প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব-৩

লাউঞ্জ ফ্লোর থেকে বিপনীতলায় নেমে লিফটে উঠি। নিচের ফ্লোরের ডি-১১তে আমাদের বোর্ডিং গেট। তুসু সমান্তরাল চলন্ত ওয়াকওয়ের ওপর কেবিন ব্যাগ রেখেছে। পিঠে ব্যাকপাক নিয়ে চলেছে আমাদের আগে আগে। সে আমাদের পিছনে ভৃপৃষ্ঠে এলেও এখন অগ্রবর্তী, আশার আলো।  জলি আর আমি আস্তে আস্তে গিয়ে উঠি স্বতঃশ্চল সে রাস্তায়। যেসব গেটমুখে বিমানের বোর্ডিং শুরু হয়েছে কিংবা বিমান ছাড়ার সময় লাস্ট কল দেয়া হচ্ছে, সেসবের দিকে চলন্ত ওয়াকওয়ে’র ওপর দিয়ে  যাত্রীরা দৌড়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরে এই এক সুবিধা। লাগেজপত্র নিয়ে ঘুরে ঘুরে গেটমুখে যেতে যাতে ক্লান্তি না আসে যাত্রীদের, সে জন্য থাকে চলন্ত পথ। নতুন বিমানবন্দর হলে তো কথাই নেই।

মাথার ওপর অর্ধবৃত্তাকার ডোমের নিচে এই চলন্ত ওয়াকওয়ের দু’পাশে যুক্ত অসংখ্য বোর্ডিং গেট। একটি ওয়াকওয়েতে উঠে লোকজন একেক গেট থেকে যাত্রা করছে একেক দেশের দিকে। কেউ পাড়ি দেবে আটলান্টিক, কেউ প্রশান্ত। আবার কেউ ফিরতি পথে আরবসাগর পার, ভারত, চীন, জাপান সাগর বা বঙ্গোপসাগরের দেশের দিকে ছুটবে।  জীবন চলার পথে কখনো আমরা একই পথের পথিক, শেষমেষ পথ চলে যায় ভিন্নপথে। এ যেন ‘লাকুম দ্বীনুকুম, ওয়ালিয়া দ্বীন’-তোমার জন্য তোমার ধর্ম, আমার জন্য আমার। কিংবা ওই যে গান ‘আজ দু’জনার দুটি পথ, ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে’…..।

ডি-১১ থেকে ছাড়বে ফ্লাইট ২৮৯, ইস্তাম্বুল-সানফ্রানসিস্কো। গেটমুখে বেশিই কড়াকড়ি। আমেরিকা ঢোকার আগে এখান থেকেই যেন সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থা বোর্ডিং ওয়েটিং এরিয়ায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে।  কোভিড টেস্টের সনদ, পাসপোর্ট-ভিসা, বোর্ডিং পাস দেখানোর পর আমাদের  লাগেজপত্র নিরাপত্তা চেকের যোগ্য হয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ চেকের পর প্রবেশাধিকার পাই। কিছুক্ষণ পর ডাক আসে বিমানে ওঠার। আমি এক্সাইটেড। জীবনের শত শত উড়ালের মধ্যে আজ উঠতে যাচ্ছি ব্রান্ড নিউ বোয়িং ড্রিমলাইনার এর ৭৮৭-৯ এয়ারক্রাফটে। গেটমুখে আসার সময় ট্যাক্সিওয়েতে টার্কিশ উড়োজাহাজের যে বিশাল সারি দেখেছি, বোয়িং ড্রিমলাইনার তার মধ্য সবচেয়ে বিলাসবহুল ও আধুনিক। আমাদের আলটিমেট গন্তব্যও বোয়িংরাজ্য সিয়াটলে।

বিমানের ভিতরে ঢুকেই ‘সেইরাম’ শব্দটি মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলে আমার। আধুনিক বিমানটিতে তিন সারিতে তিনটি করে আসন। তুসু বিজনেস ক্লাসের পিছনের কম্পার্টমেন্টেই জানালার কাছে আসন পেয়েছে। আমি আর জলি এর পেছনেই পাখার ওপরের কম্পার্টমেন্টে আসন পেয়েছি। তুসুর পাশে বসেছে রাশভারী দুই গদাধরি মধ্যবয়স্ক। জানালার পাশ থেকে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজনে দুই গদাধরিকে উঠতে বলা তার কম্ম নয়। তাই তার আসন জুৎসই হয়েছে বলে বলা যাবে না। যদি উপকারে না আসে, বহু মূল্যবান জিনিসও ফেলনা হয়ে যায় জীবনে।  আমাদের সারিতে তিন আসনের একটি ফাঁকা। ভয় পাচ্ছি কেউ যদি চলে আসে , দীর্ঘযাত্রার আয়েশ আরাম হারাম হবে। তুসুর পাশে দুই গদাধরিকে দেখার পর আল্লাহ আল্লাহ করছি কেউ যেন না আসে পাশে।


ভাবনার মধ্যেই বোর্ডিং চলার শেষপর্যায়ে  এক তন্বী তরুণী এগিয়ে এলো ঘাড় ঘুরিয়ে আসন নম্বর খুঁজতে খুঁজতে। মধ্য সারিতে নিজের আসন পাওয়ার পরও  সামনের আসনে বসা তরুণের পাশে ‘মে আই’ বলে বসে পড়লো । সদাহাস্য তরুণটি একাই বসেছিল তিন আসনের সারিতে। এখনও দুটি ফাঁকা। আলাপে বুঝেছি, ইউরোপ থেকে সে পাড়ি জমাচ্ছে আমেরিকায়। বোর্ডিং প্রায় শেষ। আমাদের সামনে পেছনে সবাই বসে গেছে। বিমান রানওয়ের দিকে রওয়ানা হবে হবে ভাব। এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে সামনের দিক থেকে এক চিকন সুন্দরী আসন দেখতে দেখতে এগিয়ে আসছে। আধুনিক পরিধেয়সজ্জিত। পরনে জিন্স, ছোট্ টি শার্ট। লম্বা, স্লিমফিগারের। মন বলে ওঠে: সে যদি বসে বসুক।

জলিকে বললাম,

: আসন বোধ হয় আর ফাঁকা রাখা গেল না। পাশের আসন বোধ হয় এই আগমনীর। সে যদি বসে বসুক। 

: এতোক্ষণ তো আল্লাহ আল্লাহ করছিলে, কেউ যাতে না আসে। এখন তোমার আল্লাহ কোথায় গেল?’-জলি বললো।

: তার আসন হলে আর নিষেধ করতে পারবো না।

: হ্যাঁ, বুঝছি’

বলে জলি জানালা আমাকে ছেড়ে দিয়ে মাঝের আসনে বসতে উদ্যত হলো।

চিকনসুন্দরী ধীরপদক্ষেপে এগিয়ে এসে আমাদের সামনেই থামলো। হার্টবিট বাড়ছে, এই বুঝি এক্সিউজ মি বলে বসে পড়ে।

একবার  সেওপরের দিকে তাকালো। নব্য আগন্তুকা তখনও পাশের সদাহাস্য তরুণের সঙ্গে আলাপরতা। দু’চার কথায় কেবলতারা ঘনিষ্ঠমান। এ অঙ্কেই চিকন সুন্দরীর  উদয়। আসন নম্বরে চোখ বুলিয়ে অস্থিরকন্ঠে মেয়েটিকে প্রশ্ন করলো-

‘হোয়াটস ইওর সীট নম্বর”?

আগন্তুকা বিনাবাক্যব্যয়ে আসন ছেড়ে মধ্য সারিতে নিজ আসনে বসলো।

চিকন সুন্দরীর কন্ঠনি:সৃত ‘হোয়াটস ইওর সীট নম্বর’ বাক্যটি আমার কানে শোনালো ‘তুই ক্যাঠা, আমার ভাগ্যে ভাগ বহাতে আইছোস’ এর মতো। 

জলি আর আমার চোখ সামনের আসনের দিকেই স্থির। তিন আসনের সারিতে জানালায় তরুণের একাকী বসা, আরেক তন্বীর তার পাশে বসে আলাপ জমানো আর শেষমেষ আরেক এসে তাকে ভাগিয়ে নিজের আসন বুঝে নিয়ে আলাপ জমানোর মধ্য দিয়ে নাট্যাংশের যবনিকা। আমরা চোখাচোখি করি। পাশের আসনের গুঞ্জরণ প্রলম্বিত হওয়া শুরু হয়।  জানি না, ফ্লাইটের সঙ্গ আসন কতোজনের ভাগ্যে প্রেম জুটিয়ে দিয়েছে। আজকের গুঞ্জরণে মনে হচ্ছে অন্তত একটি হলেও সঙ্গআসন সঙ্গী জুটাবে।এরই মধ্যে বিমান রানওয়েতে টেকঅফের জন্য দৌড়াচ্ছে।


ইস্তাম্বুল থেকে সোজা পশ্চিমে আটলান্টিক সাগরের দিকেমুখ না করে ড্রিমলাইনার যাত্রা করলো সোজা উত্তরে।হালে আমেরিকা-কানাডার আকাশ রাস্তায় অতলান্ত-প্রশান্তকে এড়িয়ে যাওয়ার চল হয়েছে। পৃথিবী বৃত্তাকার, তাই যে কোন দিক থেকেচক্কর দিতে বাধা নেই।  অনেক এয়ারলাইন বেছে নিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু। আমি নিজে একযুগ আগেই থাইএয়ারওয়েজের ননস্টপ ফ্লাইটে এসেছি নিউইয়র্কে। আটলান্টিক ও প্রশান্ত রুটে পানির ওপরই টানা আটদশঘণ্টা উড়তে হয়। উড়োহাজাজগুলো বাতাসের বেগ নিয়ে আকাশে চললেও মৃত্তিকামুখী। মাটির স্পর্শ না পেলেও এর ওপর দিয়েই চলতে চায়। মাটির স্পর্শ আমাদের বড় প্রয়োজন।

বলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এর ওপর দিয়ে তা পাড়ি জমালো নরওয়ের আকাশে। গতিবেগ ঘন্টায় নয়শ কিলোমিটারের বেশি। আকাশ পথে পাড়ি দিতে হবে এগারোহাজার কিলোমিটার। নরওয়েজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে পৌছালো গ্রিনল্যান্ডের বরফরাজ্যে। এসব দেখছি যখন বিমানের ত্রিমাত্রিক মানচিত্রে, তখন ভেতরে এক ভিন্ন জগত। বিমানের জানালাগুলোর গ্লাসের স্বাভাবিক রঙ বদল করে রাতের নীবিড়তা আনা হয়েছে। নিচের তুষাররাজ্যের ওপর সূর্যের আলো বড়  তীর্যক হয়ে পড়ে। জানালার রঙ বদল করে সূর্যালোকের কড়া তেজ থেকে যাত্রীদের প্রশান্তি দেয়ার আয়োজন। কৃত্রিম আলোয় ভেতরে আয়োজন খানাপিনার।

টার্কিশ এয়ার এ রুটটিতে অনেকখানিই উদার। ঢাকা-ইস্তাম্বুল যে আতিথ্য পেয়েছি, এখানে পাচ্ছি তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ড্রিমলাইনারের হোস্টেজগণকে ডানাকাটা পরী বললে কম বলা হবে। ফর্সা লম্বালতা দেহে আঁটসাটো খয়েরি ইউনিফর্ম তাদের দিয়েছে আরও কমনীয়তা। তুরস্ক মুসলিম দেশ হলেও ইরেশিয়ার দেশ। ব্যবসা জানে। আজকের আতিথ্যে মেন্যু সার্ভ হয়েছে আগে ভাগে। যাতে খাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। মেন্যুতে দেখি,পাস্তা ও বিশেষ তুর্কি কেতার বিফ । এ্যাপিটাইজার, চা, কফি, কোমল ও’শক্ত’ পানীয়ও নেয়া যাবে ইচ্ছেমতো। তেরোঘন্টার ফ্লাইটে সারাক্ষণই থাকবে জুস আর স্যান্ডউইচ। পুরো দিন কাটাতে হবে আকাশে বাতাসে।  ভারী খাবার চাই। আমরা বিফেই কম্পোর্টেবল। পাতে তাই এলো।

আমার পাশ্ববর্তিনীর অনুযোগ খাওয়ার প্রসঙ্গ এলেই আমি নাকি দুইবার জিহ্বা নাড়িয়ে ঠোঁট লেহন করি। লোভাতুর মুখ চকচক করে ওঠে আমার। সে এখন চল্লিশ হাজার ফুট নিচে দেখার কসরত করে যাচ্ছে কিংবা ফ্লাইট রুটের মানচিত্রে বুঁদ, তাই খাওয়া নিয়ে আমার মুখের অভিব্যক্তি দেখার ফুরসত নেই তার।

আইসল্যান্ডকে বাঁয়ে রেখে গ্রিনল্যান্ডর সফেদ বরফরাজ্য কেটে উড়ছে বোয়িংয়ের বিস্ময়কর উড়ালপাখি ড্রিমলাইনার। নিচে সাদা ফকফকে। এখানে শ্বেতভল্লুকই কেবল বাঁচতে পারে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে দেখেছি, বাঁচা ও খাবারদাবারের সন্ধানে বরফরাজ্যের বিয়ার কতো না লড়াই করে চলে নিত্যদিন। উত্তরমেরুর ওপর দিয়ে উড়াল নিয়ে যখন নানা ভাবনা ভাবছি, আমাদের ফ্লাইট বাফিন বে পাড়ি দিয়ে কানাডায় ঢুকে পড়েছে। কানাডা বৃটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের ক্যালগেরি শহরকে ডানে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও অরেগন রাজ্য পেরিয়ে উড়তে থাকে সানফ্রানসিস্কোর আকাশে। ভাগ্যিস, এখন কোন বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করছি না। তখন বন্ধু হয়তো বলতো, আমেরিকা যাবা তো কানাডা গেছো ক্যানে? সে দেশে তো আরও পশ্চিমে! একবার যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথে চীনে একরাতের ট্রানজিটে ছিলাম। একবন্ধুর সঙ্গে ফোনে আলাপ হচ্ছিলো, সে বললো, আমেরিকা যাবা তো পূবের দেশ চীনে ক্যানে?

এখন বন্ধুর নয়, কেবিনক্রুর কণ্ঠ শুনি‘লেডিজ এ্যান্ড জেন্টেলম্যান, উই এ্যরাইভড সানফ্রানসিস্কো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।

আরও পড়ুন: প্রশান্ত পশ্চিম-২

প্রশান্ত পশ্চিম, পর্ব-১

 

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;