প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব-৬

ক্রিস্টাল মাউন্টেনের সাত হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে আকস্মিক আমার গা কাঁপছে। সামিট হাউসের ইলিশিয়ান ডেস্ক থেকে ব্লুবেরি সাইডার কিনে সামনের আকাশরেখায় পাতা টেবিলসারির একটা জুড়ে বসেছি। অন্য টেবিলেগুলোতে নানাদেশের পাহাড়প্রেমী পর্যটকের খানাপিনার টুংটাং। আমার সঙ্গীরা তখনও স্যান্ডউইচ ও বিফ র‍্যাপ সংগ্রহের লাইনে। একসঙ্গে আটাত্তর ডলার দাম চুকানো হলেও সাইডার ক্যানটি কাউন্টার থেকেই হাতে পেয়েছি, অন্য আইটেম বানিয়ে দেয়া হবে বলে সময়সাপেক্ষ। আমার তর সইছে না। তবিয়ত ঠিক রাখতে দ্রুত রক্তস্রোতে কিছু চালান করে দিতে হবে।  ক্যানটি ডাবল সাইজ বিয়ারের মতো, মাত্রাও সাত শতাংশের মতো। পাহাড়শীর্ষে জীবন বাঁচাতে আর কিছু করার নেই। ক্যানটি খুলে যখন চুমুক দিতে যাবো, তখনই কুট্টুস শব্দ করে এক পাহাড়ি পাখি এসে টেবিলে হাজির। একদম হাতের কাছে। আমাদের দোয়েলের চেয়ে ছোট, চড়ুইয়ের চেয়ে বড় ভাই। ভদ্রগোছের শান্তপাখি। এখানে নাম উইলো ফ্লাইকাচার। মনুষ্যভীতিতে তোয়াক্কা না করে আদুরে ভঙ্গিতে ফুরুৎ করে উড়ে কাছে আসায় ভাবি খাবারের খোঁজে হন্যে সে। ন্যাটজিও টের পেলে এতো উচ্চতা বাস করার পাখির ওপর প্রামাণ্যচিত্র বানাতো। এতোটা উচ্চতায় আমার মতো তার গাও কাঁপছে কিনা কে জানে!

হেঁটে চলেছি মাউন্ড রেইনিয়ারের দিকে

ওয়ানটাইম গ্লাসে খানিকটা মিস্টি সাইডার ঢেলে পাখিকে  দিতে যাচ্ছি, এমন সময় পাশের নোটিশবোর্ডের দিকে শাহাদত আঙুল উঁচিয়ে সতর্ক করলো মধ্যবয়স্ক রেস্তোরা কর্মী। নোটিশে লেখা’ হিউম্যান ফুড ক্যান বি ডেডলি ফর হাই অলডিচ্যুড ক্রিটার্স, ডন্ট ফিড দেম, ইভেন ইফ দে বেগ’। কথা পরিস্কার। আমি পাত্র সরিয়ে সাইডার না ঢেলে  লম্বা একটা চুমুক দিই। বিয়ারের স্বাদ তিতা হলেও এই ব্লুবেরি সাইডার মিষ্টি। টাইটন সাইডার ওয়ার্কস কোম্পানি  ইয়াকিমা উপত্যকার নিজস্ব খামারের তাজা ফল থেকে তৈরি করেছে এই মহার্ঘ। গুনাগুন ও ফুডভ্যালুর কথা লেখা আছে ক্যানের গায়ে। কয়েক চুমুকে থাতস্থ হওয়ার পর আমি  পরিচ্ছন্নকর্মীর ওপর মনোযোগ দিই। ইতোমধ্যে পাখিটি ফুরুৎ করে উড়ে হাতের নাগালের মধ্যেই পাশের ঝাওগাছের ডালে বসেছে। আজন্ম অকর্তিত শ্রুশ্মুগুম্ফওলা মধ্যবয়স্ক রেস্তোরাকর্মী টকটকে ফর্সা ও নাদুসনুদুস চেহারার। যেসব পাহাড়প্রেমী প্রচুর টাকা খরচ করে গন্ডোলাচেপে বা পাহাড় বেয়ে  মাউন্টেন সামিটে পৌঁছেছে, তাদের কারও চেয়ে চেহারাসুরত তার কম নয়। এমনকি চোখেমুখে শিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তি ও আভিজাত্যের চাপ। খাকি রঙের ইউনিফর্মধারী লোকটি বিশেষ ধরনের হাতানি দিয়ে টেবিলের  উচ্ছ্বিস্ট সরাচ্ছে। মনে হলো, সে এখানে গোয়েন্দাগিরি করছে, নয়তো পাহাড়প্রেমে বুঁদ হয়ে আমাদের মতো ঘুরতে এসে এই চাকরি যেচে রয়ে গেছে।  আমি মেলাতে পারি না। ভাবি, কতো রঙের মানুষ আছে এ জগতে!

ব্লুবেড়ি সাইডার

জনপ্রিয় লেখক ব্রাজিলিয়ান পাওলো কোয়েলহো’র তীর্থভ্রমণমূলক বেস্টসেলার ‘পিলগ্রিমেজ’ এর যে কপিটি মার্কিন মুলুকে এসে হাতে পেয়েছি, এর প্রচ্ছদে পুঞ্জপাহাড়ের সন্নিবেশ, ক্যাসেকডেময়। এর আগে সিয়াটলের ডাউনটাউনসহ নানা দ্রষ্টব্য আমাদের দেখা হয়ে যাওয়ায় সিয়াটলে আমাদের সাময়িকবাসের গৃহকর্তা পল ওয়াশিংটন স্টেটের বিভিন্ন ওয়ান্ডার ও পর্যটকপ্রিয় এলাকাগুলোতে নিয়ে যেতে যাওয়া শুরু করেছে। আমাদের সিয়াটল বাস ও পর্যটন যাতে আরামদায়ক,ভ্রমণপ্রিয়চোখে সুখকর হয়,সেজন্য  পল-জেরিন দম্পতির রাতের আরাম হারাম হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজকের লংড্রাইভ ক্রিস্টাল মাউন্টেন। পাওলো কোয়েলহোর পিলগ্রিমেজ এর প্রচ্ছদ সে আগ্রহকে উস্কে দেয়। আমি ত্বরিত সায় দিয়ে গাড়িতে উঠে বসি।  লিনউড এর বাসা থেকে রওয়ানা দিতে দিতে বেলা বারোটা। ক্রিস্টাল গন্তব্যে দুই, সোয়া দুইঘণ্টা লাগবে। আবহাওয়া সকাল থেকেই রৌদ্রকরোজ্জ্বল।

বহুদূর থেকে মাউন্ট রেইনিয়ার

লিনউড থেকে ডামসন রোড দিয়ে বেরিয়ে এই ড্রাইভ ৫২৪ ও ৫২৭ সড়ক ধরে ছুটে  চলে। ক্যানিয়ন পার্ককে বাঁয়ে রেখে বৃত্তাকার একটি চক্কর দিয়েই উঠে পড়ে  ফ্রি ওয়ে ফোর ও ফাইভে। এখানকার ড্রাইভে এই এক মজা। ফ্রিওয়েতে উঠলে থামার নাম নেই। এক্সিট দিয়ে আঞ্চলিক রাস্তায় নামার আগে শুধু ছুটে চলা। বিরতিহীন, উচ্চ গতিময় ফ্রিওয়েতে ড্রাইভের রোমাঞ্চই আলাদা। মার্কিনীরা দূরত্ব বোঝাতে মাইল-কিলোমিটারে না বলে ঘণ্টা মিনিটের সঙ্গে ড্রাইভ শব্দটি যোগ করে বলে। আমি ভোতো বাঙালি। মাপের ফিতায় দূর্তব না বললে মাথায় ঢোকে না আমার।  গুগলিং করে দেখছি, আমাদের যেতে হবে দেড়শ’ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে আমার জন্ম উপজেলা কুমারখালীর দূরত্বের সমান। আমরা যেখানে কমবেশি ছয় থেকে আটঘণ্টা ড্রাইভ করে যাতায়াত করি। অনেকটা পাহাড়ি সড়ক হওয়ার পরও এখানে দেখাচ্ছে, সোয়া দু’ঘণ্টা। কবি এখানেই নিরব। ঘণ্টা দুয়েক পর্বত আরোহণ শেষ করেও  এ ড্রাই্ভে সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরা যাবে অনায়াসে। বহু দেশের মানুষ বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন কূটনীতির কট্টর সমালোচনা করলেও স্বপ্নের দেশ হিসাবে বিশ্বজুড়েই এর খ্যাতির কমতি নেই। সব দেশ থেকেই  স্বপ্নবাজ তরুণের গন্তব্য আমেরিকা।

গাড়ি ছুটছে একশ চল্লিশ কিলোমিটার গতিতে। ঘরের বাইরে যাচ্ছি, অথচ শুনতে মন চাইছে ঘরে ফেরার গান। এ সময় মার্কিন শিল্পী স্কাইলার গ্রে’র ‘টেল দ্য ওয়ার্ল্ড, আই এম কামিং হোম’ গানটি প্লেয়ারে চললে হলে মন্দ হতো না। অন্তত আইস শিল্পী আসগের এসনাইরসনের ‘গোয়িং হোম’। এমনই মন আমার, বিপরীতমুখী উপাদানে গড়া। নিজের সম্পর্কে নিজের  ট্যাগলাইন:’ বোহেমিয়ান ও ঘরকুনো, কোলাহলপ্রিয়  ও অন্তরালপরায়ণ’। মন চাইলে কি হবে কে যেন চালিয়ে দিয়েছে সাহানা বাজপেয়ীর রবীন্দ্রসঙ্গীত- ‘ আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার, প্রাণ সখা বন্ধু হে আমার’, আকাশ কাঁদে হতাশ সম, নাই যে ঘুম নয়নে মম, দুয়ার খুলি হে প্রিয়তম, চাই যে বারে বার’।

সামিট হাউজ রেস্তোরাঁ

গতিময় গাড়ির বিপরীতে ধীরলয়ের এই গানও মনে  বিপরীতধর্মী আনন্দ জোগাচ্ছে।

রবিঠাকুরের গানের কথা ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে গাড়ির ভেতর চলছে সফলতা, ব্যর্থতাসহ জীবনের স্বপ্নজাগানিয়া সব প্রণোদনার আলোচনা। বলি, আমি সব বিষয় অনুপুঙ্খ বলতে পছন্দ করি। শ্রোতাকে প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অজানা ভেবে প্রেক্ষিতসহ সব বলতে গিয়ে কালক্ষয় হয়। ডেল কার্নেগীর একটা জনপ্রিয় জীবনভাবনা হচ্ছে বক্তার ধৈর্যশীল শ্রোতা হতে পারা সাফল্যের এক বড় উপাদান। আজকালকার মানুষ সোস্যালমিডিয়াতাড়িত। শ্রোতা হিসাবে তার সময় কম, তারা  সবকিছু নাটশেলে শুনতে চায়। অধৈর্য হয়ে বক্তব্যের মধ্যেই দুম করে উপসংহার জানতে চায়। আমি বলেই চলি, ছোট জিনিসকে কল্পনার বিস্তারে বড় করতে পারা এক আর্ট, অন্তত সাহিত্যে।  এই ডিটেইলাররা জীবনে খুব অসফল তাও বলা যাবে না। অর্থের মাপকাঠিতে সাফল্য বিচার এদের কাছে গৌণ।

স্টেয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরে পল নিবিষ্ঠ গাড়ি চালানোয়। গাড়িভর্তি সকলের নিরাপত্তা আপাত: তার নিবিষ্টতায়।  তবু ভেতরের আলোচনা সে মন দিয়ে শোনে,  অনুপুঙ্খ বলাটাকে আর্ট বলে স্বীকার করে নেয়। তবে তার বক্তব্য হচ্ছে, নিচের দিক থেকে ওপরের দিকে ক্রমশ: বিষয় সংক্ষিপ্ত হতে থাকে। নিচের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বয়ান শীর্ষকর্তার কাছে এক লাইন বা নাটশেল আকারে পেশ হয়। চাকরির ক্ষেত্রে যে যতো নাটশেলে বলতে পারে, সে ততো দক্ষ ও সফল। গাড়ির ভেতরের অন্য সবাই তার কথারই সমর্থন করে। আমার অনুপুঙ্খ বলার যুক্তি খুব একটা সমর্থন পায় না। সবাই প্রায় বয়সে আমার চেয়ে বয়ো:কনিষ্ঠ। এরা  প্রযুক্তিযুগের মানুষ। জেনারেশন গ্যাপে এদের চিন্তাচেতনা স্বভাবীরকমে আলাদা। অনুপুঙ্খ কথন ভঙ্গিটি  ষাট সত্তর দশকের গল্পবাজ মানসকিতা থেকে এসে থাকতে পারে ভেবে আমি প্রসঙ্গান্তরে যাই।

রেন্টনের লিবার্টি পার্ককে ডানে রেখে আমরা ফ্রি ওয়ে থেকে নেমে যাই ১৬৯ নম্বর সড়কে। এই সড়ক ধরে শর্টকার্টে ক্রিস্টাল মাউন্টেনে যাওয়া যাবে বলে জিপিস দেখাচ্ছে। তাকোমা বন্দর থেকে আরেক সড়ক ধরে গেলে পর্বতপ্রান্তে এলবি শহর পাওয়া যায়। এখান থেকে মিনারেল শহর পর্যন্ত ভিন্টেজ রেলের চড়ে রেলগাড়ি চড়েই  মাউন্টরেইনিয়ার দূর থেকে দেখা যায়। আমাদের আগ্রহ ক্রিস্টাল মাউন্টেনের চূড়ায় কোমর সমান্তরালে বসে রেইনিয়ারসুন্দরীকে দর্শন।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;