বাংলাদেশের সামনে আজ কাতার চ্যালেঞ্জ



স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম
জামাল ভূঁইয়াদের প্রতিপক্ষ আজ কাতার

জামাল ভূঁইয়াদের প্রতিপক্ষ আজ কাতার

  • Font increase
  • Font Decrease

দু’দলের মধ্যে শক্তি ও পরিসংখ্যানগত পার্থক্য বিপুল। 

পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে কাতার গ্রুপের শীর্ষে। আর চার ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ তালিকার তলানিতে। শেষ মোকাবেলায় কাতারের কাছে বাংলাদেশ ঢাকায় হেরেছিল ২-০ গোলে। আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ফিরতি মোকাবেলার ম্যাচটি আবার দোহায়। নিজ মাঠে শুক্রবার রাতের এই ম্যাচে কাতার হট ফেভারিট। ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এশিয়ান বাছাইয়ের এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ যদি পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারে, তবে সেটা কোন অংশে জয়ের চেয়ে কম হবে না!

বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় দোহায় আব্দুল্লাহ বিন খলিফা স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই ম্যাচ। 

প্রতিপক্ষ কাতারের শক্তিমত্তা মেনে নিয়েই বাংলাদেশ কোচ দলকে জানিয়েছেন, ’ম্যাচে হারজিতের চিন্তা বাদ দিয়ে সবার আগে ম্যাচটা উপভোগ করতে হবে।’ সম্ভাব্য ফল নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন আগে থেকেই নেতিবাচক চিন্তা ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যই উপভোগের এই মন্ত্র জপছেন কোচ জেমি ডে। তবে কোচের ম্যাচপূর্ব এই চিন্তা প্রসঙ্গে দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াদের অবশ্য অন্য সুর- ‘অন্য কোন চিন্তা নয়, আমরা ম্যাচটা জেতার জন্যই নামবো। একবিন্দু ছাড় দেবো না আমরা ম্যাচে। পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে চাই।’

বিশ্বকাপ বাছাইসহ সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে বাংলাদেশ এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত কাতারের বিরুদ্ধে খেলেছে চারটি ম্যাচ। তিনটি তে জয় এবং একটি ড্র নিয়ে কাতার এই লড়াইয়ে অনেকদুর এগিয়ে। কাতারের বিরুদ্ধে শেষবারের মতো হাসিমুখে ড্র নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ ১৯৮৯ সালে। 

সেই হাসি কি আজ রাতে আবার হাসতে পারবে বাংলাদেশ?

করোনাভাইরাস সমস্যা কাটিয়ে উঠে কোচ জেমি ডে কাতারে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। দলে তার উপস্থিতি পুরো দলকে দিচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। বাছাই পর্বে কাতারের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশ দলকে আরেকটু সাহস যোগাচ্ছে। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সেটাই জানালেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া- ‘কিছুদিন আগে কাতারের মাঠ থেকে ভারত ড্র নিয়ে ফিরেছে। তাহলে আমরা কেন পারবো না। মানছি কাতারের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া কঠিন। কিন্তু কাজটা তো অসম্ভব নয়। ভারতের ম্যাচটাই তার বড় প্রমাণ। আমরাও প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামছি। অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে হলেও এই ম্যাচ থেকে ফিরতে চাই আমরা।’

কোচ জেমি ডে ম্যাচের আগে তার পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে হিসেবের বাইরে যাওয়ার সাহস দেখালেন না-‘কাতার শক্তিশালী। কঠিন প্রতিপক্ষ। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের ম্যাচ হবে এটি। আমি তাই ফুটবলারদের বলেছি হারজিতের চিন্তা নিয়ে চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঠে যাও, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলো এবং ম্যাচটা উপভোগ করো। আমাদের হারানো কিছু নেই।’

ম্যাচে কাতার হট ফেভারিট হলেও সমস্যা কিন্তু তাদের কম নয়। কার্ড এবং ইনজুরি সমস্যার কারণে দলের সেরা কয়েকজন ফুটবলারকে ছাড়াই এই ম্যাচে খেলতে হচ্ছে কাতারকে। আর সর্বশেষ নিজ মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে কাতারের। এই ম্যাচে সাম্প্রতিক সময়ের সব দুঃখ ঝেড়ে ফেলতে চায় ২০২২ সালের আয়োজক দেশটি। 

সন্দেহ নেই ম্যাচ শুরুর বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে কাতার ঝাঁপাবে বাংলাদেশের সীমান্তে। আর তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যূহ তুলে বাংলাদেশ কোচ চাইবেন রক্ষণভাগ অটুট রাখতে? 

পারবেন বাংলাদেশ কোচ?