Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ মেলে ইতেকাফে

আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ মেলে ইতেকাফে
আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ মেলে ইতেকাফে, ছবি: বার্তা২৪.কম
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মাঝে মাহে রমজান আসে প্রতি বছর। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য পবিত্র রমজানের পুরো মাস সিয়াম পালন করা ফরজ। রমজানের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে কদর রাতপ্রাপ্তির সুনিশ্চিত প্রত্যাশায় সর্বোপরি আল্লাহতায়ালার একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফকে সুন্নত করা হয়েছে।

ইতিকাফ অর্থ
ইতিকাফ আরবি ‘আক্ফ’ মূল ধাতু থেকে গঠিত একটি শব্দ। আক্ফ শব্দের অর্থ হলো- অবস্থান করা। যেমন আল্লাহর বাণী ‘ওয়ানতুম আকিফুনা ফিল মাসজিদি’ -আর তোমরা নামাজের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে অবস্থানরত।’ -সূরা বাকারা:১৮৭

আভিধানিকভাবে কোনো বস্তুকে বাধ্যতামূলকভাবে ধারণ করা কিংবা কোনো বস্তুর ওপর নিজেকে দৃঢ়ভাবে আটকিয়ে রাখার নাম ইতিকাফ। আল্লামা শামী (রহ.) স্ত্রীলোকদের জন্য নিজ নিজ ঘরে নামাজের নির্ধারিত স্থানে অবস্থানকে ইতিকাফ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতসহকারে নিয়মিত আদায় করা হয়- এমন মসজিদে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়তসহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং ইতিকাফ করেছেন এবং ইতিকাফ করার জন্য সাহাবাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদ মুত্তাকিদের ঘর। যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবে আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত নাজিল করবেন এবং পুলসিরাত পারপূর্বক জান্নাতে পৌঁছানোর জিম্মাদার হবেন।’

ইতিকাফের প্রকারভেদ
সুন্নত ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। অর্থাৎ ২০ রমজানের সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করা। এ ধরনের ইতিকাফকে সুন্নতে মোয়াক্কাদা কিফায়া বলা হয়। গ্রাম বা মহল্লাবাসীর পক্ষে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি এই ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে।

ওয়াজিব ইতিকাফ
নজর বা মানতের ইতিকাফ ওয়াজিব। যেমন কেউ বলল যে, আমার অমুক কাজ সমাধা হলে আমি এতদিন ইতিকাফ করব অথবা কোনো কাজের শর্ত উল্লেখ না করেই বলল, আমি এতদিন অবশ্যই ইতিকাফ করব। যতদিন শর্ত করা হবে ততদিন ইতিকাফ করা ওয়াজিব। ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। সুন্নত ইতিকাফ ভঙ্গ করলে তা পালন করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

নফল ইতিকাফ
সাধারণভাবে যেকোনো সময় ইতিকাফ করা নফল। এর কোনো দিন কিংবা সময়ের পরিমাপ নেই। অল্প সময়ের জন্যও ইতিকাফ করা যেতে পারে। এ জন্য মসজিদে প্রবেশের পূর্বে ইতিকাফের নিয়ত করে প্রবেশ করা ভালো।

ইতিকাফের উদ্দেশ্য
ইতিকাফের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে- লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ। ইতিকাফের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রতি মন নিবিষ্ট করা, তার সঙ্গে নির্জনে বাস করা এবং স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি থেকে দূরে অবস্থান করা যাতে করে তার চিন্তা ও ভালোবাসা মনে স্থান করে নিতে পারে।’

আল্লামা হাফেজ ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন, ‘ইতিকাফের উদ্দেশ্য হলো- সৃষ্টির সঙ্গে সাময়িকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কায়েম করা। আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় যত দৃঢ় হবে, সম্পর্ক ও ভালোবাসা তত গভীর হবে এবং তা বান্দাকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাবে।’

ইতিকাফের ফজিলত
হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তি ও দোজখের মধ্যে ৩ খন্দক পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করেন।’ -তাবরানি ও হাকেম

প্রত্যেক খন্দক পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়ে আরো বহুদূর।

আলী বিন হোসাইন (রা.) নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ১০ দিন ইতিকাফ করে, তা দুই হজ ও দুই ওমরার সমান।’ –বায়হাকি

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে বিরত থাকে। তাকে সব নেক কাজের কর্মী বিবেচনা করে বহু সওয়াব দেওয়া হবে।’ -ইবনে মাজাহ

ইতিকাফের শর্ত
১. মুসলমান হওয়া, ২. পাগল না হওয়া, ৩. বালেগ হওয়া, ৪. নিয়ত করা, ৫. ফরজ গোসলসহ হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া, ৬. মসজিদে ইতিকাফ করা (ইমাম মালেক রহ.-এর মতে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর মতে, যে মসজিদে জামাতসহকারে নামাজ হয় না, সে মসজিদে ইতিকাফ জায়েজ নেই), ৭. রোজা রাখা।

মহিলাদের ইতিকাফ
মহিলারা ঘরের যে অংশে সাধারণত নামাজ পড়া হয় সেই রকম কোনো অংশকে ইতিকাফের জন্য নির্দিষ্ট করে দশ দিন কিংবা কম সময়ের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করে সেই জায়গায় বসে ইবাদত-বন্দেগি শুরু করবেন।

শরিয়ত নির্ধারিত কোনো ওজর ছাড়া সেখান থেকে উঠে অন্যত্র না যাওয়। (রাতে সেখানেই ঘুমাবেন)। ইতিকাফ অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিক শুরু হয়ে যায় তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

শেষ কথা
ইতিকাফ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাওয়া যায়। তাই সবার উচিত যথানিয়মে ইতিকাফ করা।

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র