Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রস্তুত ইজতেমার ময়দান: স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সব কাজ

প্রস্তুত ইজতেমার ময়দান: স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সব কাজ
ইজতেমার ময়দানের দৃশ্য, ছবি: বার্তা২৪.কম
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ইজতেমার ময়দন থেকে ফিরে: টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে। ওই দিন বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা।

শুক্রবার শুরু হলেও মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকেই অনেককে জামাতবদ্ধভাবে ইজতেমার মাঠে আসতে দেখা দেখা গেছে। তারা মাঠ প্রস্তুতির কাজে অংশ নিয়ে ইজতেমা শেষ করেই তবে বাড়ি ফিরবেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ২ দিনে ইজতেমা। এই দুইদিন ইজতেমা পরিচালনা করবেন আলমি শুরার পক্ষে হাফেজ মাওলানা যোবায়ের।

আর দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তাদের অনুসারীদের ইজতেমা ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু করে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ। এভাবে দুই দিন করে মোট চার দিন অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমার মাঠ প্রায় প্রস্তুত। হাজার হাজার তাবলিগি সাথী, সাধারণ মুসল্লি ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানে চট টাঙানোসহ যাবতীয় আনুষঙ্গিক কাজ করছেন।

মাঠের পূর্ব পাশে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বালু দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছে। প্রতিদিন ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দল বেঁধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিত্বে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন।

মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিণ অংশে এখনও চটের ছাউনি দেওয়া বাকি। তবে বাঁশের খুঁটি পুতা হয়ে গেছে। নতুন চটের বান্ডেল মাঠে এসেছে, সেখান থেকে টানানোর জন্য তা নিয়ে যাচ্ছেন মুসল্লিরা।

বিদেশি মুসল্লিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টিনের ঘর। বিদেশি মেহমানদের কামরার দক্ষিণ পূর্ব পাশে মূল মঞ্চের কাজ করা হচ্ছে। বানানো হয়েছে নামাজের মঞ্চ। খুঁটিতে লাগানো হয়েছে মুকাব্বিরদের স্থান নির্দেশক কাগজও।

মাঠে জেলা অনুযায়ী বিভিন্ন খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান করবেন। খিত্তা নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে প্রস্তুত ছাতা মাইক লাগানো, বিদ্যুতের তার টানানো, গ্যাসের লাইন স্থাপন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে একইসঙ্গে। অজুর হাউজ ও বাথরুম পরিষ্কার করার পাশাপাশি মাঠের ভেতরে চলাচলের রাস্তার প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের ৮ হাজার পাকা টয়লেট ও ১ এক হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারের বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তুরাগ নদীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৮টি ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।

বিশ্ব ইজতেমা সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন এবং দ্বীনের মেহনত কায়েমের লক্ষ্যে মুসল্লিরা দলে দলে ভাগ হয়ে ইজতেমার মাঠে কাজ করছেন। তিতাস গ্যাস, ডেসকো, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন মাঠ প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করছে।

বিদেশি মেহমানদের জন্য ময়দানের উত্তর পশ্চিম পাশে তৈরি করা হচ্ছে টিনসেডের আলাদা থাকার জায়গা। মাঠের বাইরে ও মাঠের ভেতরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে।

তাবলিগের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩৮টি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ট্রেন বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। অন্যদিকে বিআরটিসি ৩০০ বিশেষ বাস সার্ভিসের সেবা দেবে।

ইজতেমা ময়দানে ১৭টি প্রবেশপথ আছে। এসব গেটে আর্চওয়ে থাকবে। ১৫টির বেশি ওয়াচ টাওয়ার বানানো হয়েছে। ময়দানের ওপর হেলিকপ্টারের টহল থাকবে। তাৎক্ষনিক বিচার, নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ খাবার এবং আনুষঙ্গিক বিষয় সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩০টি মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠের আশেপাশে কাজ করবে।

ইজতেমা দুই গ্রুপের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেকেই স্ব স্ব অংশের শেষের দিকে একটি করে মোনাজাত করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র