ফাইনালে ফেভারিট খুলনা, কিন্তু রাজশাহীর আছেন রাসেল

এম. এম. কায়সার, স্পোর্টস এডিটর, বার্তা২৪.কম
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ট্রফি হাতে দুই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও আন্দ্রে রাসেল- ছবি: বিসিবি

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ট্রফি হাতে দুই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও আন্দ্রে রাসেল- ছবি: বিসিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ফাইনালে ফেভারিট কে?

আপনি যদি পরিসংখ্যানে বেশিমাত্রায় বিশ্বাসী হোন তাহলে শুক্রবার রাতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে খুলনা টাইগার্সের পক্ষেই যাবে আপনার ভোট! চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুটো দল। লড়াইটা শেষ হয়েছে খুলনা টাইগার্স ২ : রাজশাহী রয়্যালস ১।

শুধু দলীয় লড়াইয়ে নয়, একক কৃতিত্বেও ফাইনালের আগ পর্যন্ত খুলনা বেশ দাপটের সঙ্গে এগিয়ে থাকছে।

টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষ দুই ব্যাটসম্যান খুলনার। ১৩ ম্যাচে ৪৭০ রান নিয়ে এক নম্বরে আছেন মুশফিকুর রহিম। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৪৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাইলি রুশো। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে অবশ্য রাজশাহী রয়্যালসের শোয়েব মালিকের নাম। ১৪ ম্যাচে শোয়েব মালিকের রান ৪৪৬। ব্যাটিংয়ের শীর্ষ দশে আছেন রাজশাহীর রয়্যালসের আরো দুই ব্যাটসম্যান। ১৪ ম্যাচে ৪৩০ রান নিয়ে লিটন দাস এবং ৩৬০ রান নিয়ে অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন।
 
এবার ফিরি বোলিংয়ে।

এই তালিকায় দাপুটে অবস্থান খুলনা টাইগার্সের। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির শীর্ষ দশের তিনজনই খুলনার। তালিকায় সবচেয়ে বেশি ২০ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে এক নম্বরে রংপুর রেঞ্জার্সের মুস্তাফিজুর রহমান ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের রুবেল হোসেন। তবে এই দুজনের দল ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে। তাই তাদের সামনে উইকেট সংখ্যা বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। তবে এই দুজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য অবস্থানে দাঁড়িয়ে এখন খুলনা টাইগার্সের তিন পেসার। নামগুলো শুনুন- রোবি ফ্রাইলিঙ্ক, মোহাম্মদ আমির ও শহিদুল ইসলাম। ১৩ ম্যাচে ফ্রাইলিঙ্কের উইকেট ১৯টি। আমির ও শহিদুলের ১২ ম্যাচে শিকার সংখ্যা ১৮।

বোলিংয়ের এই শীর্ষ দলে রাজশাহী রয়্যালসের একমাত্র প্রতিনিধির নাম মোহাম্মদ ইরফান। পাকিস্তানি এই পেসার ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সেরা উইকেট শিকারির তালিকার দশ নম্বরে আছেন।

ফাইনালের আগে ব্যক্তিগত আরো দুটো সাফল্যে উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছে খুলনা টাইগার্স। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান খুলনা টাইগার্সের ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। শুধু তাই নয়, শান্ত’র ১১৫ রানের ইনিংস এবারের টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ রান।  

ব্যাটিংয়ের একক পারফরম্যান্সের এমন কৃতিত্বের পাশাপাশি বোলিংয়ে খুলনারই জয়জয়াকার। এক ম্যাচে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত খুলনার পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের। ১৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন আমির।

তাও আবার কোন ম্যাচে?

রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফারে! আমিরের সেই বোলিং পারফরম্যান্স শুধু এবারের নয়, গোটা বিপিএলের ইতিহাসের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
 
চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এক ম্যাচে পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন চারজন বোলার। প্রথম দু’জন হলেন ঢাকা প্লাটুনের ওয়াহাব রিয়াজ ও তিসারা পেরেইরা। পরের দুজন খুলনা টাইগার্সের রোবি ফ্রাইলিঙ্ক ও মোহাম্মদ আমির।

এবারের আসরে খুলনা টাইগার্সই একমাত্র দল যারা দুশো’র বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য দেখিয়েছে। ১৭ জানুয়ারির রাতে ফাইনালে নামার আগে এতসব পরিসংখ্যান খুলনা টাইগার্সের ফেভারিট তত্ত্বের পক্ষে ওজন ভারি করলেও মনে রাখতে হবে-রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়কের নাম আন্দ্রে রাসেল।

নিজের দিনে যিনি যে কোনো রানের টার্গেটকে মামুলি করে দিতে পারেন। ফাইনালের আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে আন্দ্রে রাসেলের ২২ বলে হার না মানা ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংসের ভিডিওটা দেখে নিয়েছে খুলনা টাইগার্সের টিম ম্যানেজমেন্ট।

রাসেল কিন্তু বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড়!

আপনার মতামত লিখুন :