জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা শুনলেন খালেদা জিয়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, গুলশানে ‘ফিরোজা‘য় দলের চেয়ারপারসন অসুস্থ খালেদা জিয়া ও লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইন্টারনেটে এই ভার্চুয়াল আলোচনাসভা শুনেন। দীর্ঘদিন কারাবাসের কারণে দলীয় এ ধরনের কার্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন খালেদা জিয়া।

শনিবার (৩০ মে) বিকালে ভার্চুয়াল এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একেকটা মহামারির পরে পরিবর্তন আসে। যুগের পরিবর্তন হয়। সভ্যতার পরিবর্তন হয়ে যায়। আসুন আজকে আমরা সবাই মিলে এই পরিবর্তনকে সামনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তি হোক এবং মানুষের মুক্তি হোক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক এবং পরিপূর্ণভাবে বাংলাদেশ মুক্তি পাক-এই হলো আজকে আমাদের অঙ্গীকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভার্চুয়াল আলোচনা নতুন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান যা একেবারেই আমাদের জন্য নতুন বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের কাছে এটা একেবারেই নতুন। অনেকে আমাকে বলেছেন, সামনে শ্রোতা থাকবে, দর্শক থাকবে না- আমরা কার সামনে বক্তব্য রাখবো। আপনি আজকে চার লক্ষের উপরে মানুষের সামনে বক্তব্য রেখেছেন। সুতরাং পরিবর্তনটাকে ধরতে হবে।

জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেবের সবচেয়ে বড় অবদান তিনি এই জাতিকে একটি স্বাতন্ত্র দিয়েছিলেন, একটি পরিচয় দিয়েছিলে। সেজন্য যখন তিনি শাহাদাত বরণ করলেন, তার জানাজায় লাখ লাখ ক্রন্দনরত মানুষের সামনে ইমাম সাহেব আল্লাহর দরবারে হাত তুলে এই প্রার্থনা করলেন যে, আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত করুন। তখন সেই লাখ লাখ মানুষ ডুকরে কেঁদে উঠেছিলো। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ ও জিয়াউর রহমান একাকার হয়ে গিয়েছিলো। সেই কারণে জিয়া, জিয়ার দর্শন, জিয়ার ধানের শীষ বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজো এতো প্রিয়।

স্বাধীনতার এই পতাকা হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। আর সেই সঙ্গে আজ সেই পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন জনাব তারেক রহমান। লক্ষ কোটি স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে জিয়া কখনো মরে না। আজকে গণতন্ত্রবিহীন, মানবতাহীন নির্মম এই রাষ্ট্রে জিয়া অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সংগ্রাম গণতন্ত্রের জন্য, সংগ্রাম স্বাধীনতার জন্য, সংগ্রাম মুক্তির জন্য-আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন :