Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

টেলিভিশনে কাবা শরিফের লাইভ দেখা কতটুকু উপকারী

টেলিভিশনে কাবা শরিফের লাইভ দেখা কতটুকু উপকারী
মক্কা শরিফ, সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র কাবাঘর যেকোনো মুসলমানের বাসনা ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মুমিনমাত্রই কাবাঘর ও রাসূলের রওজার সবুজ গম্বুজের স্বপ্ন দেখে।

ইমাম বায়হাকি ও তাবরানি একটি হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে উল্লেখ আছে, হজরত আবু উমামা (রা.) হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- চার স্থানে আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং দোয়া কবুল করা হয়। নামাজের কাতার ঠিক করার সময়, বৃষ্টি বর্ষণের সময়, নামাজ আদায়ের সময়; নামাজের ইকামতের সময় ও কাবাঘর দেখার সময়। -বায়হাকি, হাদিস নং: ১৭৯৬, তাবরানি, হাদিস নং: ৭৬১৩

কাবা শরিফ দেখা এবং তাওয়াফে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও মর্যাদা। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বাইতুল্লাহ তথা কাবা শরিফের ওপর প্রতিদিন ১২০টি রহমত নাজিল করেন। তান্মধ্যে ৬০টি রহমত তাওয়াফকারীদের জন্য। ৪০টি রহমত নামাজ আদায়কারীদের জন্য, ২০টি রহমত কাবা শরিফ দর্শণার্থীদের জন্য।’

এ কারণে হজ-ওমরা পালনকারীরা কাবা শরিফ অবস্থানকালে যতটা সম্ভব মন ভরে কাবা শরিফ দেখেন, সাধ্যমতো বেশি বেশি তওয়াফ করার চেষ্টা করেন। যারা কোনো কারণে কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে পারেন না, তারা মন ভরে কাবা শরিফকে দেখেন।

যেহেতু কাবাঘর দেখা সওয়াবের কাজ, তার দিকে তাকিয়ে থাকাও ইবাদাত। সেটা কবুলের মুহূর্তও। কিন্তু সে দেখাটা হতে হবে বাস্তবে সামনাসামনি। তা না করে টেলিভিশনে কাবাঘর লাইভ দেখাতে কোনো ফায়দা নেই।

তবে হ্যাঁ, কাবাঘর দেখে মানুষের মনে ভিন্ন কিছু অনুভূতি ও আবেগ তৈরি হয়। টেলিভিশনের পর্দায় আল্লাহর ঘর কাবা দেখার কারণে একটা পরিবর্তন আসতে পারে, এর দ্বারা ভালো কাজের অনুপ্রেরণা মনে জাগতে পারে। হজ-ওমরা পালন না করে থাকলে তা করার জন্য আগ্রহ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া এর দ্বারা সুনির্দিষ্ট আর কোনো সওয়াব হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। ইসলামি স্কলাররা এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।

সৌদি আরবের টেলিভিশন চ্যানেলে কাবা শরিফের তাওয়াফসহ নামাজ, সাফা-মারওয়ার দৃশ্য লাইভ দেখালে তার সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত চলতে থাকে। ওই তেলাওয়াত শোনার কারণে অনেকের মধ্যে দ্বীনি পরিবেশে থাকার কারণে দ্বীনের চর্চার একটা আবেগ কাজ করতে পারে। টেলিভিশনের লাইভে কাবা দেখায় এমন ফায়দা হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট সওয়াবের বিষয়টি হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। এটা দেখলে সওয়াব হবে এটা বলার অবকাশ নেই। বরং টেলিভিশনে কাবা লাইভ না দেখে নফল কোনো ইবাদতে মশগুল থাকা অধিক উপকারী।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র