লোকমানকে সরিয়ে ‘পাপমুক্ত’ হবে কি বিসিবি?

স্পোর্টস এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
এই ছবি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুখকর কিছু নয়-বার্তাটোয়েন্টিফোর

এই ছবি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুখকর কিছু নয়-বার্তাটোয়েন্টিফোর

  • Font increase
  • Font Decrease

বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখন বিসিবির সামনে। ক্যাসিনো ও মাদক কেলেঙ্কারিতে র‌্যাবের হাতে আটক বিসিবির পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে কি স্বীয় মর্যাদায় রাখবে ক্রিকেট বোর্ড? নাকি তাকে সরিয়ে দেবে?

এই প্রশ্নে বিসিবি’র বেশ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তাটোয়েন্টিফোর। তাদের বেশিরভাগই আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আলাপচারিতায় যা বলেছেন তাতে এটা স্পষ্ঠত যে ‘লোকমান কেলেঙ্কারিতে’ ক্রিকেট সমাজে তারাও বিব্রত।

নিজের ক্লাবকে ক্যাসিনো বানিয়ে যিনি ভাড়া দিয়েছেন। সেই পথে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। তার বাসা থেকে র‌্যাব তল্লাশি চালিয়ে মাদক পেয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা আছে যার। এমনসব ভয়াবহ অভিযোগে আটক এক ব্যক্তি এত দীর্ঘসময় ধরে বিসিবির পরিচালক পদের চেয়ারে বসেছিলেন-এই চিন্তাটাই তো ক্রিকেটের স্পিরিটের সঙ্গে যায় না।

এতদিন যিনি ম্যাচ শেষে বিজয় মঞ্চে হাজির হয়ে পুরস্কার তুলে দেয়ার সময় প্রধান অতিথির পাশে দাঁড়াতেন সেই তাকে এখন নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে-দুপাশে অস্ত্রধারী র‌্যাব সদস্য, মাঝে তিনি নতমুখে। তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে অপরাধী হিসেবে। ক্যাসিনো ব্যবসায় অবৈধ উপার্জন, বাসা থেকে মাদক উদ্ধার , বিদেশে টাকা পাচার-এমনসব অভিযোগ তার নামের পাশে। দেশে যার নামে সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত।

এমন ব্যক্তির পরিচয় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক!

সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা কমিটি সেই প্রথমদিন থেকে একটা ব্যাপারে বেশ জোরালো গুরুত্ব দিয়ে আসছে-ডিসিপ্লিন!

নাজমুল হাসান নিজেই অনেকবার বলেছেন-‘ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা বা করার ব্যাপারে আমি কোন ছাড় দেই না, দিবও না।’

কথার সেই উদাহরণও তিনি রেখেছেন বেশ কয়েকবার। এমনকি সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেটারও শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পার পাননি। সাব্বির রহমানকে তো রেকর্ড পরিমান জরিমানা গুনতে হয়েছে শৃঙ্খলা না মানায়। বোর্ড সভাপতি এই শৃঙ্খলা প্রশ্নে আরেকটি কঠিন সিদ্ধান্ত কি নিতে যাচ্ছেন, বা নিতে পারবেন?

-লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করতে পারবেন তিনি?

সভাপতি অবশ্য ইতিমধ্যে লোকমান হোসেন প্রসঙ্গে তার অবস্থান জানিয়েছেন এভাবে- ‘আমাদের তো কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কিছু নেই। যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তখন অবশ্যই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখন এটা বেশি আর্লি টু সে এনিথিং। আমার কথা হচ্ছে যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তবে তার বিচার হবে। এখানে কোনো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। আমি বিসিবিতেও ছাড় দিব না। বিসিবিতেও কখনো আমি ছাড় দেইনি, এটি হতে পারে না।’

বিসিবি সভাপতির ব্যাখাটা যৌক্তিক। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলার সুযোগ নেই। তবে বিসিবি সভাপতি সেই সঙ্গে এটাও বলছেন যে, ‘লোকমান তার বন্ধু, তবে সে কখনো আমাকে বলেনি তার ক্লাবে ক্যাসিনো আছে।’

অর্থাৎ ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে লোকমান হোসেন ভুঁইয়া যে জড়িত সেটা প্রমাণের জন্য কি আর আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন আছে?

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার আগেও লোকমান হোসেন ভুঁইয়া নিজেই স্বীকার করেছেন ক্লাবের আর্থিক উন্নতির জন্যই তিনি ক্যাসিনোর জন্য ক্লাব চত্বর ভাড়া দিয়েছিলেন!

বিসিবি কি এমনভাবে অভিযুক্ত কোন পরিচালককে শাস্তি দিতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর লেখা বিসিবির ২০১৭ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৩ এর ১৩.৩ এর বিধিতে-‘... শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালকের পদ শূন্য হইবে। শৃঙ্খলাজনিত শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ বিধি অনুসারে নিশ্চিত করিতে হইবে।’

-সংশ্লিষ্ঠ বিধি’র জন্য না হয় বিসিবি আদালতের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই পারে। তবে বিসিবিতে পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়া ফ্যাসিলিটিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের যে পদটি নিয়ে আছেন অন্তত সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে বিসিবি তো একটা বার্তা দিতে পারে-আইন সবার জন্য সমান; তা সে ক্রিকেটার হোক বা বোর্ডের পরিচালক?

এই প্রসঙ্গে বার্তাটোয়েন্টিফোরকে বিসিবি’র পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি জানালেন-‘এই বিষয়ে এককভাবে কোন মতামত দেয়ার কিছু নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এই ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সেটা বোর্ড সম্মিলিত সিদ্ধান্তই নেবে।’

বল কিন্তু ছোঁড়া হয়ে গেছে, এখন বিসিবি মাথা নুইয়ে বলটা ছেড়ে দেবে নাকি বুক চিতিয়ে হুক করবে- সেটাই দেখার বিষয়!

আপনার মতামত লিখুন :