একতরফা ম্যাচে বাংলাদেশের হার, সিরিজে সমতায় ভারত

আপন তারিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজকোট (ভারত) থেকে
মোহাম্মদ নাঈম শেখ

মোহাম্মদ নাঈম শেখ

  • Font increase
  • Font Decrease

দিল্লি-রাজকোট এক হয়নি! হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব ঘোঁচানো কী সহজ কথা? অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে বীরত্ব দেখা গেলেও সৌরাষ্ট্রে সেই দাপট কোথায়? আগের ম্যাচের বাংলাদেশকে খুঁজেই পাওয়া গেল না! রোহিত শর্মার শততম ম্যাচটা জয়ে রাঙাল ভারত!

বৃহস্পতিবার শুরুতে ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েও ব্যর্থ বাংলাদেশ। তারপর রোহিত হয়ে উঠলেন ক্ষ্যাপাটে। আগের ম্যাচের ব্যর্থতার ক্ষোভ যেন এখানেই ঝারলেন! একতরফা এক ম্যাচ!

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে সন্ধ্যার শুরুটাই ছিল ভারতের। টস ভাগ্য কথা বলল ভারতের হয়ে। রান তাড়ায় 'ম্যান ইন ব্লুজরা' যে ভয়ঙ্কর সেটা তো সবারই জানা! রোহিত শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দেরি করলেন না! তারপর টাইগাররা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে মাত্র ১৫৩ রান। জবাবে শততম ম্যাচ খেলতে নামা রোহিত একাই সর্বনাশ করে দিলেন! তার ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের ঠিকানাটাও খুঁজে নেয় ভারত।

৮ উইকেটের অনায়াস জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ১০ নভেম্বর নাগপুরে যারাই জিতবে সিরিজ তাদের!

মাইলফলক ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমান-শফিউল ইসলামকে পাত্তাই দিলেন না রোহিত। এমন ভাবে খেললেন, নিজের শহর নাগপুরে ফিরতে যেন বড্ড তারা তার। যা করলেন তাতেই উন্মাতাল হয়েছে গ্যালারি। গুজরাটের ছোট্ট শহরের দর্শকদের মন জয় করে নিলেন রোহিত!

টাইগারদের ১৫৩ রানের জবাবে নেমে কতো দ্রুত জেতা যায় সেই মিশনটাই যেন নিয়েছিলেন রোহিত ও শিখর ধাওয়ান। অবশ্য প্রকৃতিও সঙ্গে ছিল তাদের। রাতের শিশিরে বল ঠিকঠাক মতো গ্রিভে আনতেও পারছিলেন না টাইগার বোলাররা। অবশ্য রোহিত যেদিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন, সেদিন দেড়শ কোনো লক্ষ্যই নয়!

নিজের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা রঙিন করে রাখতে ভুল করলেন না রোহিত। সৌরাষ্ট্রের দর্শকদের পয়সা উসুল করে খেললেন একের পর এক নান্দনিক শট। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ উড়িয়ে ২৩ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।

মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বুঝি ১০ উইকেটেই জিততে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। কিন্তু শিখর ধাওয়ানকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ২৪ বলে ২৮ রানে ফেরেন 'গাব্বার'। শতরানের পথেই ছিলেন রোহিত। কিন্তু তাকে শততম ম্যাচে তিন শতক পেতে দিলেন না সেই আমিনুল। ৬ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৩ বলে ৮৫ রান তুলে সাজঘরের পথে হাঁটা ধরেন ভারত অধিনায়ক!

যদিও যা করার করে দিয়ে গেলেন রোহিত। তার দাপটের পর ২৬ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের। প্রথম দশ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে দল তুলে ৭৮। কিন্তু পরের ৬০ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৫। ভুল শট খেলে ব্যাটসম্যানরাই সর্বনাশ করে দিলেন। অথচ পাওয়ার প্লেতে দলকে পথ দেখিয়েছেন লিটন দাস ও ওপেনিংয়ে নামা মোহাম্মদ নাঈম। প্রথম ৬ ওভারেই দলের সংগ্রহে বিনা উইকেটে ৫৪ রান। কিন্তু সেই ছন্দটা শেষ অব্দি থাকল না।

লিটন ফেরেন ২১ বলে ২৯ রানে। ভাঙে ৪৫ বলে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি। তারপর নাঈমও তার পথ ধরেন। ৩১ বলে ৩৬ রান আসে তার ব্যাটে। হতাশ করেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিমও। দিল্লিতে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান এবার ফিরলেন মাত্র ৪ রানে।

সৌম্য সরকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ২০ বলে ৩০ রান তুলে তিনি একই ভুলের ফাঁদে পা দিলে পথ হারায় দল। তারপর আর দলকে ফেরাতে পারেননি আফিফ হোসেন কিংবা মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিং উইকেটের ফায়দা লুটে নিতে না পারার মাশুলটাও গুনতে হলো।

তবে সিরিজ জেতার স্বপ্ন তো এখনো মরে যায়নি। টি-টোয়েন্টি মিশনে এখন ফাইনালের আমেজ। রাজকোটে হয়নি, ভুল সামলে উঠতে পারলে নাগপুরে তো হতেও পারে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ২৯, নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আফিফ ৬, মোসাদ্দেক ৭*, আমিনুল ৫*; চাহার ১/২৫, খলিল ১/৪৪, সুন্দর ১/২৫, চাহাল ২/২৮)।

ভারত: ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২ ( রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, রাহুল ৮*, শ্রেয়াস ২৪*; আমিনুল ২/২৯)।

ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

আপনার মতামত লিখুন :