগো, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির লোগো, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। প্রত্যেকের নামে পৃথক চিঠি তৈরি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিগুলো হস্তান্তর করবেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠি রেডি হয়েছে, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

পার্টি সূত্র জানিয়েছে, এবারের কমিটির আকার ২৯৯ সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। কাউন্সিলের পর কয়েক দফায় বিভিন্ন পদে মোট ২৯১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ ৩টি, কোষাধ্যক্ষ ১ জন এবং সদস্যপদ ৪টি শূন্য রয়েছে।

ঘোষিত এসব নেতাদের কাউকেই কোনো পত্র দেওয়া হয়নি। শুধু মিডিয়ায় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে কমিটি গঠনের দায়িত্ব তুলে দেন কাউন্সিলররা।

দফায় দফায় কমিটি ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় নেতাদের ক্রমবিন্যাস করা হবে। সে কারণে সিনিয়র জুনিয়র চূড়ান্ত করা ছাড়া আর তেমন কোনো চমক থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদিও পার্টির চেয়ারম্যান এক সভায় বলেছিলেন, এই তালিকা চূড়ান্ত নয়, পার্টির প্রয়োজনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

কয়েক দফায় প্রকাশিত এই কমিটি নিয়ে ইতোমধ্যে পার্টির বিভিন্ন স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু নেতা জাতীয় পার্টির সঙ্গে পাট চুকিয়ে গুডবাই জানিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয়েছে ঝাড়ু মিছিল, আর রাজশাহী মহানগরে ঘটেছে গণপদত্যাগের ঘটনা।

পাশাপাশি সিলেট জেলার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নিয়ে ঘটেছে আরেকটি ক্ষোভ। এই জেলার নেতারা আরেক কদম এগিয়ে তৃণমূল জাতীয় পার্টির নামে বিদ্রোহী কমিটি ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কোনো সিদ্ধান্তে কেউ ক্ষুব্ধ হলে নীরবে পার্টি ছেড়েছেন। এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ দেখানোর ঘটনার নজির বিরল বলা চলে।

জাতীয় পার্টির নতুন ক্রমবিন্যাসে সিনিয়রিটির ব্যত্যয় ঘটলে আরেকটি ক্ষোভের শঙ্কা দেখছেন কেউ কেউ। চেয়ারম্যান আশপাশে ঘুরঘুর করা কয়েকজন উঠতি নেতার আস্ফালন ভালোভাবে দেখছেন না অনেকেই। যাদের পার্টিতে অবদান নেই অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে টেনে ওপরে তোলা হয়েছে। আবার বাদ পড়েছে বেশকিছু ত্যাগী নেতা।

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র পুরোপুরি ভিন্ন ধারার গঠনতন্ত্র। সর্বশেষ সংশোধনীতে বেশকিছু পদ সংযোজন করা হয়েছে। মূল কাঠামোতে যেসব পদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব পদের মধ্যে রয়েছে প্রধান পৃষ্ঠপোষক (১ জন), যা রওশন এরশাদের জন্য সৃজন করা হয়েছে। কো-চেয়ারম্যান (৭ জন) ও অতিরিক্ত মহাসচিব (৮ জন) মূল কাঠামোর বাইরে। কমিটির বিন্যাসে রাখা হয়েছে চেয়ারম্যান ১ জন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ৪১ জন, মহাসচিব ১জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৪১জন, যুগ্ম মহাসচিব ১৬জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩১ জন, বিভাগীয় সম্পাদক ২৩জন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ৩১ জন, যুগ্ম বিভাগীয় সম্পাদক ২৩ জন ও নির্বাহী সদস্য ৯১ জন।

বিভাগীয় সম্পাদক মণ্ডলীর পদের ক্রম হচ্ছে। কোষাধ্যক্ষ, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, আইন বিষয়ক সম্পাদক, যুব বিষয়ক সম্পাদক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, এনজিও বিষয়ক সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য ও কৃষ্টি বিষয়ক সম্পাদক, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক, প্রাদেশিক বিষয়ক সম্পাদক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক।

এবারের সংশোধনীতে পার্টির চেয়ারম্যানকে আরও ক্ষমতাবান করা হয়েছে। এই সংশোধনী সম্পর্কে একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মন্তব্য এমন, ‘চেয়ারম্যান শুধু ছেলেকে মেয়ে আর মেয়েকে ছেলে বানানো ছাড়া আর সবই করতে পারবেন।’

আপনার মতামত লিখুন :