ধানে অনীহা, চাষির আগ্রহ এখন রবি ফসলে

জেলা, জাতীয়

মাজেদুল হক মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, মেহেরপুর, বার্তা২৪.কম | 2024-01-12 12:42:35

মেহেরপুরের মাঠে মাঠে এখন সবুজ ফসলের সমারোহ। ভোরের শিশিরে সিক্ত ফসলের মাঠ দেখে প্রাণ ভরে যাচ্ছে। বিভিন্ন ফসলের মাঠে এখন ফুল বাগানের আবহ। স্বল্প সময়ে কম খরচে সোনার ফসল ঘরে ওঠায় বর্তমানে রবি ফসল আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

 

জানা গেছে, মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার মাঠে এখন রবি মৌসুমের ফসলে ভরে উঠেছে। মাঠের পর মাঠ সরিষা, মসুর, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ও সবজিতে ভরপুর। কার্তিক মাসে রবি মৌসুম শুরু হয়েছে। গত আউশ মৌসুম ও সদ্য সমাপ্ত আমন মৌসুমের ধান কাটার পর চাষিরা রবি ফসল আবাদ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশাও করছে চাষিরা।

গোপালনগর গ্রামের গম চাষি আশাদুল ইসলাম জানান, গত বছরের বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর প্রায় এক হাজার টাকা মণ দরে তা বিক্রি হয়। এতে আউশ ও আমন মৌসুমে ব্যাপকভাবে ধান আবাদ হয়। কিন্তু আমন ধানের শীষ বের হওয়ার আগ মুহূর্ত থেকে দর পড়ে যায়। বর্তমানে আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকা মণ দরে। এতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ কমে যাচ্ছে। বোরো ধান আবাদ হয় এমন জমিতেও এবার গম ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

চাষি সূত্রে জানা গেছে, সরিষা, মসুর, গম, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া ও শীতকালীন সবজি স্বল্পমেয়াদি ফসল। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এসব ফসল তোলা যায়। সরিষা, মসুর ও গম আবাদের খরচও ধান আবাদের চেয়ে অনেক কম। তাই অধিক লাভের আশায় চাষিরা এবার বেশি পরিমাণে রবি ফসল আবাদ করেছে।

মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের চাষি শেখ শফি উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের মাঠে সুখ সাগর পেঁয়াজের চাষ বেশি হয়। এবারো পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। তবে গম, ভুট্টা ও সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ধান আবাদে অনীহার কারণে এমনটি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে মার্চ মাসের মধ্যে যদি ভারী বর্ষণ না হয় তাহলে এবার চাষিরা রবি ফসলে লাভবান হবে।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে গম ৯ হাজার ৯৭০ হেক্টর, ১ হাজার ২১০ হেক্টর আলু, ৪ হাজার হেক্টর সরিষা, ১৫ হাজার ৮৩৫ হেক্টর ভুট্টা, ২৫ হাজার ৬৫ হেক্টর সবজি, ১ হাজার ৫৪৫ হেক্টর পেঁয়াজ, ৭৫০ হেক্টর রসুন ও ৮ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে মসুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের চেয়ে সরিষা, ভুট্টা, গম, রসুন ও সবজি আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান জানান, স্বল্প সময় ও কম খরচে রবি মৌসুমে উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদ করা সম্ভব। জেলার চাষিরা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে থাকে। অন্যান্য ফসলের দর কমে যাওয়ায় চাষিরা এবার রবি ফসলের দিকে বেশি নজর দিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর