হজ কবুল হওয়ার জন্য ঝগড়া না করা শর্ত



ড. মুফতি মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, অতিথি লেখক, ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৪ জুলাই বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইট। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরাও হজপালনের নিমিত্তে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে পৌঁছেছেন। মক্কা, স্বপ্নের নগরী। সুতরাং মক্কায় নামার পর খুব আদবের সঙ্গে চলুন। এটি ইসলামের শহর, নিরাপদ শহর, বালাদে আমিন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে কাটিয়েছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ৫৩টি বছর।

আপনি যেখানে পা রাখছেন হতে পারে এখানেই বা আশপাশে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলাফেরা করেছেন। মক্কায় আপনাকে হোটেলে বা বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রত্যেকের জন্য আলাদা সিটের ব্যবস্থা থাকে। তাই সিট নিয়ে টেনশন করার কিছুই নেই। অমুকের সিট ভালো হয়েছে আমারটা ভালো হলো না কেন? এ নিয়ে শয়তান মনে ঝগড়া তৈরি করাবে। মনে রাখবেন, হজের সফরে ঝগড়া করা যাবে না। হজ কবুল হওয়ার জন্য ঝগড়া না করা শর্ত।

হোটেলে সিট বুঝে নিয়ে দীর্ঘ ক্লান্তি দূর করার জন্য একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। কাফেলার পক্ষ থেকে যখন উমরার তাওয়াফ করার কথা বলা হবে তখনই প্রস্তুত থাকবেন। প্রথম হজ-উমরা হলে অভিজ্ঞ আলেম বা কাফেলা প্রধানের নেতৃত্বে তাওয়াফ করতে যাওয়া ভালো।

উমরা আদায়
কিরান হজ হোক বা তামাত্তু হজ আদায় করার ইচ্ছা থাকুক প্রথমেই মক্কা পৌঁছে উমরা আদায় করতে হয়। উমরার ক্ষেত্রে চারটি জিনিস পালনীয়। ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ করা, সায়ি করা এবং মাথা মুণ্ডানো বা হলক করা। এ কয়েকটি কাজ শেষ হলেই উমরা পালন হয়ে যায়। উমরা শেষ হলে তামাত্তু হজ পালনকারীরা হালাল হয়ে যায়। অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ ছিল তা আর হারাম বা নিষিদ্ধ থাকবে না। তাই স্বাভাবিক জীবন শুরু হয়। সাধারণ জামা-কাপড় পরে নামাজ ও নফল তাওয়াফ ছাড়া হজের পূর্বে আর কোনো বিশেষ কাজ থাকে না।

কাবার দরজায়
কাবাঘর তাওয়াফ করার পূর্বে গোসল করে নেওয়া ভালো। কাবাঘরের চারপাশের বিল্ডিংগুলোই মাসজিদে হারাম। এ মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করা ভালো। এছাড়া অন্যান্য গেট দিয়েও প্রবেশ করা যায়। বাবুস সালাম বর্তমানে ১৭ নম্বর গেট যা আবু কুবাইস পাহাড়ের কাছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ীর কাছে। কাবা ঘর দেখার সময় দোয়া করবেন। এ সময় দোয়া কবুল হয়।

মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় দুই রাকাত দুখুলুল মসজিদ নামাজ পড়ে নেওয়া যায়। যদি জামাতে নামাজ হতে থাকে তাহলে আগে জামাতে নামাজ আদায় করে নিতে হবে।

তাওয়াফ
আল্লাহর ঘর কাবার চারদিকে নির্ধারিত নিয়মে সাত বার চক্কর দেওয়া বা ঘুরাকে তাওয়াফ বলে। উমরা আদায়ের ক্ষেত্রে তাওয়াফ ফরজ। যে শুধু হজ আদায় করে অর্থাৎ ইফরাদ হজ করে তার জন্যও আগমনী তাওয়াফ করা সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে।

হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। তাওয়াফের জন্য মনে মনে নিয়ত করলেই হবে। হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। ভিড়ের কারণে চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের সোজা সবুজ বাতি বা সবুজ দাগে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে দুই হাত উঁচু করে তারপর দুই হাতে চুমু দিতে হয়। তখন নিজের মতো করে মনে মনে দোয়া করে নেবেন।

হাজরে আসওয়াদ চুমু দিয়ে বা হাতে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। ৭ বার ঘুরার পর হাজরে আসওয়াদে এসেই তাওয়াফ শেষ হবে। তাওয়াফ করার সময় কাবা ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত হাতিমে কাবাকেও তাওয়াফের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে। হাজরে আসওয়াদের কোণার পর হাতিমের কোণা পড়বে। তারপর পড়বে রুকনে ইয়ামানির দিক। প্রতি চক্করে এ রুকনে ইয়ামানি দুই হাতে বা শুধু ডান হাতে ছুঁয়ে দেওয়া সুন্নত। বেশি ভিড় হলে তা প্রতিবারে ছোঁয়ার চেষ্টা না করা। তা না ছুঁয়ে দিলেও তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: হজের প্রস্তুতিতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝামাঝি স্থানে ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান নার’ এ দোয়া করেছেন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। -আবু দাউদ

ইবনে মাজায় বর্ণিত হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রুকনে ইয়ামানিতে সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত। যে ব্যক্তি রুকনে ইয়ামানিতে পৌঁছে এ দোয়া করে- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরা, রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান নার’ তখন সকল ফেরেশতা আমিন বলে। -ইবনে মাজাহ

হাজরে আসওয়াদ থেকে চক্কর শুরু করে আবার হাজরে আসওয়াদে পৌঁছালে এক চক্কর তাওয়াফ হলো। এভাবে সাত চক্কর তাওয়াফ করলে একটি পরিপূর্ণ তাওয়াফ হয়।

প্রতি তাওয়াফে আলাদা কোনো দোয়া নেই। তাওয়াফ করার সময় এমন কোনো দোয়া বর্ণিত নেই যা পড়া ফরজ বা ওয়াজিব। তাওয়াফের সময় কোনো দোয়া না পড়লেও তাওয়াফ হয়ে যায়। তাওয়াফের সময় কোনো দোয়া করা নিষেধ নেই। কোনো বই দেখে বা শুনে দোয়া পড়লে তা জায়েজ। বিভিন্ন গ্রন্থে প্রতি চক্করে আলাদা আলাদা দোয়া লেখা আছে। এভাবে প্রতি চক্করের জন্য আলাদা আলাদা দোয়া পড়ার রেওয়াজ না করাই উচিত। এতে করে তাওয়াফের একাগ্রতা নষ্ট হয়।

তাওয়াফের সময় আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে চক্কর দিচ্ছি এ খেয়াল রাখবেন। মনে মনে আল্লাহর কাছে যা চাওয়ার চাইতে পারবেন। তাওয়াফের সময় কাবার দিকে বুক ও পিঠ করা অনুচিত।

যেসব তাওয়াফের পর সায়ি করতে হয় সে সব তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রামল করতে হয়। আর পুরো ৭ চক্করে ইজতেবা করতে হয়।

রমল হলো- হেলেদুলে বীরের মতো চলা। ইজতেবা হলো- ইহরামের চাদরকে ডান বগলের নীচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের ওপর ফেলে রাখা।

তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নত। তাওয়াফের নামাজ পড়ার জন্য কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, মাকামে ইবরাহিমে নামাজ আদায় করার জন্য। হজের মৌসুমে মাকামে ইবরাহিমে তাওয়াফ শেষের নামাজ পড়া অনেক কঠিন। তারপরও কিছু বান্দা কষ্ট স্বীকার করে- এখানেই নামাজ পড়ে থাকে। তবে মাকামে ইবরাহিমের সোজা পিছনে মাতাফের শেষপ্রান্তে অধিকাংশ লোক নামাজ আদায় করে থাকেন। এতে নামাজে মনোযোগ আনা সহজ হয়। তাওয়াফের নামাজ শেষে দোয়া করা জায়েজ। এ সময়ও দোয়া কবুল হয়।

জমজমের পানি
তাওয়াফের ক্লান্তি দূর করার জন্য অসাধারণ পানীয় হলো- জমজমের পানি। মসজিদে হারামের অসংখ্য স্থানে জমজমের পানি রাখা আছে। যারা ঠাণ্ডা পানি পান করতে চান তারা কোল্ড বা বারিদ ড্রামের পানি পান করতে পারেন। ঠাণ্ডা ছাড়া নরমাল পানিও আছে। ইচ্ছা করলে দু’টো মিলিয়েও পান করতে পারেন।

জমজমের পানি পান করলে ক্ষুধা দূর হয়। এতে খাদ্যগুণও আছে। জমজমের পানিতে রোগমুক্তিও আছে। এ বরকতি পানি হজের সফরে নিয়মিত পান করতে পারেন।

সায়ি
তাওয়াফ শেষ করার পর ফরজ তাওয়াফ হলে সায়ি করতে হয়। উমরা ও হজের জন্য সায়ি করা ওয়াজিব। সায়ি হলো- সাফা ও মারওয়া নামক দু’পাহাড়ের মাঝে হাঁটা ও দৌঁড়ানো। তাওয়াফ, নামাজ ও পানি পান শেষে এবার সায়ির পালা। সায়ি করার পূর্বে কাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে হয়। চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে ইশারা করবেন। অন্তত দু’হাত উঁচু করে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাতে চুমু দিবেন। তারপর বলবেন- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।

আরও পড়ুন: হজের ইহরাম: দুই খণ্ড সাদা কাপড় যখন হজযাত্রীর সঙ্গী

অত:পর হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসারে বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে উঠবেন। অন্য স্থান দিয়েও সাফা পাহাড়ে উঠলেও চলবে। পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কাবাঘর দেখা যায়। সেটি হাজরে আসওয়াদের কোণা। সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে মুখ করে দু’হাত তুলে হাজরে আসওয়াদকে ইশারা করাকে ইসতেলাম বলে। ইসতেলামের মাধ্যমে শুরু হবে সায়ি। সাফা থেকে মারওয়া পৌঁছালে একবার সায়ি হলো। মারওয়া থেকে সাফা পৌঁছালে দুইবার হলো। এভাবে ৭ বার দৌঁড়ানো শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছানোর পর। দুই পাহাড়ের মাঝে এ সাতবার হাঁটা ও দৌঁড়ানোর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে সায়ি।

সায়ি করার সময় অল্প একটু জায়গায় বর্তমানে সবুজ লাইট দেওয়া আছে। এ নীচু জায়গায় দৌঁড়াতে হয়। অন্যান্য জায়গায় হেঁটে চললেই হয়। নারীরা সবুজ বাতির জায়গায় দৌঁড়াবে না বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাবে। এ সময় নারী পুরুষ সবাই এ দোয়া করবে- রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতাল আয়ায্যুল আকরাম।

সায়ি করার সময় অজু থাকা মুস্তাহাব। কোনো কারণে অজু ছাড়া সায়ি করলে এতে কোনো দম দিতে হবে না। অজু ছাড়াও সায়ি আদায় হয়ে যায়।

সায়ির পর আবার তাওয়াফ করার স্থানের পাশে এসে দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নত। অন্য জায়গাতেও এ নামাজ পড়া যায়। মারওয়া পাহাড়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ার কোনো বিধান নেই। সেখানে নামাজ পড়া মাকরূহ।

সায়ি করার সময় দোয়া কবুল হয়। এ সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। যেকোনো দোয়া করা যেতে পারে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সময় বলেছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি তো বলেছো, আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেবো। (দোয়া করো, আমি কবুল করবো) তুমি তো ওয়াদা খেলাফ করো না। আমি তোমার কাছে চাচ্ছি, তুমি যেমনিভাবে আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছো তা কখনো ছিনিয়ে নিয়ো না। আমাকে মুসলমান অবস্থায় মৃত্যু দিও। -আহকামে হজ: পৃ. ৫৮

এছাড়া অন্য যেকোনো দোয়া করা যেতে পারে।

সায়ি করা অবস্থায় জামাত শুরু হয়ে গেলে সেখানেই জামাতে দাঁড়িয়ে যাবেন। নামাজ শেষে সেখান থেকেই সায়ি পূর্ণ করবেন।

মাসয়ালা: সায়ি সব সময় তাওয়াফের পরে করতে হয়। তাওয়াফ ছাড়া সায়ি হয় না।

মাসয়ালা: তাওয়াফ পবিত্র অবস্থায় করার পর কোনো নারী সায়ি করার সময় অপবিত্র হয়ে পড়লেও সায়ি শেষ করতে পারবে। অপবিত্র অবস্থায় সায়ি করা জায়েজ হবে।

মাসয়ালা: হুইল চেয়ারে বসে বিনাওজরে সায়ি করা নাজায়েজ। ওজর থাকলে হুইল চেয়ারে করে সায়ি করতে পারবে। সবুজ বাতির জায়গায় চেয়ারের গতি বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে ভিড় থাকলে অন্যকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

মাথার চুল কাটা
হজ তিন ধরণের হয়। ১. যারা শুধু হজ করে, তা ইফরাদ হজ। ২. যারা হজ ও উমরা একসঙ্গে করে, কিরান হজ। এ দু’শ্রেণির ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হজ না করে ইহরাম শেষ করতে পারবে না। অন্যান্য যারা আছেন যেমন শুধু উমরাকারী কিংবা তামাত্তু হজকারী তারা সায়ি করার পর মাথার চুল ন্যাড়া করে ফেলবে কিংবা এক আঙুল পরিমাণ চুল কাটিয়ে নেবে।

নিজে নিজে কাটা যাবে না। যিনি ইহরাম অবস্থায় আছেন তিনিও চুল কাটতে পারবেন না। যিনি ইহরাম শেষ করেছেন তার মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কারো মাধ্যমে মাথা মুণ্ডাবেন।

বর্তমানে প্রচুর সেলুন পাওয়া যায়, তাদের দ্বারা তা করাতে পারেন। কাফেলার কেউ ইহরাম শেষ করে থাকলে তার দ্বারাও মাথার চুল চেছে ফেলা যায়।

উমরার সমাপ্তি
ইহরাম, তাওয়াফ, সায়ি ও মাথা মুণ্ডানোর মাধ্যমে উমরা পালন হয়ে গেল। এবার ইহরামের কাপড় খুলে ফেলুন। এখন থেকে ইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ ছিল, তা আর নিষিদ্ধ থাকবে না। গোসল করে সেলাই করা সাধারণ কাপড় পরিধান করুন। তখন খুশবু ব্যবহার করা জায়েজ। স্ত্রীর সঙ্গেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যাবে তখন থেকে।

লেখক: অধ্যাপক, উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

   

রিজিক বৃদ্ধির ৪ আমল



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরআন-হাদিসে রিজিক বৃদ্ধির বিভিন্ন আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে, ছবি : সংগৃহীত

কোরআন-হাদিসে রিজিক বৃদ্ধির বিভিন্ন আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মুমিন মাত্রই বিশ্বাস করেন যে, তার আয়-উপার্জন, জীবন-মৃত্যু এবং সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য ইত্যাদি র্নিধারণ হয়ে যায়; যখন তিনি মায়ের উদরে থাকেন। আর এসব তিনি লাভ করেন তার জন্য বরাদ্দ উপায়-উপকরণগুলোর মাধ্যমে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো- হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এর জন্য র্নিধারিত উপায়-উপকরণ সংগ্রহে চেষ্টা করা। যেমন চাষাবাদ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প-চারু, চাকরি-বাকরি বা অন্য কিছু।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তার রিজিক থেকে তোমরা আহার করো। আর তার নিকটই পুনরুত্থান।’ -সুরা আল মুলক : ১৫

কোরআন-হাদিসে রিজিক বৃদ্ধির বিভিন্ন আমল ও উপায়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। সেখান থেকে ৪টি আমলের কথা উল্লেখ করা হলো-

তওবা-ইস্তেগফার : তওবা-ইস্তিগফার করার মাধ্যমে বান্দার রিজিক বাড়ে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান করবেন।’ -সুরা নুহ : ১০-১২

হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাগাতার তওবা-ইস্তেগফার করবে; আল্লাহতায়ালা সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন; সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ১৫১৮

পরহেজগারি অবলম্বন এবং আল্লার ওপর ভরসা : যেসব আমলে রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে, তার মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা অন্যতম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না।’ -সুরা সাদ : ৩৫

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন। পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় (খালি পেটে) বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে বাসায় ফেরে।’ -জামে তিরমিজি : ২৩৪৪

সময়মতো নামাজ আদায় এবং ইবাদতের জন্য নিজেকে মুক্ত করা : সময়মতো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে রিজিক বাড়ে। নামাজ আদায় করার ফাঁকে ফাঁকে কাজ ও ব্যবসা–বাণিজ্য করতে হবে; কাজ ও ব্যবসা–বাণিজ্য করার ফাঁকে ফাঁকে নামাজ নয়। একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত পালনে নিজেকে ঝামেলামুক্ত করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আপনি পরিবার-পরিজনকে নামাজ আদায়ের আদেশ দিন এবং নিজেও তার ওপর অটল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই আপনাকে রিজিক দিই। আর মুত্তাকিদের জন্যই শুভ পরিণাম।’ -সুরা ত্বহা : ১৩২

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য তুমি তোমার অন্তরকে খালি করো। আমি তোমার অন্তরকে অভাবমুক্ত হিসেবে পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার দরিদ্র্যের পথ দূর করে দেব। আর যদি তা না করো, আমি তোমার হাত (দুনিয়ার) ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেবো এবং তোমার অভাব মেটাব না।’ -জামে তিরমিজি : ২৪৬৬

রিজিক অর্জনের চেষ্টায় থাকা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (জমিনে) ছড়িয়ে পড়ো আর আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো; যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ -সুরা জুমা : ১০

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকালবেলা পাহাড়ের দিকে বের হয়। এরপর লাকড়ি সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে। মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে তার জন্য এটা উত্তম।’ -সহিহ বোখারি : ১৪৮০

;

গরমে মুমিনের আমল



মুফতি উমর ফারুক আশিকী
গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ কাম্য, ছবি : সংগৃহীত

গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ কাম্য, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করে বলে, হে রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। আল্লাহতায়ালা তখন তাকে দুইটি নিশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি নিশ্বাস শীতকালে আরেকটি গ্রীষ্মকালে। কাজেই তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা পেয়ে থাকো।’ -সহিহ বোখারি : ৩২৬০

মুমিন বান্দারা দয়াময় আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী হয়ে গ্রীষ্মের এই গরম সময়ে অফুরন্ত সওয়াব লাভের জন্য বেশ কিছু আমল করতে পারেন। আশা করা যায়, মহান আল্লাহর দয়ায় পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে- ইনশাআল্লাহ।

তওবা করা : মানুষের পাপের কারণে মানুষের ওপর নানা ধরনের বিপদাপদ আসে, তাই প্রতিকূল অবস্থাকে অনুকূলে আনতে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করার কোনো বিকল্প নেই।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা।’ -সুরা নুহ : ১০-১২

ইবাদতে গাফিলতি না করা : গরমের কারণে ইবাদত-বন্দেগিতে গাফিলতি না করা। কারণ জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার গরমের চেয়ে বহুগুণে উত্তপ্ত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘পেছনে থাকা লোকগুলো আল্লাহর রাসুলের বিপক্ষে বসে থাকতে পেরে খুশি হলো। আর তারা অপছন্দ করল তাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করতে এবং তারা বলল, ‘তোমরা গরমের মধ্যে বের হয়ো না।’ বলো, জাহান্নামের আগুন অধিকতর গরম, যদি তারা বুঝত।’ -সুরা তওবা : ৮১

পিপাসার্তকে পানি পান করানো : হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.) বলেন, (এক দিন) আমি (নবীজিকে) বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন সদকা উত্তম? তিনি বলেন, পানি পান করানো। -সুনানে নাসায়ি : ৩৬৬৫

চলমান গরমের সময় শহরেরে বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের জন্য ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা রাখা হয় বিভিন্ন অফিস, দাতব্য সংগঠন কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে। এটা অত্যন্ত ভালো কাজ, সওয়াবের কাজ।

কেউ পানি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে নিষেধ করেছেন নবী কারিম (সা.)। ইরশাদ হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এমন কী জিনিস আছে, যা কেউ চাইলে না দিয়ে তাকে বিদায় দেওয়াটা ঠিক নয়?

তিনি বলেন, পানি, লবণ ও আগুন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই পানি সম্পর্কে তো আমরা জানি, কিন্তু লবণ ও আগুনের ব্যাপারে কেন বাধা দেওয়া যাবে না? তিনি বলেন, হে হুমায়রা! যে ব্যক্তি আগুন দান করল, সে যেন ওই আগুন দিয়ে রান্না করা যাবতীয় খাদ্যই দান করল।
যে ব্যক্তি লবণ দান করল, ওই লবণে খাদ্য যতটা সুস্বাদু হলো তা সবই যেন সে দান করল। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা সহজলভ্য, সে যেন একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করল এবং যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা দুষ্প্রাপ্য, সে যেন তাকে জীবন দান করল। -সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৭৪

অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানো : তীব্র গরমে অনেক সময় মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। বয়োবৃদ্ধরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে যেতে পারেন না, তখন তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে সদকার সওয়াব মেলে।

হজরত আবু জার (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে তোমার ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। তোমার সৎকাজের আদেশ এবং তোমার অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। পথহারা লোককে পথের সন্ধান দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ, স্বল্প দৃষ্টিসম্পন্ন লোককে সঠিক দৃষ্টি দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। পথ থেকে পাথর, কাঁটা ও হাড় সরানো তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। তোমার বালতি দিয়ে পানি তুলে তোমার ভাইয়ের বালতিতে ঢেলে দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। -জামে তিরমিজি : ১৯৫৬

পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়া : গরমে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিও কষ্টে পড়ে। তাই মানুষের উচিত তাদের পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়া।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, এক ব্যভিচারিণীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; সে একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সে দেখতে পেল, কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, পানির পিপাসা কুকুরটাকে মুমূর্ষ করে দিয়েছিল। তখন সেই নারী তার মোজা খুলে ওড়নার সঙ্গে বাঁধল। অতঃপর সে কূপ হতে পানি তুলল (এবং কুকুরটিকে পানি পান করালো), এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। -সহিহ বোখারি : ৩৩২১

গরমের কারণে দুনিয়ার এই হাহাকার পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে, মহান রবের সন্তুষ্টি পেতে বর্ণিত আমলগুলো বেশি বেশি করা জরুরি।

 

;

আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনা হবে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম স্মার্ট: ধর্মমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ অনুসারে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত যে পোর্টালটি রয়েছে সেখানে আমরা নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করছি। আগামী দিনে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা হবে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম স্মার্ট হজ ব্যবস্থাপনা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকা হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে হজযাত্রী প্রশিক্ষণ ২০২৪ ’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ফরিদুল হক খান বলেন, আপনারা সকলেই যাতে সহী-শুদ্ধভাবে হজব্রত পালন করতে পারেন সেজন্যই মূলত আজকের এই প্রশিক্ষণ। আমরা প্রশিক্ষণের জন্য অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষক নির্বাচন করেছি। আপনারা যদি প্রশিক্ষণের প্রতি মনযোগী হতে পারেন তাহলে আপনারা হজের নিয়ম-কানুন, হুকুম-আহকাম, ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতা- সবকিছু আয়ত্তে আনতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই প্রবণতা হলো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হজ পালন করা। হজ অনেক পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত, এর জন্য শারীরিক সামর্থ্য থাকা বাঞ্চনীয়। অনেকেরই সেই শারীরিক সামর্থ্য থাকে না। যার কারণে তাদের পক্ষে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।

তিনি বলেন, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে জমানো সঞ্চয় দিয়েই হজব্রত পালন করতে যান। এদেশের অধিকাংশ মানুষেরই দ্বিতীয় বার হজ করার মতো আর্থিক সঙ্গতি থাকে না। সে কারণে আপনার পরিশ্রম ও অর্থ যেন বিফলে না যায় সেজন্য অবশ্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)’র নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে হজ সম্পাদন করতে হবে। সহী ও শুদ্ধভাবে হজব্রত পালন করতে হবে।

ফরিদুল হক খান বলেন, সৌদি আরবে আপনার পরিচয় শুধু একজন হজযাত্রী নয়, আপনার পরিচয়-আপনি একজন বাংলাদেশি। আপনার আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও চালচলনের মাধ্যমেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রকাশ পাবে।

তিনি সৌদি আরবের আইন-কানুন, নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিপালনে কোনরূপ বিচ্যুতি না ঘটে সেদিকে যত্নবান থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া, কারো জন্য দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মান যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে বিশেষভাবে সর্তক থাকার জন্য হজযাত্রীদেরকে অনুরোধ জানান তিনি।

ধর্মসচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলাম, যুগ্মসচিব ড. মো. মঞ্জরুল হক ও ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

প্রশিক্ষণে সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধিত ঢাকার হজযাত্রীরা অংশগ্রহণ করছেন।

;

সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশঙ্কা এজেন্সি মালিকদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হজ এজেন্সির মালিকেরা। তাই সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দ্রুত সকল প্রতিবন্ধকতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এজেন্সি মালিকেরা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান অপারেটিং হজ এজেন্সির মালিকরা।

সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ কুতুবুদ্দীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কিছু ঊর্ধতন কর্মকর্তা এবং মক্কা হজ মিশনের কিছু কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে হজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ এপ্রিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ১ শাখা থেকে সৌদি সরকারের একটি চিঠির বরাতে জানানো হয়- আগামী ২৯ এপ্রিল হজ যাত্রীদের ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়ে যাবে।

চিঠিতে আরও জানানো হয়, ২৯ এপ্রিলের মধ্যে আবশ্যিকভাবে হজযাত্রীদের ভিসা সম্পন্ন করতে হবে। এজেন্সীর অবহেলার কারণে হজযাত্রীদের হজে গমন অনিশ্চিত হলে সে এজেন্সীর বিরুদ্ধে হজ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, গত ১০ ফ্রেব্রুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের আবাসন, ক্যাটারিং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল প্রকার অনলাইন চুক্তি (সার্ভিস কোম্পানি, পরিবহান, ইত্যাদি) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ এখনো অনেক এজেন্সির ৮০ শতাংশ কার্যক্রম বাকি।

এমন অবস্থায় সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এবং সকল প্রতিবন্ধকতা নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে হজ এজেন্সি মালিকেরা অনুরোধ করেন।

এছাড়াও কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেন তারা। সেগুলো হলো- দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল হাজির মিনার জোন নির্ধারণ করে ই হজ সিস্টেম আপডেট করতে হবে। ফাইনাল ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা ও সকল এজেন্সির হজযাত্রী অনুপাতে টিকেট নিশ্চিত করতে হবে। মোয়াজ্জেমদের জন্য বারকোড ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করা। যাদের সৌদি একাউন্টে এখনো রিয়াল জমা হয়নি তাদের একাউন্টে দ্রুত রিয়াল জমার ব্যবস্থা করা।

তারা বলেন, বর্তমানে সৌদি একাউন্টে টাকা ঢুকতে দেড় মাস সময় লাগে। যদি কারো একাউন্টে ১ পয়সাও কম থাকে তাহলে তার হজে যাওয়া সম্ভব হবে না। এবং বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন চার্জ একবারে হিসাব করে পাঠানো অনেকটা অসম্ভব। এছাড়া যাদের এখনো মেননজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা হয়নি তাদের জন্য দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়াও ভিসা ইস্যু কার্যক্রম অন্যান্য বছরের মতো সর্বশেষ ফ্লাইটের এক সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানান তারা। আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে অনেকে হজ করতে যাওয়ার ইচ্ছে করলেও সকল প্রস্তুতির পর মারা গেছেন। আবার কেউ মারাত্মক রোগাক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে যেতে পারেন না। তাই সেই হজযাত্রীর পরিবর্তে তার পরিবারের অন্য কোন সদস্যদের যাওয়ার ব্যবস্থা করা যেতো তাহলে জমাকৃত টাকা গচ্চা যেতো না। বর্তমানে যে অবস্থা আছে তাতে ভিসা ইস্যু এতো আগে বন্ধ হয়ে গেলে অহেতুক প্রচুর টাকা সৌদি আরবে চলে যাবে। এতে দেশের ক্ষতি হবে। যদি বিষয়টি সৌদি সরকারকে বুঝাতে আমরা সক্ষম হই তাহলে আমাদের বিশ্বাস সৌদি সরকার বাস্তবতা বুঝে অবশ্যই বিবেচনা করবেন।

;