Alexa

আলহামদুলিল্লাহ ও জাজাকাল্লাহর মতো শব্দগুলো কখন বলতে হয়

আলহামদুলিল্লাহ ও জাজাকাল্লাহর মতো শব্দগুলো কখন বলতে হয়

আলহামদুলিল্লাহ ও জাজাকাল্লাহর মতো শব্দগুলো কখন বলতে হয়, ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য সুন্দর শব্দ ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার শিক্ষা দিয়েছে। এর অর্থ আল্লাহ আপনাকে এর বদলা দিন প্রতি উত্তরে অপর পক্ষ বলবে, ‘হাইয়্যাকাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। তাহলে উভয়েই উপকৃত হবেন। তা ছাড়া এসব শব্দ আল্লাহতায়ালার জিকিরের অন্তর্ভুক্ত। এসব বলায় রয়েছে প্রচুর সওয়াব।

আল্লাহর জিকিরের অর্থ হলো- মুখে সব সময় সব ব্যাপারে কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর নাম উচ্চরিত হওয়া। যেকোনো কথা-বার্তা ও কাজে-কর্মে চেতনে-অবচেতনে আল্লাহর নাম নেওয়া। তবে এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়া খুব সহজ নয়। কোনো লোকের মধ্যে এরূপ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় না যতক্ষণ তার হৃদয়ে আল্লাহর চিন্তা-খেয়াল সম্পূর্ণ দৃঢ়মূল হয়ে না হয়। চেতনার স্তর হতে অবচেতন ও অনবচেতন পর্যন্ত আল্লাহর চিন্তা গভীর হয়ে গেলেই একজন লোকের এ অবস্থা হতে পারে যে, সে যে কাজই করবে আর যে কথাই বলবে তাতে আল্লাহর নাম সে অবশ্যই উচ্চারণ করবে।

যেমন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ, খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ, বিছানায় যেতে এবং শয্যা ত্যাগের সময় আল্লাহকে স্মরণ করা। সাধারণ কথা-বার্তায় মুখে বারেবারে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাআল্লাহ, ফি আমানিল্লাহ ও অনুরূপ অর্থের শব্দ বলা। নিজের সব ব্যাপারে আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের প্রার্থনা করা। আল্লাহর প্রতিটি নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা। বিপদ-মুসিবত ও বিভিন্ন জটিলতার জন্য শুধু আল্লাহর দিকে মুখ করা এবং তার সাহায্যের মুখাপেক্ষী হওয়া।

মোট কথা উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ও দুনিয়ার সব কাজ করতে আল্লাহর স্মরণ হচ্ছে মুমিনের প্রাণশক্তি। এর অভ্যাস গড়ে তোলা।

এর বিপরীতে Thank You, Good Bye, Tata, Good Morning, Congratulation ইত্যাদি শব্দ কারো জন্য কোনো ফল বয়ে আনে না। এগুলোতে কোনো কল্যাণ কামনা নেই, কোনো প্রাথর্না নেই।

তাই কল্যাণময় জীবনের জন্য এখানে কিছু শব্দ উল্লেখ করা হলো। এগুলো যদি প্রাত্যহিক জীবনে চালু করা যায়, তাহলে মানুষের জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে- ইনশাআল্লাহ।

যেমন, কারো সাক্ষাতে- আসসালামু আলাইকুম বলা। প্রতিউত্তরে, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলা।

কোনো কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলা। শুভ সংবাদ শুনে আলহামদুলিল্লাহ বলা।

ছেলেমেয়ে বা অন্যের ভালো সংবাদে মাশাআল্লাহ বলা, আল্লাহর মহিমার কোনো সংবাদে সুবহানাল্লাহ বলা।

কোনো মন্দ কাজ হতে দেখলে নাউজুবিল্লাহ বলা এবং আপনার দ্বারা কোনো অন্যায় হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আসতাগফিরুল্লাহ পড়ে নেওয়া।

কোনো কাজ পরে করান ওয়াদার সময় ইনশাআল্লাহ বলা। তদ্রুপ কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য জাজাকাল্লাহ বলা আর প্রতিউত্তরে হাইয়্যাকাআল্লাহ বলা।

আল্লাহর সাহায্যের জন্য লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ বলা। কারো কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আল্লাহ হাফেজ বা ফিআমানিল্লাহ বলা।

এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজে মাসনুন দোয়া পাঠের অভ্যাস করা।

লেখার শুরুতে বলা হয়েছে, এগুলো জিকিরের অন্তর্ভুক্ত। জিকির প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘(তারাই বুদ্ধিমান) যারা উঠতে, বসতে ও শয়নে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে (আপনা আপনি বলে উঠে) হে আমাদের রব! এসব তুমি অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীনভাবে সৃষ্টি করোনি। বাজে ও নিরর্থক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র ও মুক্ত। কাজেই হে প্রভু! জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদের মুক্ত করো।’ -সূরা আলে ইমরান: ১৯১

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের উচিৎ কোরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত বাক্যগুলো প্রয়োগ করা। মাত্র কয়েক দিন চেষ্টা করলেই দেখা যাবে, মনের অজান্তে শব্দগুলো মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে, এভাবেই প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হবে- ইনশাআল্লাহ।

আপনার মতামত লিখুন :