মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে চীনকে অনুরোধ

এশিয়া, আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম | 2023-12-09 15:55:56

মিয়ানমারে চলমান সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের সংঘাতে ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বিদ্রোহীরা। এদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে এবং মিয়ানমারের সংকট েনিরসনে সহায়তা করতে চীনকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমার। 

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে যান মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান শোয়ে। সেখানে তিনি গত বৃহস্পতিবার যোগ দেন লাচাং-মেকং কো-অপারেশন শীর্ষক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে। তারই এক ফাঁকে দেশটির জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান শোয়ে ওয়াং ইকে এই অনুরোধ জানান। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

যুদ্ধ বন্ধ করে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে চাপ দিতে চীনকে অনুরোধ করেছে মিয়ানমার। 

বৈঠকে মিয়ানমারের অন্তত তিনটি ভ্রাতৃপ্রতিম বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে যুদ্ধ ছেড়ে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাপ দেওয়ার জন্য ওয়াং ইকে অনুরোধ করেন থান শোয়ে। তাঁর চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন চীন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি, দ্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি ও আরাকান আর্মি জান্তা বাহিনীর দখল থেকে বিপুল পরিমাণ ভূমির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছে। 

গত ২৭ অক্টোবর এই তিন বাহিনী সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন ১০২৭ শুরু করে। সেই অপারেশন শুরুর পর এই প্রথম কোনো দেশ সফরে গেলেন থান শোয়ে। 

বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে ওয়াং ই বলেছেন, চীন আশা করে মিয়ানমারে শিগগিরই জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতা শুরু হবে এবং দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক রূপান্তর সূচিত হবে।’ এ ছাড়া চীনা একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, জান্তা সরকার বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য চীনের সাহায্য কামনা করেছে। 

জান্তা বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কায়াকপায়ু গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকে ত্বরান্বিত করা, মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় হয়ে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে রাখাইন প্রদেশকে সংযুক্ত করার জন্য একটি রেলপথ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, দুটি প্রকল্পই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ। 

পাশাপাশি এ দুই নেতা মাদক, মানব পাচার ও অনলাইন কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছে বলেও জানানো হয়েছে মিয়ানমারের সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে।



এ সম্পর্কিত আরও খবর