জিএম কাদের বলছেন কী আর করছেন কী!

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির চেয়ারমান জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারমান জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা সংকটের সময়ে কাউকে যাতে চাকরিচ্যুত না করা হয়, বিবৃতির মাধ্যমে এমন দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারমান জিএম কাদের। অথচ এর কয়েকদিনের মাথায় নিজেই পাঁচজন স্টাফকে বিদায় করে দিয়েছেন।

এর মধ্যে কারো চাকরির বয়স প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে প্রয়াত এরশাদের সানিধ্যে ছিলেন। এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করে তাদের চাকরি থেকে না করে দেওয়া হয়। বিশ্বস্ত এসব স্টাফকে বিনা নোটিশে বিদায় করে দেওয়ায় অনেকে নিন্দা জানিয়েছেন।

জিএম কাদের বারবার জনগণের পাশে দাঁড়াতে বলছেন, অথচ করোনা মহামারির সময়ে নিজের স্টাফদের বিদায় করে দেওয়ায় বিবৃতি ও বাস্তবতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র নেতা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জিএম কাদের বড়ই অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি। তাকে পার্টির শীর্ষ পদে বহাল করতে যারা প্রাণপণ খেটেছেন, তাদের তিনি এভাবে প্রতিদান দিলেন! এতো দ্রুত সবকিছু ভুলে গেলেন, অবাক করার বিষয়। দেশের সংকটময় সময় চলছে। তার ওপর কয়েকদিন পরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ সময়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা মোটেই ন্যায্য কাজ হয়নি।
ছাঁটাই হওয়া এসব স্টাফের মধ্যে রয়েছেন এরশাদের জেলখানার বিশ্বস্ত সহযোগী সে সময়ের কারারক্ষী বাদশা মিয়া। যিনি কারাবন্দী এরশাদকে নানাভাবে সহায়তার দায়ে দীর্ঘ হাজতবাস করেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাকে। প্রয়াত এরশাদ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরদিন বাদশা মিয়াকে গানম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন থেকে এরশাদের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। এরশাদের শেষ দিনগুলোতে যে অল্প সংখ্যক স্টাফ সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাদশা মিয়া।

আরেকজন ছিলেন আব্দুর ছাত্তার। ২০০১ সালে ভিডিও গ্রাফার হিসেবে নিয়োগ পেলেও অল্পদিনে এরশাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্কেও নানা রকম ডিউটি করতেন। তার বিশেষ কাজ ছিল এরিক এরশাদের দেখভাল করা। এরিককে স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে নানা রকম ফুট ফরমায়েশ খেটেছেন।

সবচেয়ে পুরনো স্টাফ ছিলেন জহির মিয়া। এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় থেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের স্টাফ হিসেবে ছিলেন। বছর খানেক হলো বনানীর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শিফট করা হয় তাকে। ছাঁটাইয়ের তালিকায় আরও রয়েছেন কম্পিউটার অপরেটর নাসির ও বনানী অফিসের নিরাপত্তা কর্মী আইয়ুব আলী।

চাকরিচ্যুত একাধিক স্টাফ জানিয়েছেন, চাকরিচ্যুতির পর তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। সাক্ষাতের জন্য তার উত্তরার বাসায় গেলেও তার সাক্ষাৎ পাননি। ব্যক্তিগত স্টাফ অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, এখন দেখা করা সম্ভব না।
চাকরিচ্যুত এসব কর্মীর অভিযোগ, আমরা এখন কোথায় যাব। সামনে ঈদ। পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে ঈদ করব। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, অন্তত কোরবানি ঈদ পর্যন্ত আমাদের বহাল রাখা হোক। এর মধ্যে আমরা বিকল্প কিছু খুঁজে নেব। কিন্তু আমাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতো ব্যয় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন বহাল রাখা সম্ভব না। পরে যদি সুযোগ হয়, ভেবে দেখবেন।

জিএম কাদেরের প্রেস ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার সময় থেকে খুলনায় অবস্থান করছি। কেন কাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

আপনার মতামত লিখুন :