রিটা রহমানের পাশে নেই বিএনপি

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রংপুর
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রিটা রহমান প্রচার-প্রচারণায় পাশে পাচ্ছেন না বিএনপির নেতাকর্মীদের। দলের বড় একটি অংশকে ছাড়াই একলা চলো নীতিতে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া এই প্রার্থী।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর মেডিকেল পূর্বগেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপির অল্প কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে তাকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন রিটা রহমান। গত বছর তাকে নিয়ে দলের মধ্যে অনেক কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলেও শেষে পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই ছিলেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিএনপির স্থানীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে মান-অভিমান।

তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা দেওয়া ও প্রতীক বরাদ্দের দিন হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকর্মী ছাড়া কাউকেই রিটা রহমানের সঙ্গে দেখা যায়নি।

গণসংযোগে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সামসুজ্জামান সামু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, জেলা যুবদলের সাধারণ শামসুল হক ঝন্টু, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ জিল্লুর রহমান, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়ন, রংপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি উপস্থিত ছিলেন। তবে রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

এ পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন রিটা রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের সিনিয়র নেতারা দুই-একদিনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। সেখানে নির্বাচন কর্মপরিকল্পনা ও দিক-নির্দেশনা দেবেন। আমরা তাদের নির্দেশনাতেই কাজ করব।

এ দিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গেই আছি। মামলা-মোকাদ্দমাসহ বিভিন্ন কারণে এখনও দলের সিনিয়র নেতারা একত্রিত হয়ে মাঠে নামেননি। তবে খুব দ্রুতই কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে সবাই একত্রিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃতুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে আগামী ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রিটা রহমান পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট।

আপনার মতামত লিখুন :