রপ্তানি হবে সিম্ফনির মোবাইল হ্যান্ডসেট

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সিম্ফনির কারখানায় মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরিতে ব্যস্ত কর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

সিম্ফনির কারখানায় মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরিতে ব্যস্ত কর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট রপ্তানি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিম্ফনি।

সিম্ফনির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শহীদ তার এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবোতে অবস্থিত সিম্ফনির কারখানায় মতবিনিময়কালে তিনি সাংবাদিকদের তার এ পরিকল্পনার কথা জানান।

জাকারিয়া শহীদ বলেন, গত জুন থেকে আমরা স্মার্টফোন আমদানি বন্ধ করে দিয়েছি এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় হ্যান্ডসেটের যত চাহিদা রয়েছে, তা এ কারখানায় উৎপাদিত হ্যান্ডসেট দিয়ে পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমাদের এ কারখানায় বর্তমানে প্রতি মাসে সাত থেকে আট লাখ বেসিক ও স্মার্টফোন তৈরি করা হয়।

হ্যান্ডসেটের চাহিদা বাড়ায় সিম্ফনি তাদের কারখানার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এজন্য কারখানার আরো ২টি ইউনিট বাড়ানো হচ্ছে। কারখানার নতুন ২টি ইউনিট আগামী ২০২২ সাল নাগাদ তৈরি হবে এবং এরপরেই আমরা মোবাইল ফোন বিদেশে রপ্তানি করব, যোগ করেন তিনি।

সিম্ফনির কারখানায় মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরিতে ব্যস্ত কর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

জাকারিয়া শহীদ আরো বলেন, সিম্ফনি মার্কেটে আসার আগে মানসম্পন্ন মোবাইল ফোন ছিল অধিকাংশ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বেশি টাকা দিয়ে মোবাইল ফোন কিনতে পারলেও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য তা ছিল ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তখন সিম্ফনির উদ্যোক্তাদের চিন্তা আসে, কীভাবে স্বল্প দামে মানসম্পন্ন মোবাইল ফোন মানুষের হাতের নাগালে দেওয়া যায়। আর এ লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে সিম্ফনির যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক বিক্রিত ব্র্যান্ড হিসেবে সিম্ফনি তার নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। পাশাপাশি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম কর্তৃক মোবাইল ফোন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ডের খেতাব অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করে সিম্ফনি। দেশে প্রতি মাসে স্মার্টফোনের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৯ থেকে ১০ লাখ ইউনিটের। যার ৭০ শতাংশ এখন দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশের মধ্যে ২৫ শতাংশই অবৈধ বাজারের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা সরবরাহ করছেন এবং সরকার এখান থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মোবাইল ফোনের বৈধ ব্যাবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা।

সিম্ফনিতে ৯৮০ কর্মী কাজ করেন। আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন জাকারিয়া শহীদ।

সিম্ফনির কারখানায় মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরিতে ব্যস্ত কর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

তিনি বলেন, ঢাকার অদূরে জিরাবোতে সিম্ফনির এ কারখানা উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর। গেল বছরের ডিসেম্বর থেকেই সিম্ফনি মেড বাই বাংলাদেশ ফোন বাজারজাত করতে শুরু করে। সিম্ফনির বর্তমানে ৩০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। সিম্ফনি মোবাইলের অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্টটি প্রায় ৫৭ হাজার বর্গফুট জমিতে তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে প্রায় ৮.১৬ একর এবং আশুলিয়ায় নিজস্ব ১ লাখ ৭২ হাজার ৮০০ স্কয়ার ফুট জমিতে আরো ২টি কারখানা তৈরি করছে সিম্ফনি।

৩টি কারখানায় এখনো পর্যন্ত সিম্ফনির খরচ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার মতো। কিন্তু প্রডাকশন ক্যাপাসিটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ টাকার পরিমাণ ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শহীদ।