সিডনিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টনে রাবীদ হাসান চ্যাম্পিয়ন



স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম
চ্যাম্পিয়ন রাবীদ হাসান (ডানে)

চ্যাম্পিয়ন রাবীদ হাসান (ডানে)

  • Font increase
  • Font Decrease

শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও জেতার জেদ নিয়ে যদি খেলা যায়-তবে সেই কঠিন লড়াই জিতেও ঠিকই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব। সেই সত্যির আরেকটি উদাহরণ তৈরি করেছে সিডনির ম্যাকুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ছাত্র রাবীদ হাসান খান প্রাপ্য। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অধ্যায়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রাবীদ হাসান। প্রতিযোগিতায় ছিল দুটি ইভেন্ট; পুরুষ দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। দুই বিভাগেই রাবীদ হাসান চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ইভেন্ট দুটিতে তার সঙ্গী ছিলেন সাদমান রউফ ও রুথবা মামুন। এই দুই ইভেন্টের ফাইনালে ম্যাকুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুটি প্রথম সেটে হেরে যায়। কিন্তু দারুণভাবে তারা শেষ দুটি সেটে ম্যাচে ফিরে জিতে নেয় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। উভয় বিভাগে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখানো রাবীদ হাসান টুর্নামেন্টের সেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের ট্রফি পান। সেরা নারী প্রতিযোগীর শিরোপা জিতেছেন আনিসা হক।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অধ্যায়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি বছরের এই ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে ম্যাকুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্র রাবীদ হাসান খান খুব পরিচিতি মুখ। গেল বছর এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে অল্পের জন্য শিরোপা জিততে পারেননি। সে দফায় উভয় ইভেন্টে রাবীদ রানার্স আপ হয়েছিলেন। কিন্তু সেবারের ব্যর্থতাই তাকে সাফল্যের জন্য আরও জেদি করে তুলে। এবারের আসরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। জোরদার অনুশীলন চালিয়ে যান। তারই পুরস্কার হিসেবে জিতলেন এবারের দুই বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি সেই সঙ্গে হলেন সেরা খেলোয়াড়।

সিডনি থেকে নিজের এই সাফল্যের প্রসঙ্গে বার্তা২৪কে রাবীদ আনন্দ কণ্ঠে জানাচ্ছিলেন- ‘শিরোপা জেতার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছিলাম আমি। আমাদের সবার সেই পরিশ্রম সফল হয়েছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

টুর্নামেন্টের ফাইনাল প্রসঙ্গে রাবীদ বলেন-‘উভয় বিভাগের প্রথম সেটে আমরা হেরে যাই। কিন্তু পিছিয়ে পড়লেও থেমে পড়িনি। প্রতিজ্ঞা নিই, ঘুরে দাঁড়ানোর। প্রথম সেট হেরে ম্যাচে ফেরাটা যদিও ভীষণ কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা প্রতিজ্ঞা করি কঠিন সেই পথ পাড়ি দিতেই হবে। আমরা তাতে সফল হয়েছি। আসলে অনুশীলনে আমরা যে পরিশ্রম ও কষ্ট করেছিলাম, এই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তারই ফল। আমাদের পুরো দলের সবাই যাতে পড়াশোনার পর অনুশীলনে অংশ নিতে পারে সেজন্য আমরা অনেক রাতে প্রাকটিস সেশন রেখেছিলাম। তিন সপ্তাহের মতো কঠিন অনুশীলন করেছে সবাই। এই সাফল্যের জন্য দলের সবার সমান অবদান আছে।’

আনন্দের উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে গেল রাবীদ হাসানের গলায়!

রাবীদ জানান, তারা সবাই জার্সিতে কালো ব্যাজ পরে ফাইনাল ম্যাচে অংশ নেন। বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি এবং সমর্থন প্রকাশ করতেই তারা জার্সিতে কালো ব্যাচ পরে খেলেন।

ঢাকায় রাবীদের বাবা-মা দারুণ খুশি। রাবীদের বাবা-মাও দুজনেই সাবেক খেলোয়াড়। বাবা রানা হাসান সাবেক হকি খেলোয়াড় এবং বর্তমানে যমুনা টেলিভিশনের ক্রীড়া সম্পাদক। মা নীলা হাসানও জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়, বর্তমানে তিনি বার্তা সংস্থা বাসস এর ক্রীড়া বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক।