Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্থিরতা নামাজের প্রাণ

স্থিরতা নামাজের প্রাণ
স্থিরতা নামাজের প্রাণ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

খুশু অর্থ মনের স্থিরতা। ইসলামি পরিভাষায় খুশু বলা হয়- মনের গহীনে আল্লাহতায়ালার প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধাবোধ, ভক্তি, ভালোবাসা ও ভয় লালন করে বিনয়ের আতিশয্যে নামাজে নিমগ্ন হয়ে থাকাকে। সারকথা, মন নামাজ থেকে ছুটে অন্যকোনো কিছুর দিকে না যাওয়া, নামাজের মধ্যে মনে অন্যকিছুর খেয়াল না আসা, আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের অনুভূতি ও অবস্থা জাগ্রত থাকা ইত্যাদিই খুশু।

খুশু যদিও মনের একটি অবস্থার নাম কিন্তু বাহ্যিক অঙ্গে তার একটা ছাপ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়ে থাকে। তাই হাত, পা, চোখ, মাথা ইত্যাদি অঙ্গ নামাজের মধ্যে অহেতুক নড়াচড়া না করাও খুশুর অংশ।

খুশু নামাজের প্রাণ। এ ছাড়া নামাজ হবে নিষ্প্রাণ, মূল্যহীন, নিছক লাশ। নামাজের যত সওয়াব, ফজিলত, মর্যাদা ও পুরষ্কার কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে সে সবকিছু খুশুযুক্ত নামাজের জন্যই। খুশুবিহীন নামাজ মহান মালিকের কাছে সওয়াব ও পুরষ্কার যোগ্য হয় না।

জীবনে চূড়ান্ত সফলতা লাভের জন্য মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে গুণ অর্জন করতে বলেছেন তা হলো- নামাজের খুশু। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘অবশ্যই সফল হয়েছে ওই সকল মুমিন, যারা তাদের নামাজে খুশু (মনের স্থিরতা ও ধ্যান মগ্নতা) ধরে রাখে।’ -সূরা মুমিনুন: ১-২

খুশুর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে যেয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর জিকিরের (নামাজ) জন্য এবং যে সত্য তিনি অবতীর্ণ করেছেন তার (কোরআন) জন্য তাদের অন্তরে খুশু আসার (ভক্তি-বিগলিত হওয়ার) সময় কি এখনও আসেনি?’ -সূরা হাদিদ: ১৬

এ আয়াতে মহান আল্লাহ মনের মধ্যে খুশু অর্জনের আদেশ দিয়েছেন। আবার এ আয়াতের শেষাংশে তিনি পূর্ববর্তী পাপীদের মতো কঠিন মনের হতে নিষেধ করেছেন।
এ থেকে বুঝা যায় মানুষের পক্ষে মন কঠিন হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা আর মনের মধ্যে খুশু অর্জন করা সম্ভব। চেষ্টা করলে ও সদিচ্ছা থাকলে এক জন মানুষ এ গুণ অর্জন করতে পারবে।

মনের মধ্যে খুশু অর্জনের কিছু উপায়
১. খুশু লাভের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তার তওফিক ছাড়া কোনো সৎ কর্ম করার সাধ্য বান্দার নেই।

২. নামাজের আগে সকল সুন্নত ও আদব রেয়ায়েত করে অজু করা।

৩. অজু ও নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে দুনিয়াবি কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া।

৪. খুশু লাভের সদিচ্ছায় নামাজের বাহ্যিক সকল সুন্নত ও আদব রক্ষা করা। দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার স্থানে, রুকু অবস্থায় পায়ের মাঝে, সেজদা অবস্থায় নাকে, বসা অবস্থায় কোলে দৃষ্টি রাখা।

৫. নামাজে পাঠ করা প্রতিটি বাক্য ও শব্দকে তার অর্থ ও মর্ম বুঝে বুঝে মনের আবেগ থেকে উচ্চারণ করা। সেই অর্থ ও মর্মের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে একাকার করে ফেলা।

. নামাজে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকা, এটাই আমার জীবনের শেষ নামাজ।

৭. নিয়মিত কিছুক্ষণ নিজেকে মৃত্যু, কবর, হাশর ও জাহান্নামের সম্মুখীন কল্পনা করা।

. নিয়মিত (সম্ভব হলে অর্থ বুঝে) কোরআন তেলাওয়াত করা।

৯. সকল কাজের ও সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন জিকির অর্থ বুঝে আদায় করা।

১০. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাগণের নামাজ আদায়ের ধরণ পাঠ করা ও পরস্পর আলোচনা করা।

১১. নামাজে এ কথা ভাবা যে, আমি এখন সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছি। তিনি আমার প্রতিটি কথার উত্তর দিচ্ছেন।

মনে রাখতে হবে, নামাজে বাহ্যিক অঙ্গগুলোর অবস্থান ঠিক করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- নামাজে মনের স্থিরতা, মনের নিমগ্নতা ধরে রাখা। নামাজে হাত কোথায় থাকবে, দৃষ্টি কোথায় থাকবে, হাত কখন উঠাতে হবে আর কখন ছেড়ে দিতে হবে এগুলো নিয়ে হাদিস বিশারদ ও ফেকাহবিদদের মাঝে প্রচুর মতপার্থক্য আছে। কিন্তু নামাজ কবুল হওয়ার জন্য যে মন স্থির রাখতে হবে, ধ্যানমগ্নতার সাথে নামাজ পড়তে হবে এতে কিন্তু কোনো হাদিসবিদ, ফেকাহবিদ, তাফসিরবিদ মতপার্থক্য করেননি। সর্বসম্মত বিষয়ের প্রতি অত্যাধিক যত্নবান না হয়ে, বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিবাদ করে আমরা নিজেদের সময় ও সম্পর্ককে নষ্ট করি।

নামাজের কাজগুলোর মধ্যে সবার আগে ও সবার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে খুশুকে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র