শাওমি বাংলাদেশে আনল মি নোটবুক এবং রেডমিবুক সিরিজের ল্যাপটপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শাওমি বাংলাদেশে আনল মি নোটবুক এবং রেডমিবুক সিরিজের ল্যাপটপ

শাওমি বাংলাদেশে আনল মি নোটবুক এবং রেডমিবুক সিরিজের ল্যাপটপ

  • Font increase
  • Font Decrease

শীর্ষ গ্লোবাল টোকনোলজি ব্র্যান্ড শাওমি বাংলাদেশের বাজারে প্রথমবারের মতো তাদের দুটি নতুন সিরিজের ল্যাপটপ উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে। শাওমি তার বিশ্বস্ত ফ্যানদের জন্য আনছে মি নোটবুক সিরিজের পাশাপাশি রেডমিবুক ১৫ সিরিজের ল্যাপটপ।

মি নোটবুক আল্ট্রা এবং মি নোটবুক প্রো অতুলনীয় গতি, পারফরম্যান্স এবং মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স দেবে। কাটিং-এজ প্রযুক্তির সমন্বয়ে ল্যাপটপগুলো ডিজাইন করা হয়েছে সহজেই অধিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে এবং পাওয়ার ইউজারদের জন্য।

সুপার লাইফ রেডমিবুক ১৫ সিরিজটিতে রয়েছে আকর্ণষীয় সব ফিচার ও আধুনিক ডিজাইন, স্টাডি বিল্ট কোয়ালিটি এবং অপ্টিমাইজ স্পেসিফিকেশন। এটি আসছে ১৫.৬ ইঞ্চির এফএইচডি ডিসপ্লে, ১১ জেন ইন্টেল কোর প্রসেসরের সঙ্গে ৮ জিবি ডিডিআর৪ ৩২০০ মেগাহার্জ র্যা মের সমন্বয়ে। ১১ ঘণ্টার সারা দিন ব্যাটারি ব্যাকআপ, দেবে মাল্টিটাস্কিং এবং স্বপ্ন পূরণে আরও অনেক কিছু।

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শুরু থেকেই শাওমি বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন আনতে কাজ করছে। আমাদের বিশ্বস্ত ফ্যানদের জন্য শাওমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বাজারে ল্যাপটপ সিরিজ আনতে পেরে খুব আনন্দিত। মি নোটবুক ও রেডমিবুক ১৫ সিরিজের ল্যাপটপগুলোর মাধ্যমে আমাদের পোর্টোফলিও আরও সমৃদ্ধ করেছি আমরা। বাজারে আমাদের প্রথম ল্যাপটপ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে পারফরম্যান্স এবং দক্ষতার সমন্বয়ে ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য অর্জনে আরও শক্তিশালী করে তুলছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘মি নোটবুক সিরিজ ল্যাপটপ আসছে টপ অব দ্য লাইন স্পেসিফিকেশনে, যাতে থাকছে অ্যারোস্পেস গ্রেড সিরিজ ৬ অ্যালুমিনিয়াম বডি, সঙ্গে মি ট্রুলাইফ প্লাস এবং ট্রুলাইফ ডিসপ্লে যাতে পাওয়া যাবে অনুপ্রেরণাদায়ক, প্রাণবন্ত, লাইফ-লাইক ভিজ্যুয়াল, সারা দিন ব্যাটারি ব্যাকআপ, টাইপ-সি ফাস্ট চার্জিং এবং ব্যাকলিট কি-বোর্ডের সঙ্গে থান্ডারবোল্ট ৪। সেই সঙ্গে পারফরম্যান্সের সব সীমা ভেঙে দেবে এর আল্ট্র লাইট এবং পোর্টেবল ক্যাটেগরি। সঙ্গে আরও থাকছে ১১ প্রজন্মের ইন্টেল কোর প্রসেসর, ইন্টেল আইরিশ এক্সই গ্রাফিক্সসহ অত্যাধুনিক সব ফিচার, ১৬ জিবি ডিডিআর৪ র্যা ম এবং ৫১২ জিবি এনভিমি এসএসডি স্টোরেজ।’ 

‘এ ছাড়া এতে থাকা ১১ জেনারেশনের ইন্টেল কোর প্রসেসর, প্রিমিয়াম ডিজাইন এবং অনবদ্য পারফরম্যান্স আধুনিক কাজের জন্য বা লার্নিং স্টাইলের জন্য যারা পারফেক্ট ল্যাপটপ খুঁজছেন তাদের জন্য সবকিছুর সল্যুশন হবে। আমাদের প্রত্যাশা আমাদের গ্রাহক ও ফ্যানরা শক্তিশালী ল্যাপটপটির মাধ্যমে আরও অগ্রসর হতে পারবেন।’

ল্যাপটপগুলো আজ (সোমবার) থেকে বাংলাদেশে শাওমির অথরাইজড স্টোর এবং রিটেইল চ্যানেলে পাওয়া যাবে। মি নোটবুক আল্ট্রার দাম ৯৬,৯৯৯ টাকা। মি নোটবুক প্রোর দাম ৭৭,৯৯৯ টাকা। রেডমিবুক ১৫ প্রো'র দাম ৫৯,৯৯৯ টাকা এবং রেডমিবুক ১৫ এর দাম ৪৯,৯৯৯ টাকা।

মি নোটবুক আলট্রা

আধুনিক, ধাতব এবং মিনিমালিস্টিক ডিজাইন

মি আলট্রা ল্যাপটপ আধুনিক এবং আকর্ষনীয় লুকের পাশাপাশি এর ইউনিবডি ডিজাইনের জন্য শক্তি এবং বহনযোগ্যতার ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি সিএনসি মেশিন দ্বারা নিখুঁত ভাবে খোঁচিত সিরিজ ৬ অ্যালুমিনিয়ামের একটি একক ব্লক দ্বারা তৈরী, যা একটি বিমান গ্রেড ধাতু খাদ। বডি চ্যাসিস টিকে উজ্জ্বল ধূসর রঙের ফিনিশিং দেওয়ার জন্য স্যান্ডব্লাস্টিং এবং অ্যানোডাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়। পুরো ল্যাপটপের ওজন মাত্র ১.৭ কেজি এবং এটি ১৭.৯ মিমি পুরু হওয়ায় ল্যাপটপটি মসৃণ এবং বহন করা খুবই সহজ হবে।

মি ট্রু-লাইফ+ ডিসপ্লে

ল্যাপটপের ডিসপ্লে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে মি নোটবুক আল্ট্রাতে আছে মি এর নতুন ট্রু-লাইফ+ ফিচার, যা আপনাকে দিবে আশ্চর্যজনক ভিজ্যুয়ালের অভিজ্ঞতা। এটি ১০০% এসআরজিবি কালার গামুট কভার করে যা ছবি, ভিডিও এবং গেমস গুলিকে জীবন্ত করে তোলে। এটি একটি আইপিএস প্যানেলের সাথে আসায় ৮৯% এরও বেশি বডি অনুপাতের একটি স্ক্রিন যাতেআছে ২৪২ পিপিআই এর ক্লাস নেতৃস্থানীয় পিক্সেল ঘনত্ব।

কর্মক্ষমতা এবং ব্যাটারি

মি  নোটবুক  আল্ট্রা লেটেস্ট  ১১ জেন ইন্টেল কোর আই-৭ এবং আই-৫ এইচ-৩৫  সিরিজের  প্রসেসর দ্বারা চালিত হয় যা ইন্টেলের ১০ ন্যানোমিটার  সুপারফিন প্রক্রিয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত - এই প্রসেসরগুলি গত প্রজন্মের তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং আরও দক্ষ। আই ৭-১১৩৭০এইচ  এর ৪ টি কোর রয়েছে যা ৮ টি থ্রেড  পর্যন্ত মাল্টি-থ্রেডিং সমর্থন  করে এবং ৩৫ ওয়াট এর টিডিপিতে কাজ করার সময়  সর্বোচ্চ ৪.৮ গিগাহার্টজ পর্যন্ত কর্মক্ষম। এটি মাইক্রোসফ্ট অফিস স্যুটের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে বর্ধিত উত্পাদনশীলতার কর্মক্ষমতা এবং মাল্টি-টাস্কিং সক্ষম করে।

সারাদিন ব্যবহারের জন্য মি নোটবুক আল্ট্রাতে আছে একটি বড় ৭০ ওয়াট আউয়ার ব্যাটারি, যা ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ল্যাপটপটিকে সচল রাখতে পারে। এছাড়াও, থাকছে ৬৫ওয়াটের ইউএসবি টাইপ-সি চার্জার যা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ০ থেকে ৫০% পর্যন্ত চার্জ করতে সক্ষম।

প্রোডাক্টিভিটি এবং কানেক্টিভিটি

মি নোটবুক আল্ট্রাতে থাকছে তিনটি স্তরের আলোকসজ্জ্বার ব্যাকলিট কীবোর্ড । প্রতিটি কী ১.৫মিমি গভীরে নির্দিষ্ট দূরত্বের সাথে একটি অবতল বাঁকা শীর্ষের সাথে থাকায় স্পর্শকাতর প্রতিক্রিয়া সহ টাইপিংকে সহজ এবং আরও নির্ভুল করে তোলে। এটিতে থাকছে একটি বড়, আরামদায়ক ট্র্যাকপ্যাড যা পূর্ববর্তী মি নোটবুক ১৪ সিরিজ প্রজন্মের তুলনায় ৬২% বেশি জায়গা সরবরাহ করে। ট্র্যাকপ্যাডটি উইন্ডোজ প্রিসিশন ড্রাইভারগুলিকে সমর্থন করে যা বিভিন্ন প্রোগ্রাম এবং কমান্ডের শর্টকাটগুলির জন্য জেশ্চার এবং মাল্টি-ফিঙ্গার ট্যাপ সমর্থন করে।

মি নোটবুক আল্ট্রা সর্বশেষ ওয়্যারলেস সংযোগ বিকল্পগুলি সরবরাহ করে: ওয়াই-ফাই ৬ এবং ব্লুটুথ ৫.১। অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং সুবিধার জন্য, এতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার যা উইন্ডোজ হ্যালো সমর্থন করে এবং দ্রুত, নিরাপদ এবং সহজ লগইনের জন্য এটি পাওয়ার বোতামের মধ্যে এম্বেড করা হয়েছে।

মি নোটবুক প্রো

মি নোটবুক প্রোতেও আছে শক্তিশালী এয়ারক্রাফ্ট গ্রেডের ধাতু খাদ সিরিজ ৬ অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় চ্যাসিস৷ এই ইউনিবডি ডিজাইনটি এটিকে মাত্র ১৭.৩মিমি পাতলা এবং ১.৪ কেজি ওজনের হতে সক্ষম করে তুলেছে। কম্প্যাক্ট আকারের হওয়ার পরেও এর জেস্টারের একটি বড় ১২৫ মিমি x ৮১.৬ মিমি ট্র্যাকপ্যাড সরবরাহ করে। কীবোর্ডটি ১.৩ মিমিঃ-এর আরামদায়ক যার সাথে থাকছে সিসোর সুইচ। ব্যবহারকারীরা পাওয়ার বোতামের মধ্যে এম্বেড করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের সাহায্যে দ্রুত এবং নিরাপদ লগইনও উপভোগ করতে পারবে।

মি নোটবুক প্রোতে থাকছে একটি ১৪-ইঞ্চি ২.৫কে (২৫৬০x১৬০০) বা কিউএচডি+ স্ক্রীন যা অবিশ্বাস্য তীক্ষ্ণতা দেয় এবং ৮৮% স্ক্রিন-টু-বডি অনুপাতের সাথে একটি নিমজ্জিত দেখার অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এটি ৫% অতিরিক্ত উল্লম্ব রিয়েল এস্টেটের জন্য একটি ১৬:১০ অ্যাসপেক্ট অনুপাতের সাথেও আসে যা বর্ধিত উত্পাদনশীলতা সক্ষম করে।

এই ল্যাপটপটি মাইক্রোসফট অফিস স্যুটের মতো প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে মসৃণ- মাল্টিটাস্কিং এবং হেভি-ডিউটি পারফরম্যান্স সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়, যেহেতু এটি সর্বশেষ ১১ তম জেনেরেশনের ইন্টেল® কোর™ আই৫ এবং আই৭ টাইগারলেক এইচ ৩৫ প্রসেসরগুলি প্যাক করে যা ৪.৮ গেগাহার্জ পর্যন্ত কার্যক্ষম, যা শীর্ষ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করে। এটি ৩২০০ মেগাহার্টজ-এর ১৬ গিগাবাইট ডিডিআর-৪ রাম এর  সাথে যুক্ত এবং একটি সুপার স্ন্যাপি অভিজ্ঞতার জন্য ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত এনভিএমই এসএসডি স্টোরেজ সমর্থন করে।

মি নোটবুক আল্ট্রা এবং মি নোটবুক প্রো উভয়ই উইন্ডোজ ১১ দ্বারা চালিত। এতে লাইসেন্সকৃত এমএস অফিস প্যাকেজ প্রিলোডথাকবে।

রেডিমিবুক ১৫ প্রো

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

রেডমিবুক হলো কীভাবে ছোট ডিজাইনের পরিবর্তনগুলি একটি বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে তার একটি নিখুঁত উদাহরণ। ল্যাপটপটি একটি পুরোপুরি সুষম চেসিসের সাথে সুন্দরভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা একটি স্বতন্ত্র কাটআউট দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীদের একক আঙ্গুল দিয়ে এটি খুলতে সক্ষম করে। এটি আকর্ষণীয় মসৃণ, পাতলা, এবং হালকা ফর্ম ফ্যাক্টর বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং ১৯.৯ মিমি পাতলা ও ওজন মাত্র ১.৪ কেজি।

নতুন ল্যাপটপের পরিসীমাটি একটি নিমজ্জিত ১৫.৬ “ ফুলএইচডি ডিসপ্লে দিয়ে প্যাক করা হয়, এটি একটি উন্নত কাজের অভিজ্ঞতার জন্য একটি আদর্শ আকার তৈরি করে। উপরন্তু, প্রতিফলন এড়াতে এবং একটি উজ্জ্বল পরিবেশে বা সরাসরি আলোর উৎসের অধীনে কাজ করার সময় আপনার চোখের উপর চাপ কমাতে, এই নোটবুকগুলি একটি অ্যান্টি-গ্লেয়ার লেপ দিয়ে আসে। একটি ১৯২০x১০৮০ পূর্ণ এইচডি রেজোলিউশন এবং সংকীর্ণ বেজেল সমন্বিত, রেডিমিবুক একটি  স্পষ্ট দেখার অভিজ্ঞতার জন্য একটি চিত্তাকর্ষক ৮১.৮% স্ক্রিন-টু-বডি অনুপাত সরবরাহ করে।

কর্মক্ষমতা এবং ব্যাটারি

প্রোডাক্টিভিটি ব্যবহারকারীদের জন্য ডিজাইন করা রেডিমিবুক প্রো সর্বশেষ ১১তম জেন টাইগারলেক ইন্টেল ® কোর™ আই৫ এইচ-৩৫ সিরিজ প্রসেসর, ১১৩০০এইচ এর সাথে আসে । এই দ্রুত প্রসেসরের পরিপূরক হিসাবে, আমরা এর সাথে যুক্ত করেছি দ্রুত ৩২০০ মেগাহার্টজ ৮ জিবি ডিডিআর-৪   রাম এবং ৫১২ গিগাবাইট এনভিএমই  এসএসডি, যার ফলে সুপার-ফাস্ট বুট-আপ, জাগানো এবং ফাইল ট্রান্সফার হয়।

একটি ৪৬ ওয়াট আউয়ার ব্যাটারি সহ, রেডিমিবুক সারা দিনের পারফরম্যান্সের ১০ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। বক্সের বাইরে একটি ৬৫ ওয়াট চার্জার দিয়ে, ব্যবহারকারীরা মাত্র ৩৫ মিনিটের মধ্যে ০ থেকে ৫০% পর্যন্ত তাদের নোটবুকটি পাওয়ার করতে পারে।

প্রোডাক্টিভিটি এবং কানেক্টিভিটি

রেডিমিবুক একটি আরামদায়ক এবং আরামপ্রদ স্পেসযুক্ত সিসোর প্রক্রিয়ার কীবোর্ড ব্যবহার করে। কীগুলির ১.৫ মিমি একটি গভীর ভ্রমণ দূরত্ব রয়েছে যা টাইপিংকে অনেক সহজ করে তোলে এবং কেবল সঠিক স্পর্শকাতর প্রতিক্রিয়া সক্ষম করে। উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্রাউজিং সহজ এবং আরো সুবিধাজনক করার জন্য আছে ১০০ বর্গ-সেমিঃ বড় ডিজাইনের ট্র্যাকপ্যাড।

রেডিমিবুক ১৫

রেডিমিবুক ১৫ বিশেষত তৈরি করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। তারা হতে পারে স্কুলগামী ছাত্র অথবা কলেজ-গামী তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক, বা অফিসগামী কর্মীও হতে পারে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি বাসায় বসে যেকোনো বিষয়ে শিক্ষালাভ কিংবা ওয়ার্ক ফ্রম হোম- সকল কাজেই এই ল্যাপটপ একটি উপযুক্ত সঙ্গী।

আকর্ষণীয় নকশা ও একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত, রেডমি ই-লার্নিং সংস্করণটি সর্বশেষ ১১তম জেনারেল টাইগারলেক ইন্টেল® কোর™ আই থ্রি প্রসেসর, ৪.১ গিগাহার্জের ক্লক স্পিডের সাথে ১১১৫জি৪ এর সাথে প্যাক  করা হয়, যা ল্যাগ-ফ্রি কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করে। এটিতে ৮জিবি ডিডিআর৪ র্যাম ও ২৫৬জিবি সাটা এসএসডি ব্যাবহার করা হয়েছে। ল্যাপটপটিতে হোম অভিজ্ঞতা থেকে কাজ করার জন্য একটি ৭২০পি এইচডি ওয়েবক্যাম দেওয়া হয়েছে।

দুটি রেডমিবুক ল্যাপটপই উইন্ডোজ ১১-এ আউট অফ দ্যা বক্সে চলবে। এটি একটি লাইসেন্সযুক্ত এমএস অফিস প্যাকেজের সাথে প্রি-লোডেড। এছাড়া, এটি আউট অফ দ্যা বক্স প্রোডাক্টিভিটি পাওয়ারহাউস তৈরি করে।

১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করছে মোবাইল অপারেটররা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ

মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ

  • Font increase
  • Font Decrease

মোবাইল অপারেটরগুলো এত দিন ইন্টারনেট সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছিল, গত ১ জুলাই থেকে সেটি ১৫ শতাংশ আদায় করছে। এতে ৬-৮ শতাংশ বেশি দামে গ্রাহকদের ইন্টারনেট কিনতে হবে।

গত ৩০ জুন চিঠি দিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ)।

জানা গেছে, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরগুলো ৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছে। কিন্তু এ ভ্যাটের বিপরীতে রেয়াত গ্রহণ করতে পারছে না অপারেটরগুলো। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিলে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। তাই অপারেটরগুলো ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে চাইছে। এতে অপারেটরগুলোর সুবিধা হলেও গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ ইন্টারনেট কেনায় ১০ শতাংশ ভ্যাট বেশি দিতে হবে।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, গত এক বছর অপারেটরগুলো ৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়েছে। হ্রাসকৃত হার হওয়ায় এই ভ্যাট সমন্বয় করা যায়নি। ফলে কার্যকরি ভ্যাট হার ১৭ শতাংশ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া চলতি বাজেটে ভ্যাট আইনে যেসব সংশোধন আনা হয়েছে, তা হিসাব-নিকাষকে আরো জটিল করে তুলেছে। তাই সব অপারেটর ইন্টারনেট প্যাকেজের ওপর ১৫ শতাংশ আদর্শ হারে ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ইন্টারনেটের দাম ৬-৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

;

থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 

থাইল্যান্ড যাচ্ছে সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশের বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী 

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বনানীর হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠানে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২২, বাংলাদেশের শীর্ষ নয় (৯) শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে। আয়োজনের পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নিতে আগামী মাসে এই বিজয়ীরা থাইল্যান্ড যাবেন এবং এশিয়ার অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে যোগ দিবেন। 

চলতি বছর এই প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এক হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তৃতীয় রাউন্ড তথা বাংলাদেশের ফাইনাল রাউন্ডে শীর্ষ নয় (৯) শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয়। থাইল্যান্ডে এই প্রোগ্রামের পরবর্তী রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রোজেক্ট আইডিয়া এবং সাবমিশনের মাধ্যমে অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবেন। থাইল্যান্ড রাউন্ডের বিজয়ীরা ‘টেক ফর গুড অ্যাকসেলারেটর ক্যাম্প’-এ অংশ নিতে সিঙ্গাপুর যাবেন। প্রোগ্রাম শেষে চ্যাম্পিয়নরা পাবেন হুয়াওয়ে মেটবুক ল্যাপটপ।         

প্রতিযোগিতার নয়জন বিজয়ী হলেন: বুয়েটের গোলাম মাহমুদ সামদানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাদমিন সুলতানা; রুয়েটের মাদিহা বিনতে জাকির ও মেহরিন তাবাসসুম, আইইউটির ওয়াসিফা রহমান রেশমি ও মো. সুমিত হাসান; চুয়েটের মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাজিব শারার শায়ক ও মোহসিনা তাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিওয়েন, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “আমাদের স্টেমের বিষয়গুলোতে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যথাযথ আইসিটি জ্ঞান প্রদান করতে হবে। এ ধরনের প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা এই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। সিডস ফর দ্য ফিউচার আমার কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মনে হয়। আমি নিশ্চিত যে, আমাদের শিক্ষার্থীরাও ঠিক এমনটাই মনে করে। এই উদ্যোগের জন্য আমি হুয়াওয়েকে সাধুবাদ জানাই এবং প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানাই।”

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন বলেন, “হুয়াওয়ে তরুণদের শেখার ও অন্যদের শিখতে উৎসাহিত করার চমৎকার সুযোগ তৈরি করছে। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যা শিখবে তা তাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে, যা পরবর্তীতে সমাজ ও দেশের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিয়েন বলেন, “ইকোসিস্টেমের বিকাশে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে হুয়াওয়ে। যেহেতু তরুণরা এ ইকোসিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; তাই বিশ্বজুড়ে তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা বিকাশের জন্য হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার এমন একটি উদ্যোগ, যা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের এ খাত সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করবে। তরুণ মেধাবীদের বিকাশেও চীনা দূতাবাস কাজ করছে। প্রতি বছর আমরা শিক্ষার্থীদের  চীন সরকারের বৃত্তি, প্রভিন্সিয়াল বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি ও কনফুসিয়াস বৃত্তি দিয়ে থাকি। চীনা দূতাবাস ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের প্রচেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।"

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লি বলেন, “আইসিটি খাতের মেধাবীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি উন্নত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হুয়াওয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মেধাবী তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে হুয়াওয়ে। বাংলাদেশে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে হুয়াওয়ে সবসময় পাশে আছে।”

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বদরবারে নিজেদের চিহ্ন রাখতে হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্যা ফিউচার প্রোগ্রামে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। নিঃসন্দেহে এটি দুর্দান্ত কিছুর শুরু। তরুণদের দিকনির্দেশনায় আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাবো।”

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি চুয়েটের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল বলেন, “সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামে আমরা অনেকগুলো ধাপে অংশ নিয়েছি। এর মধ্যে ছিলো একটি মেন্টরশিপ স্টেজ, যেখানে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এই প্রোগ্রামটি আমাকে এবং আমার মতো আরও অনেককে আইডিয়াকে একটি কার্যকর পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন শিখতে সাহায্য করেছে এবং আমাদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিভিন্নভাবে অবদান রাখছে হুয়াওয়ে। এই বৈশ্বিক আইসিটি অবকাঠামো সেবাদাতা দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের সকল সুবিধা লাভে সাহায্য করছে। ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ হুয়াওয়ের এমনই একটি উদ্যোগ, যা ২০০৮ সালে থাইল্যান্ডে বৈশ্বিকভাবে চালু হয়। এখন পর্যন্ত, এই প্রোগ্রামটি বিশ্বের ১৩৭টি দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী ও পাঁচ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত) এবং নন-স্টেমে শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রোগ্রাম, অংশগ্রহণকারীদের শেখার ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।

;

‘দেশ-সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নাসিমা আক্তার নিশা

নাসিমা আক্তার নিশা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন নিয়ে বার্তা ২৪ এর প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনে নাসিমা আক্তার নিশা, ই-ক্যাবের (ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উইমেন এ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা

প্রশ্ন: প্রগতি উন্নয়ন নির্ভর করে কর্মদক্ষতার ওপর, যা একমাত্র মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভবএকটি উন্নয়নশীল দেশে উচ্চশিক্ষার বিকাশের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছেআপনার মতে গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী কী?

একটি দেশ, জাতি কিংবা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে এর মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর। সঠিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রাযোগিক জ্ঞানের মাধ্যমেই এ কর্মদক্ষতা অর্জন সম্ভব। কোন একটি দেশ বা সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে হবে। কারণ, গতানুগতিক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এ বিশ্বে টিকে থাকতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অনুপ্রাণিত করা হয়। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি হলো এমন জ্ঞান, দক্ষতা ও গুণাবলিকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় জানা, বোঝা বা ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে। বিশ্বায়নের এ যুগে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে শুধু আশপাশের এক-দুটি দেশ নয়, সারা বিশ্বের সব দেশ, দেশের মানুষ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান রপ্ত করতে হবে, হতে হবে ‘গ্লোবালি কম্পিট্যান্ট’। অন্যদিকে, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাকাডেমিক বা পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের ওপর বেশি আলোকপাত করা হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটি তীব্র রূপান্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়ায় প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে; আপনার মতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াটিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতেতরুণ উদ্যোক্তা করপোরেট জনশক্তি তৈরিতেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্বায়নের এ যুগে রূপান্তরিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের শিক্ষা ও শেখার পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন গতানুগিক শিক্ষা পদ্ধতিকে আরো উন্নত ও ত্বরাণ্বিত করেছে। আমাদের দেশে তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে হলে পিপলস স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ সেন্টারের একটি সমীক্ষা বলছে, আমরা আমাদের ক্যারিয়ারে কতটুকু সফল তার ১৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের টেকনিক্যাল বা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ওপর আর বাকি ৮৫ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের পিপল স্কিলস বা সফট স্কিলসের ওপর। বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয় “উই” । সংস্থাটি গড়ে তুলতে, শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের তাদের নৈপুণ্যকে ব্যবসায় পরিণত করতে অনুপ্রাণিত করেছি  সফট স্কিলসের ওপর ভিত্তি করে । বর্তমানে আমরা বিভিন্ন সফ্ট স্কিলস এর উপর প্রশিক্ষণসহ উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম প্রদান, জ্ঞান পরিসর বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছি ।

আমার মতে, শিক্ষা পদ্ধতিতে আধুনিকায়নের সাথে সাথে সফ্ট স্কিলস থাকা উচিত এতে এই সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা আরো তরুণ উদ্যোক্তা ও করপোরেট জনশক্তি তৈরি করতে পারবো।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় আমাদের বর্তমান শিক্ষা পাঠ্যসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের জন্য সহায়ক?

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশে শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে যুগোপযোগী বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে এমন কিছু বিষয় সংযুক্ত করতে হবে যেনো শিক্ষার্থীরা নিজের ও অন্য দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারে, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সবার সমৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী হতে পারে। এছাড়া, নতুনের সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরিচালিত কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতারও তারা বিকাশ ঘটাতে পারবে। 

প্রশ্ন: বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে শিক্ষার্থীদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বিশ্বমানের না হলে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন প্রায় অসম্ভব। তবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে তুলে ধরা যাক, কিছুদিন আগে একজন মোনাশ এর সাবেক শিক্ষার্থী আমিদ হোসাইন চৌধুরীর একটি লেখা আমার নজরে পরে যেখানে এক অনন্য প্রতিষ্ঠানের  ব্যাপারে জানতে পারি। বিস্তারিত পড়ে জানতে পারলাম মোনাশ কলেজ, অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি) দেশে বসেই শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষালাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া, ইউসিবি বৈশ্বিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে বিভিন্ন সফট স্কিলের ওপর বিনামূল্যে কর্মশালা আয়োজন করছে। এতে যোগদান করে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন এবং অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজে ধারণা লাভ করতে পারেন, যা গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ও দেশের পরিচিতি উজ্জ্বল করবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

প্রশ্ন: বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা রাখে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতে দেশে এরূপ পাঠ্যক্রমে শিক্ষা লাভের সুযোগ শিক্ষর্থীরা কিভাবে পেতে পারে?

বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমে উচ্চশিক্ষা কর্মক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে বসে শিক্ষার্থীরা যাতে এ ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজও করছে। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা যাক, এ দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে বসেই তাদের মোনাশ ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা শুরু করতে পারেন, এ ধরনের সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জন্য কাজ করছি। ইউসিবি বাংলাদেশে মোনাশ কলেজ অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি প্রথম বর্ষ ও লেভেল/এস লেভেল/এ লেভেল/ এইচ এস সি  পর পরই ঢাকায় ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশে ফাউন্ডেশন ইয়ার এবং মোনাশ ইউনিভার্সিটি ১ম বর্ষের ডিগ্রি সমমানের প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সত্যিই একটি চমৎকার সুযোগ। আর এভাবেই তারা দেশে বসে বৈশ্বিক পাঠ্যক্রমের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কিছু পরামর্শ এবং উপদেশ যা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে?

বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্বের গুণাবলী, যোগাযোগ দক্ষতা, দূরদর্শিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মতো সফট স্কিল অর্জন করতে হবে। আজকের তরুণ শিক্ষার্থীরাই যেহেতু ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবেন, তাই তাদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন করতেই হবে; এর কোন বিকল্প নেই।  

;

অ্যাপল-গুগলকে টিকটক সরাতে বলল এফসিসি



টেক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অ্যাপল ও গুগলকে তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে টিকটক সরানোর আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) অ্যাপল ও গুগলকে এ বিষয়ে চিঠি লিখেছেন এফসিসি কমিশনার ব্রেন্ডন কার।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ক্ষুদ্র ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি। প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি মার্কিন গ্রাহকের ব্যক্তিগত ডেটা থাকায়, চীন সরকার তা হাতিয়ে নিতে পারে বলেও শঙ্কা এফসিসি’র।

চীনে তৈরি সামাজিক মাধ্যমের এই অ্যাপটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপরই এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বেড়ে যায়। ২০১৮-র অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে সব থেকে বেশি ডাউনলোড করা অ্যাপ ছিল এই টিকটক।

জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ টিকটকের মালিক, চীনা প্রতিষ্ঠান 'বাইটড্যান্স। এটি এমন একটি সংস্থা যা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নজরদারি করে।

টিকটক দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি থাকায় ২০২০ সালে ভারত এটি নিষিদ্ধ করেছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিকটক কীভাবে মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্যকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও ট্রাম্প টিকটক-এর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বা স্থানীয় ক্রেতার কাছে তার মার্কিন ব্যবসা বিক্রি করার বিকল্প প্রস্তাব করেছিলেন।

;