ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন কিংবদন্তি বব উইলিস

আপন তারিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
জন্ম ৩০ মে, ১৯৪৯; মৃত্যু ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

জন্ম ৩০ মে, ১৯৪৯; মৃত্যু ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাছে তিনি ছিলেন আতঙ্কের অন্য নাম। ২২ গজে কলার উঁচু করেই শাসন করেছেন! কিন্তু জীবন যুদ্ধে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন বব উইলিস। যিনি কিংবদন্তিদেরও কিংবদন্তি।

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক উইলিস। ডানহাতি এই পেসার খেলা ছেড়ে দিয়েও জড়িয়ে ছিলেন ক্রিকেটের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধারাভাষ্যে অসম্ভব রসবোধ আর বিশ্লেষণে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। সেই উইলিস এবার চলে গেলেন অন্য এক জগতে, অশ্রু নদীর ওপারে। যেখান থেকে কেউ আর ফেরে না!

থাইরয়েড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানলেন ৪ ডিসেম্বর, বুধবার। ৭০ বছর বয়সে চলে গেলেন একেবারেই। মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে তার পরিবার জানাল, ‘প্রিয় ববকে হারিয়ে হৃদয় ভেঙে গেছে আমাদের। ও ছিল অবিশ্বাস্য একজন স্বামী, বাবা, ভাই ও দাদা। আমরা ভীষণ মিস করব তাকে।’

ক্রিকেটের পুরনো দর্শকদের কাছে এক নামেই পরিচিত দীর্ঘদেহী এই বোলার। সত্যিকার অর্থেই দীর্ঘদেহী। উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি! তার আগ্রাসি বোলিং সত্তর দশকের ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপন।



বব উইলিসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৭১ সালে। তারপর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলে গেছেন ১৯৮৪ অব্দি। এর মধ্যে খেলেছেন ৯০ টেস্ট। শিকার করেছেন ৩২৫ উইকেট। যদি পরিসংখ্যানে চোখ রাখি, তবে অবশ্যই তাকে ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বোলার বলতে হবে! তার ওপরে এখন পর্যন্ত উঠতে পেরেছেন মাত্র তিনজন- ইয়ান বোথাম (৩৮৩), স্টুয়ার্ট ব্রড (৪৭১) আর জেমস অ্যান্ডারসন (৫৭৫)।

একইসঙ্গে ৬৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন উইলিস। নিয়েছেন ৮০ উইকেট। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৭৯ বিশ্বকাপে দেখা গেছে তাকে। এরপর ১৯৮৩ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে খেলেছে ইংল্যান্ড। আর দেশকে ১৮ টেস্ট ও ২৯ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৩০৮ ম্যাচে তুলেছেন ৮৯৯ উইকেট। ইর্ষণীয় সাফল্য!



তার ক্যারিয়ারটা ছিল অবিশ্বাস্য। ছিপছিপে লম্বা এই পেসার ইনজুরিকে পাত্তাই দেননি ক্যারিয়ারে। অসম্ভব আত্মবিশ্বাস তাকে আলাদা করে দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারে উত্থান পর্বে থমকে দাঁড়াতে পারতেন তিনি। বয়স যখন ২৬, তখন দুই হাঁটুতেই অস্ত্রোপচার হয়েছিল উইলিসের। মনে হচ্ছিল, এই ধাক্কা সামলে আর ফিরতেই পারবেন না।

পেস বোলাররা এমন চাপ সামলাতে পারে কী! কিন্তু সেই ইনজুরিকে উড়িয়ে দিয়েছেন সান্ডারল্যান্ডের রবার্ট জর্জ ডিলন উইলিস। প্রচণ্ড মানসিক শক্তিই তার ক্যারিয়ারটা বেশ দীর্ঘ করেছে।

১৯৮১ সালে অ্যাশেজে হেডিংলি টেস্টে বল হাতে আগুন ঝরানো বোলিং এখনো দোলা দেয় দর্শকের মনে। উইলিস ৪৩ রানে নেন ৮ উইকেট। বোলিং ফিগারটা দেখুন, ১৫.১-৩-৪৩-৮! বিস্ময়কর! প্রায় জিততে যাওয়া ম্যাচটাতে উড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সময়ের পথ ধরে এভাবেই একাধিক কীর্তি গড়ে সর্বকালের সেরাদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।



তারপর কমেন্ট্রি বক্সেও মনে রাখার মতো সময় কাটিয়েছেন বব উইলিস। অসাধারণ বাচন ভঙ্গি আর বিশ্লেষণে আরেক কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের সঙ্গে জমে ওঠে ধারাভাষ্যে তার জুটি। নির্মোহ থেকে তার বিশ্লেষণ আলাদা করেই নজর কাড়ত সব সময়। সত্য যতোই তিক্ত হোক বলতে পরোয়া করতেন না তিনি। কথা বলতেন সোজাসাপ্টা!

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার সময়ও সমানে চলেছে তার কণ্ঠ! এইতো গত মৌসুমেও সাবলীল ছিলেন স্কাই স্পোর্টসের মাইক্রোফোনের অপর প্রান্তে। কিন্তু এখন বব উইলিস শুধুই ইতিহাস। রঙিন এক জীবন পেছনে ফেলে চলেই গেলেন চিরতরে, না ফেরার রহস্যময় এক জগতে।

থেমে গেল চেনা কণ্ঠস্বর, বিদায় বব উইলিস। বিদায় কিংবদন্তি!

আপনার মতামত লিখুন :