প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব-২

ইস্তাম্বুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশালত্ব দেখে আমার চোখ ছানাবড়া। নবনির্মিত, ঝকঝকে, তকতকে। মুহূর্তে সহস্র যাত্রী একজায়গায় মিলিত হয়ে দূরগ্রামী হচ্ছে। বছরে এই বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতা নাকি ২০ কোটি বলে শুনেছি। ইউরোপের বহু হাওয়াই জাহাজ কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার কেন্দ্র এখন এই বন্দর।

চলন্ত সিঁড়িতে ট্রান্সফার টার্মিনালের দিকে এগিয়ে যাই। এ যাত্রায় ইস্তাম্বুল আমাদের গন্তব্য না। চারঘণ্টা লেওভার শেষে উড়াল দেবো মার্কিন মুলুক মুখো। চলন্ত সিঁড়ির শেষ মাথায় লিফট ও সিঁড়ি। দোতলা থেকে তিনতলায় উঠতেই বৃত্তাকার বিশাল প্রাঙ্গণ। এখানে বিশাল আকারের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে ঘাড় ঘুরিয়ে ট্রান্সফারযাত্রী পরবর্তী ফ্লাইটের গেট নম্বর জেনে নিচ্ছে। চত্বর ঘিরে চারপাশে আলো ঝলমল বিপনী। তাতে বহুবর্ণিল পোশাক, সুগন্ধী, গহনা আর সৌখিন সামগ্রীর বিপুল সম্ভার পকেট উজাড়ের হাতছানি দিচ্ছে। সেসব হাতছানিকে উপেক্ষা করে আমি বরং পকেটে হাতড়ে ফিরছি প্রায়োরিটি পাস কার্ড।

তুসুকে বললাম, এয়ারপোর্টের ওয়াইফাই সুবিধা নিয়ে লাউঞ্জ কোন দিকে তার হদিস করতে। তাতে সুবিধা করতে না পেরে সামনে দাঁড়ানো ইউনিফর্মধারী ফর্সা দীর্ঘাঙ্গিনীর কাছে জিজ্ঞেস করি। সে দেখিয়ে দেয়- সামনে এগিয়ে বাঁ দিকে এসকেলেটর। ওপরে উঠলেই ডানে ইস্তাম্বুল গ্রান্ড এয়ারপোর্ট-আইজিএ লাউঞ্জ। 

আইজি এ লাউঞ্জের দেয়াল মরিচবাতিসজ্জিত

লাউঞ্জে যেতে যেতে আমার স্মরণঅলিন্দে জাবর কাটে পূর্বরাতে হাওয়াই জাহাজে ভেসে আসার সম্পূর্ণরঙিন উড়ালচিত্র। ঢাকা থেকে টেকঅফ করেই টার্কিশএয়ারের সুপরিসর এয়ারবাসটি চলে যায় পশ্চিমবঙ্গের আকাশে। জলি উইন্ডো আসনে। আমি তার দিকে ঝুঁকে পড়ে নিচের আলোকমালায় উদ্ভাসিত কলকাতা, হলদিয়া, বকখালি দেখি। মনে ভেসে ওঠে বিশ্বপর্যটক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী, বৃক্ষবন্ধু কমল চক্রবর্তী, ‘তুই লালপাহাড়ের দেশে যা’খ্যাত অরুণ চক্রবর্তী, কবি বন্ধু সৌমিত বসুসহ অংসখ্য বন্ধুসুহৃদের মুখ। যে আকাশ দিয়ে উড়ছি, এর নিচে বসবাসরত এই বন্ধুস্বজনরা কি এখন ঘুমিয়ে? আসনলাগোয়া মনিটরে স্ক্রিনটাচ বাটন চেপে যাত্রাপথের মানচিত্র বের করি। দেখি কানপুরের ওপর দিয়ে জয়পুরকে বাঁয়ে আর অমৃতসরকে ডানে রাখছে উড়োজাহাজ। মাটি থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার ফুট বিচ্ছিন্ন থাকলেও যেন অপূর্ব যোগাযোগ মৃত্তিকার সঙ্গে। যে মৃত্তিকা একদা মাতৃগর্ভ থেকে আশ্রয় দিয়েছিল নিজবুকে।

ছুটে চলেছি ইসলামবাদ হয়ে কাবুলের দিকে। সৈয়দ মুজতবা আলী, মঈনুস সুলতানের প্রিয় কাবুল। তালেবানরা কি অলরেডি ক্ষমতায়? সেখানে এখন যে অস্থিরতা, এর অবসান হবে কবে? তালেবানের উত্থান দুনিয়াকে কোন বার্তা দিচ্ছে? এসব জিজ্ঞাসা মনে এই জন্য এলো যে, টার্কিশ এয়ালাইন্সে তুরস্ক হয়ে যাচ্ছি আমেরিকায়। আমেরিকা আর তুরস্ক অশান্ত কাবুলে বড় প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র কাবুল ছাড়ছে, কাবুলের  সহযোগিতায় এগুচ্ছে তুরস্ক। আমার মতো নিরেট ভ্রামণিকের মাথায় রাজনীতি- ভূরাজনীতি ঢোকে না। এতোটুকু বুঝি, এই পৃথিবী বড় জটিল এক জায়গা।

পাখিচোখ সোজা নিচে ছাড়াও দূরের শহরকে চোখের ওপর প্রতিভাত করে।  মানচিত্র যাত্রাপথের তিনশ কিলোমিটারের মধ্যকার শহরগুলোর নাম দেখাতে থাকে। তাই এই পথে নানা শহরের নাম আসছে। মজার ব্যাপার, ঢাকা থেকে তুরস্কের পথে এয়ারলাইন্সটি ভারতছাড়া মুসলিমপ্রধান দেশের ওপরকার রুট বেছে নিয়েছে। ভারতের পর পাড়ি দিচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান।

ইতোমধ্যে দীর্ঘাঙ্গিনী তুর্কিসুন্দরী ডিনারের পাট চুকিয়ে আলো নিভিয়ে দিয়েছে। চারদিক আসছে নাকডাকার মজার মিহিন শব্দ। চিকন সুগন্ধিচালের বাটার রাইস, চিকেন, সালাদ আর কালোজাম খেয়ে আমি নির্ঘুমচোখে দেখে চলেছি ভূরাজনীতির সংঘাতময় এই উড়োজাহাজের রুট। যেখান থেকে সিরিয়া, বাগদাদ কিংবা ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিন খুব বেশি দূরে নয়।

আইজিএ লাউঞ্জ

বিমান এখন উড়ছে ইরানের ওপর। ‘শাহনামা’র কবি ফেরদৌসী, কবি হাফিজ ও কবি রুমির কথা মনে ভেসে ওঠে আমার। মনে ভেসে ওঠে সেই বিখ্যাত শায়ের ‘আগার আঁ তুর্কে শীরাজী বদস্ত আ রাদ দিলে মারা/ বখালে হিন্দওয়াশ বখশাম সমরকন্দ ও বোখারা রা’ (সিরাজ শহরে যে তুর্কিসুন্দরী করেছে  হৃদয়হরণ/ ফিরিয়ে তা দিলে তা করবো তাকে সমরকন্দ ও বোখারার উপহারে বরণ)। মনে পড়ে,  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের পারস্য ভ্রমণের কথা। তার পারস্য ভ্রমণগদ্য পড়ে হয়েছি একদা উতলা। সে দেশের ওপর দিয়ে এখন উড়ে চলেছি। তেহরান বাঁয়ে, তুর্কমেনিস্তান ডানে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে জাহাজ উড়তে থাকে আজারবাইজানের বাকু নগরীর দিকে। রাতের অন্ধকারে নিচে তাকিয়ে মানচিত্রের সঙ্গে শহরের আলোকমালা মেলাতে থাকি। চোখে ঘুম নেই। সাগর পাড়ি দেয়ার পর বাকু শহরের আলোকমালা। ডানে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি, বামে আর্মেনিয়া ভেসে ওঠে মানচিত্রে। সিভাস শহরের ওপর দিয়ে তার্কিশ এয়ার প্রবেশ করে নিজ জন্মভূমে। দীর্ঘপথ পাড়ির পর উড়োজাহাজ আঙ্কারাকে বাম পাশ কাটিয়ে যেতে থাকে। আঙ্কারায় এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান। পেশায় গম্ভীর কূটনীতিক, নেশায় সংগঠনপ্রিয়-সংস্কৃতিপ্রাণ রাষ্ট্রদূত আমাদের বন্ধুজন। তার কথা ভাবতে ভাবতেই তুরস্কের পর্বত ও সাগরময় অনেক শহর পেরিয়ে জাহাজ কৃষ্ণসাগর ও মারামার ওপর থিতু হয়ে চক্কর দিতে থাকে। বসফরাসকে আমাদের চোখের সামনে মেলে ধরার পর শহর থেকে দূরে বিমানবন্দরে নামে।

আই জি এ লাউঞ্জের গেটমুখ পৌঁছে দেখি একযুগোল যুবক-যুবতী সামলাচ্ছে বড়সড় লাউঞ্জের রিসেপশন। একজনের পর আমার পালা এলে ‘গুনাইদেন’ বা ‘শুভসকাল’ অভ্যর্থনা পেলাম। ভুলভাল উচ্চারণে বিপরীতে বললাম, ‘তেসিকুল্লের এদেরিম’। সফরসঙ্গী কনিষ্ঠ পুত্র তুসু ঢাকার তুর্কিশ হোপ স্কুলে পড়েছে। কয়েকবছর তুর্কি ভাষাটির কোর্স করতে হয়েছে তাকে। সে সুবাদে আমারও দুয়েকটি তুর্কি শব্দ- বাক্য জানা। তা এস্তেমাল করার মওকা পেয়ে খুশিই হলাম। প্রায়োরিটি লাউঞ্জের এক্সেস ওপেন করে ওয়াইফাই আইডি আর পাসওয়ার্ড হাতে দিয়ে সহাস্যবদন যুবক যুবতী লাউঞ্জে স্বাগত জানালো আমাদের।  বোর্ডিং পাসটি স্বয়ংক্রিয় গেটের বারকোড রিডারে ছোঁয়াতেই গেটখুলে গেলো। ভেতরে সুলতান সোলেমান স্টাইলের রাজকীয় আতিথ্যরাজ্যে প্রবেশ হলো আমাদের।

বিমান চলাচলের ঢাউস বিলবোর্ড

প্রযুক্তিযুগে আধুনিক ভ্রামণিকের ভ্রমণের এই এক মজা। ইবনে বতুতার মতো দিনমান ক্লান্তিকর পদব্রজ পরিভ্রমণই শুধু নেই। এখানে আছে ভ্রমণক্লান্তির পরই ঘরোয়া প্রশান্তি। পকেটের পাস বিশ্বজুড়ে বিমানপোতগুলোতে রেখে দিয়েছে বাঁধা সেবিকার বহুমাত্রিক শুশ্রুষা-যার নাম প্রায়োরিটি লাউঞ্জ। সেখানে খানাপিনা, হোতনা, বসনা, গল্প করনার মতো সব এন্তেজামই খাসা, পাঁচতারকামানের।

আরও পড়ুন: প্রশান্ত পশ্চিম, পর্ব-১

আইজিএ’র লম্বা করিডোর পেরিয়ে বাম হাতে প্রথমে ওয়েটিং লাউঞ্জ। অর্ধবৃত্তাকার টানা সোফাসহ সামনে জোড়ায় জোড়ায় সোফা। নিশিজাগা রাত্রিদের অনেকে গা এলিয়ে ঝিমু্চ্ছে। উল্টোদিকে লাগেজ রাখার সেফবক্স। একটু সামনে ডানে বড় হলের একপাশে রেস্টুরেন্ট। জনা ত্রিশেক একসঙ্গে খানাপিনা করতে পারে এমন সংখ্যায় চেয়ার টেবিলসজ্জিত। রেস্তোরাঁর একদিকে ব্যুফে খাবারের লোভনীয় রকমারি আইটেম ক্ষুৎপিপাসাকাতর যাত্রীর জিহবায় আত্মাহুতি দিতে অপেক্ষমান। বিপরীতে দিকের দেয়াল মরিচবাতিসজ্জিত। অন্যপাশে বিশাল টানা বারান্দা থেকে নিচের বিপনীবাজারের বিশাল লাইভ ক্যানভাস। দোকানের বেচাকোনা, ফ্লাইট ধরতে বোচকাবুচকি নিয়ে যাত্রীদের হন্তদন্ত ছোটাছুটি চোখে পড়ে সে ক্যানভাসে দৃশ্যমান। এসব পেরিয়ে যতোই লাউঞ্জের  গভীরে যাই, ততোই আবিষ্কার করি নতুন নতুন সুবিধা। ভেতরে ডান পাশে বাথরুম-রেস্টরুম কমপ্লেক্স। নরনারীর আলাদা বাথরুম, গোসলখানা, ওজুখানা। রেস্টুরুম বা বাথরুম নাম শুনলে মনে যে চিত্রকল্পের উদয় হয়, এটি তার উল্টো। পুরো লাউঞ্জের বাথরুমই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। পরিচ্ছন্ন, সুগন্ধিময় ও দৃষ্টিনন্দন বাথরুমে বহুঘন্টা পার করে দেয়া যায়। সবচেয়ে আকর্ষণ এর মাল্টিফেইথ প্রেয়ার রুম। ওজুখানাসহ গোলাকৃতি নামাজঘর যেমন আছে, তেমনি আছে প্রার্থনা ও পড়ার ব্যবস্থা। এই রেস্টরুম পেরিয়ে বাঁয়ে উন্মুক্ত ক্যাফেতে আবেশ ছড়ানোর পানীয়ের ব্যবস্থা। ওয়েটাররা অপেক্ষমান আদেশের অপেক্ষায়।

পছন্দমতো জায়গা বেছে নিতে সব হল ঘুরে দেখি। নিশিজাগা যাত্রীরা বিশ্রামরত। যে যেখানে পেরেছে ঘুমিয়ে আছে স্বপ্নের জগতে। পছন্দমতো চারটি সিঙ্গেল সোফা ও গোলাকার সেন্টার টেবিলে দেখে আমরা হাতের লাগেজপত্র নামাই। হাতমুখ ধুয়ে আসি। থরে থরে সজ্জিত তুর্কিশ ক্যুইজিন থেকে নানারকম খাবার নিয়ে আরাম করে খাই। রাইস স্যুপ, ব্রেড, হানি, জেলি, স্যামন সালাদ এসব। 

আইজিএ লাউঞ্জের একাংশ

চারদিকের পরিবেশ ঘুমানোর এন্তার এন্তেজাম। মাত্র চারঘন্টা পরই বোর্ডিংগেটে চলে যেতে হবে বলে ঘুমাতে চাচ্ছি না। সফরসঙ্গী জলি ও তুসুকে ঘুমানোর সুযোগ দিয়ে আমি জেগে বইয়ে মনযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর ঘুমজড়ানো চোখেই জলি উঠে বসে-

‘তুসু থাক, চলো নিচে ঘুরি আসি’।

সে বোধ হয় কিছু কিনতে চায়। ডিউটি ফ্রি’তে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তেমন কিছুই কেনার পাই না বা কিনি না। ফিরে আসি।

আমেরিকার পশ্চিম উপকূলশহর সানফ্রানসিস্কোর উদ্দেশে আমাদের পরের ফ্লাইট টি কে ২৮৯ ছেড়ে যাবে সকাল আটটা পঁচিশে। ঘণ্টাকাল আগেই আইজিএ লাউঞ্জের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে বোর্ডিংগেটের নম্বর ভেসে ওঠে-ডি ১১। লাউঞ্জ থেকে এর দূ্রত্ব আধকিলোমিটারের কম নয়। তাই সোলেমানী আতিথ্যের পাট চুকিয়ে আমরা হাতব্যাগ গুছিয়ে সেদিকে রওনা দেই। আমেরিকার ফ্লাইট। আমাদের পাসপোর্টে  মাহমুদ আর মাহমুদ, আমরা বিশ্বাসী মুসলিম। নিরাপত্তার তোড়জোড় একটু বেশিই।  

   

পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শান্তা-শাওন দম্পতি



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, ট্রাভেল এন্ড ট্যুর
পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় দম্পতি

পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় দম্পতি

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি এক প্রাণোচ্ছল ভ্রমণপিপাসু দম্পতি পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াতে পৌঁছান। ‘প্রতিটি প্রাণ মূল্যবান, আত্মহত্যা নয়- বাঁচতে শিখি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চলতি বছরের গত ২৮ জুন পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে ভ্রমণ শুরুর পর শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে ভ্রমণ শেষ করেন তারা।

ব্যাংকার শারাবান তহুরা শান্তা এবং আর্কিটেক্ট আল ইমরান শাওন তাদের পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও এই সময় বের করে আত্মহত্যা নয় বাঁচতে শেখার প্রতিপাদ্যকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। দম্পতির ভাষ্যমতে তাদের এই ভ্রমণে তারা প্রচুর মানুষের সাথে বিশেষ করে তরুণ তরুণী এবং স্কুলের বাচ্চাদের সাথে কথা বলেছেন, দেশকে দেশের মানুষকে নতুন করে চিনেছেন এবং অনেককে নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করেছেন ও সচেতন করেছেন। চলার এই পথে তারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। নতুন কিছু শিখতে, মানুষকে জীবন সম্পর্কে জানাতে ও সচেতন করার অভিপ্রায় তাদের পিছু হটতে দেয়নি।

ইনানীতে কয়েকজন তরুণ তাদের স্বাগত জানায়

বার্তা২৪ কে শান্তা বলেন, বিগত ২৮ জুন আমরা হাঁটা শুরু করি টেকনাফের শাহীপরীর দ্বীপ থেকে। প্রথমদিন প্রায় ২৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে বড়ডিলের মরিসবুনিয়া স্কুলের নৈশপ্রহরীর বাড়িতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা হয়। সেদিন রাতে আমাদের সাথে একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। মাঝরাতের দিকে হাতির পাল আমাদের থাকার ঘরে আক্রমণ করে বসে। নৈশ প্রহরীর পরিবারের সাথে দৌড় দিয়ে স্কুল ঘরে গিয়ে উঠি এবং বাকি রাতটা আমাদের সেখানেই কাটে। দ্বিতীয় দিন ছিল ঈদের দিন, সেদিন প্রায় ৩৬ কিলোমিটার হেঁটে থেকে ইনানী বিচ পর্যন্ত যাই। ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে ১০ দিনে ৪০০ কিলোমিটার কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত পৌঁছাই। পরের সপ্তাহে দাউদকান্দি থেকে হেঁটে ঢাকার রামপুরা পর্যন্ত আসি। অতঃপর মায়ের অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা এবং অফিসের ব্যস্ততার কারণে কয়েক সপ্তাহ বিরতি নিয়ে পুনরায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাঁটা শুরু করি। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আরিচা হয়ে ট্রলারে যমুনা পাড়ি দিয়ে কখনো হাইওয়ে ধরে আবার কখনো লোকাল রাস্তা দিয়ে হেঁটে উত্তরের সীমান্ত তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছে ভ্রমণ শেষ করি।

 পুরো ভ্রমণে কোনো সমস্যায় পরতে হয়েছিল কিনা তার জবাবে শান্তা জানান। ফেনী ক্রস করার পর আমার স্বামী আমাকে ফেলে বেশ খানিকটা এগিয়ে যাওয়ায় ৫/৬ জন বখাটে আমাকে ঘিরে ধারে নানানভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে এবং অনৈতিক কথা বলতে থাকে। সেসময় আমি সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করায় এবং উপস্থিত বুদ্ধি খাঁটিয়ে ওদের ভয় দেখানোতে ওরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা ছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তবে আমাদের দেশে পাবলিক টয়লেট না থাকে চলতি পথে ভ্রামনিকদের খানিকটা সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের দেশের মানুষজন খুব ভাল এবং সাহায্যপরায়ণ।

অনিন্দ্যসুন্দর এক রাস্তায় ভ্রামনিক শান্তা

শাওন বার্তা২৪ কে বলেন, আমরা ঐকান্তিক চেষ্টা ছিল দেশব্যাপী পায়ে হেঁটে ঘোরার এবং মানুষের মধ্যে জীবনের বানী পৌঁছে দেবার এবং শত বাধার পরেও আমরা চেষ্টা করে গেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং মূল প্রতিবাদ্যকে মাথায় রেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ভ্রমণ করার ইচ্ছে আছে আমাদের। আমি বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানাই এবং আউটডোর বিডি এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি এই ভ্রমণে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দেবার জন্য।

স্কুলের বাচ্চাদের সাথে মতবিনিম

আউটডোর বিডির ফাউন্ডার জুয়েল রানা বার্তা২৪ কে বলেন, আমি নিজে একজন ভ্রমণপাগল মানুষ। আউটডোর বিডি’র উদ্দেশ্যেই হলো একজন পরিব্রাজক বা ভ্রমণকারী যাতে হাতের কাছেই সহজলভ্যে সকল ভ্রমণ সামগ্রী পান। শান্তা ও শাওন দম্পতি এই ভ্রমণ সম্পন্ন করায় আমরা খুশি এবং তাদের এই ভ্রমণ দেখে আরও মানুষ উদ্বুদ্ধ হোক আমরা সেটাই চাই।

;

ইন-ফ্লাইট সার্ভিস ক্যাটাগরিতে গোল্ড পুরস্কার পেলো এয়ার এ্যাস্ট্রা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
গোল্ড পুরস্কার নিচ্ছেন এয়ার এ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ। ছবি : সংগৃহীত

গোল্ড পুরস্কার নিচ্ছেন এয়ার এ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ। ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মনিটর এয়ারলাইন অব দ্য ইয়ার ২০২৩’- এর বেস্ট ইন-ফ্লাইট সার্ভিস ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে এয়ার এ্যাস্ট্রা।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ মনিটর আয়োজিত গালা অ্যাওয়ার্ড নাইটে এয়ার এ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফের হাতে বেস্ট ইন-ফ্লাইট সার্ভিস ক্যাটাগরির গোল্ড পুরস্কার তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, এমপি।

যাত্রী সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতির জন্য পরিচিত এয়ার এ্যাস্ট্রা ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে বর্তমানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর এবং সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এয়ার এ্যাস্ট্রা’র বহরে বর্তমানে তিনটি এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট রয়েছে, যা ফ্রান্সে নির্মিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টার্বোপ্রপ এয়ারক্রাফট এবং ৭০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম।

বাংলাদেশ মনিটর তাদের বাৎসরিক কার্যক্রম হিসেবে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ‘এয়ারলাইন অব দ্য ইয়ার’ প্রবর্তন করে। এভিয়েশন ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ মনিটর’-এর জরিপের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়।

বিগত এক বছরে যারা কমপক্ষে তিনবার আকাশপথে ভ্রমণ করেছেন, তারা অনলাইনে নিজের পছন্দের এয়ারলাইন্সকে ভোট দিতে পেরেছেন।

;

সিলেটে একসঙ্গে ঘুরে দেখা যাবে ২৩টি পর্যটন স্পট



মশাহিদ আলী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট। সিলেটের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে উঁকি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। আর সেই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিদিন সিলেটে বেড়াতে আসেন হাজার হাজার পর্যটকরা।

কিন্তু পর্যটন স্পটগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালো না থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঘুরতে আসা পর্যটকদের। তবে এবার পর্যটক ও এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে নেয়া হয়েছে উদ্যোগ। দুই দিনে এক সঙ্গে ২৩টি স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

জানা যায়, সিলেটের ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির দিক নির্দেশনায় সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার প্রেরিত ২০২৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর হয়ে জাফলং পর্যন্ত একটি সড়ক তৈরির প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। আর সেই প্রস্তাবনা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রাথমিক জরিপ সম্পন্ন করেছে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এই তিনদিন সিলেটে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে। কারণ শুক্রবার ও শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় চাকরিজীবিরা আসা যাওয়া করেন। তাদের অনেকেই একদিনে প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি জাফলং ও পাথর সাম্রাজ্য সাদাপাথর ঘুরে দেখতে চান। কিন্তু সময় ও ভোগান্তির কারণে তা আর একদিনে ঘুরে বেড়ানো যায় না। কারণ যেখানে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিলে জাফলং থেকে সাদাপাথর যাওয়া সম্ভব সেখানে পাড়ি দিতে হয় ১২০ কিলোমিটার। আর এই ১২০ কিলোমিটারে পাড়ি দিতে গিয়ে হাতছাড়া হয়ে যায় আর ৫টি পর্যটন স্পট। জাফলং থেকে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর প্রতিমধ্যে পান্তুমাই, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, শ্রীপুর, শাপলা বিল, লাক্কাতুড়া চা বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যাবে।

সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটক দর্শনার্থীদের ভ্রমণকে সহজতর এবং আরামদায়ক করণে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত সড়কটি বাস্তবে রূপান্তরিত হলে এখানে আসা পর্যটকরা একটি সড়কে যাতায়াত করে ২ দিনে ২৩টি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন। সড়কটি নির্মাণ করা হলে সিলেটের পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। সেই সাথে পর্যটন শিল্পে সরকারি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এই অঞ্চলের মানুষের কর্মস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।

জাফলং-কোম্পানিগঞ্জের সাদাপাথর পর্যন্ত সড়ক তৈরির বিষয়ে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরকে নির্দেশনা দিয়ে পত্র পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে প্রাথমিক জরিপের কাজ শেষ করেছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সিলেট।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে তারা প্রাথমিক জরিপ কাজ শেষ করেছেন। এই প্রকল্পটির আশপাশে আরও কয়েকটি চলমান প্রকল্প থাকায় এই সড়ক নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

আর গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জাফলং থেকে সাদাপাথর বা সাদাপাথর থেকে জাফলং যেতে হলে ভিন্ন সড়ক ব্যবহার করতে হয়।এতে করে সময় খরচ দুটিই বাড়ে।গোয়াইনঘাটের জাফলং থেকে কোম্পানিগঞ্জের সাদাপাথর পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণে সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। সড়কটি বাস্তবায়িত হলে এক সড়ক দিয়েই অনেকগুলো স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন পর্যটক দর্শনার্থীরা।

;

থাইল্যান্ড ভ্রমণে তাপ ও বৃষ্টি থেকে সাবধান!



মাজেদুল নয়ন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সাউথ ইস্ট এশিয়া, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন ঋতুর দেশ থাইল্যান্ড। বর্তমানে চলছে বর্ষাকাল। তবে বৃষ্টি যখন থাকে না তখন প্রচণ্ড রোদের তাপ। অন্তত গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায়ই বিকেলের দিকে বৃষ্টি হচ্ছে এবং দিনের বেলায় গরমে অতিষ্ঠ হচ্ছে মানুষ।

এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদফতর প্রয়োজন না হলে জনগণকে রোদে বের না হওয়ার জন্য এবং বৃষ্টিতে ভিজলে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে। 

এমন গরম আবহাওয়ায় স্থানীয় থাই জনগোষ্ঠীর পছন্দের বেড়ানো বা সময় কাটানোর জায়গা হচ্ছে বড় শপিংমলগুলো। তবে পর্যটকদের শুধু শপিং মলে ঘুরে পোষাবে না। তাই ছাতা, ক্যাপ এবং সঙ্গে পানি রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্যাংককের তামপাত্রা ৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট। তবে সেটা ৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। এমন গরমে বিশেষত শিশুদের বারবার পানি পান করানো এবং ছায়াযুক্ত স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জুন মাসের পর থেকে থাইল্যান্ডে পুরোপুরি বর্ষা। তবে বর্ষাতেও বৃষ্টি ছাড়াও রোদের তাপ থাকে প্রচুর। থাইল্যান্ডে বর্ষা চলবে অক্টোবর পর্যন্ত। এরপরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্দ্র এবং শীতল। এ সময়টায় চিয়াং মাই বা চিয়াং রাইয়ের মতো উত্তর থাইল্যান্ডে পুরোপুরি শীত অনুভূত হয়। তবে গালফ অব থাইল্যান্ড এবং আন্দামানের তীরের ভূমিতে শীত কখনোই অনুভুত হয় না। বরং গরমই থাকে।

যেহেতু বাংলাদেশের পর্যটকরা বেশিরভাগই সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে বেড়াতে যান, তাই সবসময় হালকা এবং উজ্জ্বল রংয়ের কাপড় পড়ার পরামর্শ থাকবে। কারণ এই অঞ্চলগুলোতে এবং দ্বীপগুলোতে বেশিরভাগ সময় গরমই থাকে।

এসব স্থানে ভ্রমণের সময় শিশু ও বয়স্কদের গরম থেকে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ছায়ায় থাকা, পানি পান করা, ভিটামিন সি গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তবে ব্যাংকক, উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এখন বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি। ব্যাংককে বিকেল নাগাদ ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। তাই এসময় নাইট মার্কেট বা খোলা স্থানে যাওয়ার সময় সঙ্গে ছাতা বা রেইনকোট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর এখানে সেভেন ইলেভেনের মতো সুপারশপগুলোতে একবার ব্যবহারের জন্য ছাতা এবং রেইনকোট পাওয়া যায়।

তবে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে পরবর্তীতে গোসল করার পরামর্শ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

;