Alexa

গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বায়রা লাইফ

গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বায়রা লাইফ

বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ছবি: সংগৃহীত

হাজার হাজার বিমা দাবি পরিশোধ না করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের ৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকাও লোপাট করেছে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটি নিয়ম বর্হিভুতভাবে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ১০ বছরে এই টাকা হরিলুট করা হয়েছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

কোম্পানির এমডি এবং পরিচালকরা মিলে গত ১০ বছরে যথাক্রমে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ৯৮ লাখ, ৫ কোটি ৭৩ লাখ, ৭ কোটি ৪৬ লাখ, ৫ কোটি ৯৭ লাখ, ৫ কোটি ৮২ লাখ, ৪ কোটি ৪৩ লাখ, ৪ কোটি, ৩ কোটি ৬৪ লাখ এবং ৭৩ লাখ টাকা লোপাট করেছে।

যা শতাংশের হিসেবে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ, ১ দশমিক ২১ শতাংশ, ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৮৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, ৬৫ দশমকি ৯৪ শতাংশ, ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ, ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, ৫৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশের বেশি। যা বিমা আইন ২০১০ এর ৬২ ধারার পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: ৬৬২৭ গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ

বিমা আইন হচ্ছে- প্রথম বর্ষের প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ব্যয় করতে পারবে বিমা কোম্পানি। কিন্তু তার চেয়ে বেশি করে একদিকে বিমা আইন লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অতিরিক্ত খরচ না দেখিয়ে এই টাকা শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস বাবদ পলিসিহোল্ডারদের দেওয়া যেতো। কিন্তু কোম্পানি গ্রাহকদের ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত করেছে। এ ছাড়াও কোম্পানির হিসাবগুলোতে গরমিল তথ্য রয়েছে। যা বিমা আইন ২০১০ এর ১৩১ ধারার লঙ্ঘন। মিথ্যা তথ্য প্রদান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব বিষয় যাচাই বাছায়ের জন্য ২০১৫ সালে ২৩ এপ্রিল মাসে আইডিআরএ সঙ্গে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইডিআরএর কাছে খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি অবৈধ ব্যয়কৃত অর্থ পুনঃভরণ করার সময় চায়। আইডিআরএও কোম্পানিকে সময় দেয়। বিষয়টি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অভিহিত করে। কিন্তু পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যা বিমা আইন ২০১০ এর ৮০ ধারা লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে আইডিআরএর সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অদক্ষ। কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ বেশ কিছু সমস্যা পাওয়া গেছে। আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোবাইল ফোনে বায়রা লাইফের ভারপ্রাপ্ত এমডি ওমর ফারুক ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকরার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এগুলোর সমাধান চলছে।’

উল্লেখ্য, সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও নোয়াখালীর ছয় হাজার ৬২৭ জন গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২২ কোটি সাত লাখ টাকা। উল্টো গ্রাহকদের এ টাকায় চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীসহ কর্মকর্তারা দামি ‘লেক্সাস গাড়ি’ ব্যবহারসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :