গত বছরের চামড়া মজুদ, নতুন চামড়া কেনার কদর নেই

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
সাভার ট্যানারি শিল্পী নগরীতে  গত বছরের চামড়ার মজুদ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাভার ট্যানারি শিল্পী নগরীতে গত বছরের চামড়ার মজুদ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারের হেমায়েতপুর থেকে: প্রশস্ত রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট চায়ের স্টলে অবসর সময় কাটছে শ্রমিকদের। ট্যানারিগুলোর ভেতরে নেই কোনো কর্মযজ্ঞ। হাতেগোনা কয়েকটি ট্যানারিতে হাজার খানেক পিস চামড়া ট্রাকে করে এসেছে। আর অধিকাংশ ট্যানারির ভেতরে নিরাপত্তা কর্মীছাড়া আর কেউ নেই।

মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বেসিক শিল্পনগরীতে স্থান্তরিত ট্যানারিগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

ট্যানারি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত ঈদের পরের সাত দিন উৎসবের আমেজ থাকে ট্যানারি পল্লীতে। এবার সাভারের ট্যানারি শিল্প নগরীতে সে ব্যস্ততা নেই। ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার আগ্রহ নেই। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, গত বছরের চামড়া স্টোরে মজুদ আছে। সেগুলো এখনো বিক্রি হয়নি। তাছাড়া বিদেশি ক্রেতা কমে গেছে। এসবের প্রভাব চামড়ার বাজারে পড়েছে। এজন্য দামও কমেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/14/1565762980432.jpg

খোকন ট্যানারি লিমিটেডের মালিক মো.সেলিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখছি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতেই তো বুঝা যায় আমাদের খুব খারাপ অবস্থা। ঈদের সময় ট্যানারিতে প্রচুর শ্রমিক থাকত। কাজ না থাকায় অধিকাংশ ট্যানারি মালিক শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন।

মিতালী ট্যানারি লিমিটেডের সুপারভাইজার মো.সাজু বলেন, গত ঈদে ২৫০ জন শ্রমিক দিয়ে টানা তিন দিন কাজ করিয়ে প্রায় ৭০ হাজার চামড়া আমরা সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু এবার মাত্র ১০ জন মিলে চার-পাঁচ হাজার চামড়া এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করেছি।

চামড়া কম কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই মনে করছে আমরা সিন্ডিকেট করছি। কিন্তু আসল কথা হলো, ট্যানারিগুলোতে চামড়া স্টোরে পড়ে আছে। বিদেশি ক্রেতা নেই। আমরা সীমিত সেল করছি, আগের মতো লাখ লাখ ফুট বিক্রি হচ্ছে না। চামড়া বিক্রি না হলে আমরা কিনব কি করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/14/1565762997043.jpg

জানা গেছে, ট্যানারিগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিকরা ঈদের ছুটিতে রয়েছেন। এর আগে কোরবানি ঈদে কখনোই শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হত না। চামড়া শিল্পে মন্দা অবস্থা থাকায় কোরবানির পর এ চিত্র দেখা যাচ্ছে।

চায়নিজ গোল্ডেন ট্যানারি লিমিটেডের সুপারভাইজার মো. মিন্টু মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গত দুই মাস আগে দুই লাখ ফুট চামড়াতে কেমিকেল দিয়ে কোম্পানি ৬৬ লাখ টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়। তাহলে ঈদের চামড়া কিনব কিভাবে। তার মধ্যে আগের তুলনায় বিদেশি বায়ার অনেক কমে গেছে।

তিনি বলেন, সবাই বলে ট্যানারি মালিক ও পোস্তার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছে। কিন্তু আসল সিন্ডিকেট করেন কেমিকেল ব্যবসায়ীরা। তার কেমিকেল স্টক করে দাম বাড়ায়। ফলে কম দামে কাঁচা চামড়া না কিনতে পারলে আমরা টিকতে পারব না। আর এসব সমস্যার কারণে এবার ঈদে এ অবস্থা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :