বনানী অগ্নিকাণ্ড

দুর্বল ধারায় মামলা, বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন রূপায়ণের লিয়াকত



শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলায় ভবনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ / ছবি: বার্তা২৪

এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলায় ভবনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বনানীতে ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

তবে মামলাটির অপর আসামি, ভবনটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এখনো গ্রেফতার হননি। পুলিশের কাছে তথ্য আছে, গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে গেছেন এ ব্যবসায়ী।

নিয়ম লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার আশায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ভবনটি তৈরি ও বিক্রয় করায় লিয়াকত আলী খান মুকুলকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক, কাশেম ড্রাইসেল লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী তাসভির উল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয় ২৬ জন এবং আহত হয় শতাধিক। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা নির্মাণের বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে ও নিয়ম মেনে ভবনটি নির্মিত হলে অগ্নিকাণ্ড এতো ভয়াবহ হতো না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে শনিবার (৩০ মার্চ) বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এই মামলা রোববার (৩১ মার্চ) ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী, যে ধারাগুলোতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি দশ বছরের কারাদণ্ড। অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জনের মৃত্যুকে প্রশাসন থেকে বার বার হত্যা বলা হলেও, মামলার ধারা সেটা বলছে না।

দণ্ডবিধি অনুযায়ী ৪৩৬ ধারায় বলা আছে, গৃহ প্রভৃতি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আগুন বা বিস্ফোরক পদার্থ দিয়ে ক্ষতি সাধন করা। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাশাপাশি অর্থদণ্ড।

মামলার অন্য ধারা ৩০৪ ‘ক’ দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে, বেপরোয়াভাবে বা অবহেলায় মৃত্যু ঘটলে, এর সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তাররপরও ধারাটি দূর্বল কেননা এটি জামিনযোগ্য।

অপরদিকে ৪২৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ক্ষতিসাধন এবং ৫০ টাকা বা ততোধিক মূল্যের জিনিস নষ্ট করার অভিযোগ থাকলে, ধারাটি জামিন অযোগ্য হলেও দুই বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এর সর্বোচ্চ শাস্তি। সাঙ্গে থাকতে পারে অর্থদণ্ডও।

মামলার আরেকটি ধারা ১০৯ সর্ম্পকে দণ্ডবিধিতে আছে, কোনো অপরাধের প্ররোচনা দেওয়া বা সহায়তা দেওয়া। তবে এটা যদি মীমাংসাযোগ্য হয়, সে ক্ষেত্রে শাস্তির জন্য কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই।

মামলার ধারাগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে হাইকোর্টের আইনজীবী মাসুদ রানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে ২৬ জনের মৃত্যুকে যদি হত্যা বলা হয়। তাহলে এই ধারাগুলোর সঙ্গে কোনো মিল নেই। ঘটনার ব্যাপকতা অনুযায়ী ধারাগুলো ঠিক হয়নি। যার একটি জামিনযোগ্য, অন্যটি শাস্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বিধানই নেই।’

এদিকে মামলার প্রথম ও তৃতীয় আসামিকে গ্রেফতার করলেও এখনো মামলার দ্বিতীয় আসামি রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরের দিন শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালেই দেশ ত্যাগ করেছেন লিয়াকত।

তার অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলেও এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সিঙ্গাপুর অথবা মালয়েশিয়াতে রয়েছেন তিনি।

বিদেশে পাড়ি দিয়ে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মামলা থেকে বেঁচে গেলেন কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান আব্দুল বাতেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মামলার তদন্তে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে অপরাধ অনুযায়ী সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান পলাতক রয়েছেন। তবে সে যেখানেই থাকেন না কেন, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

অন্যদিকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভবনটির ভূমির মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ণ গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে নির্মাণ করা হয়।

   

রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাজীপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল ও কলেজ নামে বেসরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে ক্লাস করাতে গিয়ে ছয় শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গোপন রেখে অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীদের কালিয়াকৈর সদরের রুমাইসা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টান কালিয়াকৈর এলাকার আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল ও কলেজের একটি ক্লাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের পরিবার সূত্র জানায়, সারাদেশে তীব্র তাপদাহের কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের রাতের আঁধারে ক্লাস করানো হচ্ছিল। এসময় তীব্র গরমে ৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়।

অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থীর অবস্থা বেশি খারাপ থাকায় তাদের পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী সরকারি কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল ও কলেজের পরিচালক মো. সোহাগ রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ভেতরে ক্লাস চলছিল। কিছুক্ষণ পর গরমে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে যায়। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

;

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গায় লাটাহাম্বারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে টুটুল হোসেন (১৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অপর দুই আরোহী মিলন হোসেন (২৫) ও জাব্বারুল (১৭)।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া সড়কের খোরদ কবরস্থানের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশে নিহত টুটুলের মরদেহ উদ্ধার করে ও আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত টুটুল আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে টাইলস কিনে চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে মহেশপুর গ্রামে ফিরছিলেন টুটুলের পিতা ইলিয়াস। পথে ভালাইপুর বাজারের অদূরে টাইলসবাহী গাড়িটি বিকল হয়ে পড়লে ইলিয়াস ছেলে টুটুলকে ফোন দিয়ে ডাকেন। টুটুল মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে মিলন ও জাব্বারুলকে নিয়ে ভালাইপুরের উদ্দেশে বের হন। পথে হাটবোয়ালিয়া সড়কের খোরদ কবরস্থানের সামনে পৌঁছালে সামনে থেকে আসা একটি লাটাহাম্বারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই টুটুলের মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মিলন হোসেন ও জাব্বারুল নামের দুই যুবক জরুরি বিভাগে আসে। আহতদের মধ্যে মিলনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এবং জাব্বারুলকে ভর্তি রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গণি মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলেই টুটুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

;

দেশে ফিরল সিঙ্গাপুরে রড চাপায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
দেশে ফিরল সিঙ্গাপুরে রড চাপায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ

দেশে ফিরল সিঙ্গাপুরে রড চাপায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ

  • Font increase
  • Font Decrease

সিঙ্গাপুরে কাজ করার সময় রড চাপায় নিহত রাকিব হোসেন (২৪) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিহতের মরদেহ বেনাপোলে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।

নিহত রাকিব বেনাপোল বন্দর থানার ঘিবা গ্রামের মমিনুর রহমানের ছেলে।

এর আগে, গত ৩ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত রডের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মক আহত হয় রাকিব। দীর্ঘ ১৬ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (২০ এপ্রিল) রাতে তিন সিঙ্গাপুরে মারা যান।

নিহত রাকিবের চাচা মিলন হোসেন জানান, গত ৩ এপ্রিল রাকিব কনস্ট্রাকশনের কাজ করার সময় রড চাপায় গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাকিবের বাবা মমিনুর রহমান জানান, সংসারের হাল ধরতে এক বছর হলো রাকিব সিঙ্গাপুর গিয়েছিল। সে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতো। গত ৩ এপ্রিল প্রতিদিনের মতো সে কাজে যায়। এক পর্যায়ে ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে ভবনের উপরে তোলার সময় তার ছিঁড়ে রডের নিচে চাপা পড়ে রাকিব। পরে তাকে সিঙ্গাপুর সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের উদ্ধারকারীরা এবং সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘ ১৬ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ২০ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে সে মারা যায়।

বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মফিজ বলেন, সিঙ্গাপুরে নিহত রাকিব আমার ইউনিয়নের ঘিবা গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি সে সিঙ্গাপুরে কাজ করার সময় রড চাপায় মারা গেছে। তার মৃতদেহ বৃহস্পতিবার রাতে দেশে আনা হয়েছে।

;

প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি দেখিয়ে চাঁদা আদায়, যুবক গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি দেখিয়ে চাঁদা আদায় ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রীর অশ্লীল ছবি সংরক্ষিত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ভোর রাতে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রাজাপুর গ্রামের লাল মিয়া মাঝি বাড়ি থেকে নুরুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।

নুরুল ইসলাম সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের ৮ িনম্বর ওয়ার্ডের শ্যামেরগাঁও গ্রামের আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর স্বামী আমেরিকা প্রবাসী। ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি মোবাইলে সমস্যা দেখা দিলে ভিকটিম মোবাইল ঠিক করতে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারের আরডি শপিং মলে যায়। অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম নিজেকে মোবাইল মেকানিক পরিচয় দিয়ে গৃহবধূর মোবাইল ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে নেয়। একপর্যায়ে ভিকটিমের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ ও ভিকটিমের মোবাইল ফোনের গ্যালারি থেকে ব্যক্তিগত ছবি কৌশলে তার মোবাইলে ট্রান্সফার করে নিয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানায়, এরপর ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভিকটিম সম্মানহানির ভয়ে ও তার সংসার টিকানোর জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়। এতে সে সন্তুষ্ট না হয়ে বাকি আরও আড়াই লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় ভিকটিমকে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নুরুল ইসলাম ভিকটিমের ছবি ও নাম ব্যবহার করে টিকটক আইডি খুলে ব্যক্তিগত ছবি ছেড়ে দেয়। বিষয়টি ভুক্তভোগীর নজরে আসলে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি ও তার নাম এবং ছবি ব্যবহার করা টিকটিক আইডি সংরক্ষিত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

;