সৌম্য-লিটনকে আগলে রাখছেন ডমিঙ্গো

আপন তারিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নাগপুর (ভারত) থেকে
অনুশীলনে সৌম্য সরকার ও লিটন দাস

অনুশীলনে সৌম্য সরকার ও লিটন দাস

  • Font increase
  • Font Decrease

দারুণ শুরুর পর হতাশায় বিদায়-সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের গল্পটা এমনই। প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন আপ সামলে দু'জনই শুরুটা বেশ ভালই হচ্ছে তাদের। কিন্তু দুর্দান্ত সম্ভাবনার পর বাজে সমাপ্তি।

ভারতের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য কথা বলেছে সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু আরও ভালো কিছু হতে পারতো। বাজে শট খেলে আউট হয়ে বিপাকে ফেলছেন দলকে। এলোমেলো শট খেলে বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা জাগিয়ে পারেননি তিনি। প্রথম ম্যাচে ৩৯ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হাফসেঞ্চুরির আগেই (৩০) বিদায়!

একইভাবে লিটন দাসও ভুলের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। বাজে শট খেলে ধরছেন সাজঘরের পথ। আগের ম্যাচে জীবন পেয়েও ফিরলেন ২৯ রানে। কেন এমন হচ্ছে এই দুই তরুণ ক্রিকেটারের। প্রশ্নটা শনিবার করা হয়েছিল রাসেল ডমিঙ্গোকে।

কানপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে অবশ্য শিষ্যদের হয়েই ব্যাট ধরলেন রাসেল। টাইগারদের হেড কোচ বলছিলেন, 'আসলে উত্তরটা ওরাই দিতে পারবে। দু'জনই বড় স্কোর গড়তে লড়ে যাচ্ছে। আমি খেয়াল করে দেখেছি ওদের টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা নেই। ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু বাজে সিদ্ধান্তের জন্য আউট হয়ে যাচ্ছে তারা। তবে ইনিংস বড় করতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সময়ও দিতে হবে!'

দিল্লিতে টাইগাররা ব্যাটে-বলে ছন্দে পেলেও রাজকোটের স্লো উইকেটে তেমন কিছুই করা হয়নি। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা ডুবিয়েছেন হতাশায়। শুধু সৌম্য-লিটন নন, অন্য ব্যাটসম্যানরাও বড় ইনিংস না খেলেই ফিরছেন সাজঘরে। রোববার টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে এনিয়ে চিন্তিত মনে হলো টাইগার কোচকে।

রাসেল ডসিঙ্গো জানাচ্ছিলেন, 'রাজকোটে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল কেউ ৭০ কিংবা ৮০ রান করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে মুশফিক লড়ে গেছে। আর দলকে পথ দেখিয়েছে। একজন ব্যাটসম্যান যখন ত্রিশ রানে যায় তার বড় ইনিংস খেলার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

তবে মুগ্ধতা আছে আরেকজনকে নিয়ে। তিনি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এই স্পিনার বল হাতে পাচ্ছেন দারুণ সাফল্য। লেগ স্পিনে তার ক্যারিশমা মুগ্ধও করছে। ভারত সফরে দুই টি-টোয়েন্টিতে এরইমধ্যে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

এমন সাফল্যই নয়, তার পরিশ্রম আর ভালো করার প্রত্যয়ও মুগ্ধ করেছে রাসেল ডমিঙ্গোকে। জানাচ্ছিলেন, 'দেখুন, আমি সবসময়ই লেগ স্পিনারদের পছন্দ করি আর আমি জানি, বিপ্লব মূলত ব্যাটসম্যান, যে লেগ স্পিন করতে পারে। তবে আমি আমিনুল প্রাণশক্তি, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে মুগ্ধ। ওর মতো একজনকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।'

২০ বছর বয়সী আমিনুল গত ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন রোহিত শর্মার উইকেট। রোববার ফের সুযোগ মিলবে। সুযোগ মিলবে নাঈম শেখেরও। তিনিও তরুণদের মধ্যে দারুণ খেলছেন। তাকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত কোচ।

সিরিজে ১-১ সমতা! কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই দাঁড়িয়ে টাইগাররা। অবশ্য সমীকরণটা সহজ-জিতলেই প্রথমবারের মতো মিলবে ভারতের মাঠ থেকে সিরিজ জয়ের তৃপ্তি! সেই সাফল্য পেতে নাগপুরে খেলতে হবে দিল্লির ক্রিকেট! দেখিয়ে দিতে হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফেভারিট বলে কিছু নেই!

আপনার মতামত লিখুন :