বাংলাদেশের ভালো শুরু, স্ট্যাম্পিং হয়েও লিটন রক্ষা যে আইনে

স্পোর্টস এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ব্যাট হাতে ওপেনার লিটন দাস

ব্যাট হাতে ওপেনার লিটন দাস

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যাচ শুরুর আগেই বলাবলি হচ্ছিল রাজকোটের উইকেটে রান আছে। প্রথম ইনিংসে এখানে গড়পড়তা রানের অঙ্ক ১৬৬। আর তাই বড় স্কোরের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটাও হলো সাফল্যের হাসিতেই। ৬ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লে’তে স্কোরবোর্ডে জমা ৫৪ রান। ১০ ওভারে সেই রান দাঁড়ালো ১ উইকেটে ৭৮ রানে।

শুরুর ছয় ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। লিটন দাস অবশ্য পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে আউট হওয়ার একটা সহজ সুযোগ দিয়েছিলেন। উইকেট ছেড়ে সামনে বেড়ে ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে যুববেন্দ্র চাহালকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন। ব্যাটে-বলে হয়নি। বল ধরে উইকেটকিপার রিসাভ পান্থ স্ট্যাম্পিং করেন। লিটন দাস আউট মেনে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই আম্পায়ার তাকে থামান। রিপ্লেতে দেখা গেল রিসাভ পান্থ স্ট্যাম্পিং ঠিকই করেছেন। কিন্তু বল ধরার আগে তার গ্লাভসের কিছু অংশ স্ট্যাম্পের সামনে ছিল। স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য যা ক্রিকেট আইন বিরোধী। ক্রিকেট আইনের ২৭.৩.২ ধারা অনুযায়ী ডেলিভারির পর উইকেটকিপারকে বল ধরতে হয় স্ট্যাম্পের পেছন থেকে। আর সেই আইনেই রক্ষা পেলেন লিটন দাস। রিসাভ পান্থের সেই ভুলে লিটন দাস রক্ষা পেলেন সেই সঙ্গে ফ্রিহিটও মিলল। সেই ফ্রিহিটের বল লিটন দাস ঠিকই বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দিলেন!

ম্যাচের সপ্তম ওভারে আরেকবার ভাগ্য হাসল লিটন দাসের হয়ে। ওয়াসিংটন সুন্দরের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে অনেক উঁচুতে ক্যাচ উঠলো। সেই ক্যাচ ধরতে দৌড়ালেন ভারতের তিন ফিল্ডার। দলের অন্যতম দক্ষ ফিল্ডার অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলের নিচে পৌঁছালেন। ক্যাচটা হাতে নিলেন, কিন্তু রাখতে পারলেন না!
লিটন আরেকবার ভাগ্যের সহায়তা পেলেন।

তবে তৃতীয়বার আর রক্ষা হলো না। চাহালের দ্বিতীয় ওভারে তার বিপক্ষে এলবিডব্লু’র আপিলে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন উইকেটকিপার রিসাভ পান্থ। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। বল লিটনের প্যাডে লেগে সামনে যায়, সেই বল উইকেটের পেছনে পান্থের বুকে লেগে আবার সামনে এসে পড়ে। লিটন এই ফাঁকে রান নেওয়ার জন্য সামনে বাড়েন। বড় বেশি ঝুঁকি নিলেন তিনি। রিভাস পান্থ উইকেটের পেছন থেকে দৌড়ে এসে বল কুড়িয়ে থ্রো করলেন। বল সোজা স্ট্যাম্পে। লিটন তখনো ক্রিজের বাইরে! আউট, রান আউট!

৬ ওভারে ৫৪ এবং ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৭৮ রান। রাজকোটে ম্যাচে ব্যাটিংয়ের অর্ধেক সময়কে নিজেদের দাবি করতেই পারে বাংলাদেশ। ১০ বাউন্ডারিতে ৬০ বলে ৭৮ রান। মন্দ নয়!

এই ম্যাচেও ভারতীয় পেসার খলিল আহমেদ ‘মি. বেচারা’ হয়েই রইলেন!

আগের ম্যাচের হিসেবটা ধরলে খলিল আহমেদ টানা সাত বলে সাত বাউন্ডারি খরচা করলেন! প্রথম ম্যাচে তার শেষ ওভারের শেষ চার বলে মুশফিক টানা চারটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ছিলেন। সেই ওভারে খলিলের খরচা হয়েছিল ১৮ রান। রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম তিন বলে খলিলের ব্যয় হলো ১২ রান। তাও আবার টানা তিন বাউন্ডারিতে। এবার তাকে পেটালেন মোহাম্মদ নাঈম। তিনটিই শর্ট বল। প্রতিটিই জায়গা পেল বাউন্ডারিতে। সবমিলিয়ে ভারতীয় এই পেসার তার প্রথম ওভারে দিলেন ১৪ রান।

এই বেহিসেবি খরচা দেখে তাকে পরের ওভারে আর বোলিংয়ে রাখলেন না ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা! বোলিং প্রান্ত বদল করলেন। কিন্তু প্রান্ত বদল করলেও খলিল সেই খরুচেই রইলেন। তার দ্বিতীয় ওভারেও মোহাম্মদ নাঈম আরো দুটি বাউন্ডারি হাঁকালেন। শুরুর দুই ওভারে খলিল আহমেদ দিলেন ২৪ রান। যাতে বাউন্ডারির সংখ্যাই ৫। আর এই পাঁচটি বাউন্ডারিই এলো মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাটে।

আপনার মতামত লিখুন :