Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ইতিকাফ বিষয়ে ১৫টি মাসয়ালা

ইতিকাফ বিষয়ে ১৫টি মাসয়ালা
ইতিকাফ অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করছেন এক মুসল্লি, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতসহকারে নিয়মিত আদায় করা হয়- এমন মসজিদে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়তসহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফ সহিহ-শুদ্ধভাবে পালনের জন্য মাসয়ালা জানা জরুরি। আজ থাকছে এমন জরুরি ১৫টি মাসয়ালা।  

খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে নিজের খাবার নিজে আনতে পারবেন
ইতিকাফকারীকে মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনার জন্য তিনি বাসায় যেতে পারবেন। এ কারণে ইতিকাফ ভাঙবে না। তবে খাবার আনার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কোনো কাজে বিলম্ব করা যাবে না। অন্য কাজে অল্প সময় ব্যয় করলেও ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। অবশ্য ঘটনাক্রমে খাবার প্রস্তুত না হলে সেজন্য অপেক্ষা করতে পারবেন। -আল বাহরুর রায়েক: ২/৩০৩

কোনো মসজিদে একজনও ইতিকাফ না করলে পুরো মহল্লাবসাী গোনাহগার হবেন
রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। যদি কোনো মসজিদে এক জনও ইতিকাফে বসেন তাহলে এলাকাবাসী সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার গোনাহ থেকে বেঁচে যাবেন। আর যদি একজনও ইতিকাফ না করে তাহলে ওই এলাকার সবাই গোনাহগার হবেন। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/২৬৭

ইতিকাফ বিনিময়যোগ্য ইবাদত নয়
ইতিকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়যোগ্য নয়। তাই ইতিকাফের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়। কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ইতিকাফ করালে সে ইতিকাফ সহিহ হবে না। অতএব এ জাতীয় ইতিকাফ দ্বারা এলাকাবাসী দায়িত্বমুক্ত হতে পারবেন না। -ফাতহুল কাদির: ২/৩০৪

ইতিকাফরত ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণে বাইরে গেলে কুশল বিনিময় করতে পারবেন
ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা-যাওয়ার পথে পথ চলতে চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবেন। তদ্রূপ এ সময় পথ চলতে চলতে কারও সঙ্গে অল্পস্বল্প কথাও বলতে পারবেন। এতে ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে না। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় চলতে চলতে রোগীর কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন। কিন্তু এর জন্য রাস্তায় দাঁড়াতেন না। -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৭২

তবে কারও সঙ্গে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞাসার জন্য মসজিদের বাইরে অল্প সময়ও দাঁড়ানো জায়েজ হবে না।

মসজিদের বাথরুম না থাকলে বাসায় যেয়ে প্রয়োজন পূরণ করার সুযোগ আছে
প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন মেটাতে ইতিকাফকারীর জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েজ। প্রয়োজনে এ জন্য বাসা-বাড়িতেও যাওয়া যাবে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না। -সহিহ বোখারি: ১/২৭২

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা ও করানো নাজায়েজ
বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কারণ ইতিকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েজ। এমন লোকের ইতিকাফ দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না। -সুনানে জামে তিরমিজি: ১/৫১

বুঝমান নাবালেগের ইতিকাফ সহিহ
বুঝমান নাবালেগের ইতিকাফ সহিহ। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্য থেকেই ইতিকাফে বসা উচিত। কেননা রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গুরুত্ব সহকারে আদায় করতেন। তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা মোটেই ভালো নয়। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৭৪

পুরুষের ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মসজিদ হওয়া জরুরি
পুরুষের ইতিকাফ সহিহ হওয়ার জন্য শরঈ মসজিদ হওয়া জরুরি। নামাজঘরে ইতিকাফ সহিহ হবে না। তাই ইতিকাফে বসতে চাইলে মসজিদেই বসতে হবে। খানা আনা-নেওয়ার জন্য কেউ না থাকলে ইতিকাফ অবস্থায় খানা-নেওয়ার জন্য বাড়ি যেতে পারবেন। তবে খানা নিয়ে দ্রুত মসজিদে ফিরে যেতে হবে। বাইরে বিলম্ব করা যাবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১

নারীর ইতিকাফের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা জরুরি
নারীর ইতিকাফ করার জন্য বাসার একটি কক্ষকে নামাজঘর হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিতে হবে এবং ইতিকাফের পূর্ণ সময় এ ঘরেই অবস্থান করতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১

কোনো অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফ শুদ্ধ হবে না
কোনো অস্থায়ী নামাজের ঘর যেহেতু ‘শরঈ মসজিদ’ নয় তাই তাতে ইতিকাফ সহিহ হবে না। ইতিকাফ সহিহ হওয়ার জন্য ‘শরঈ মসজিদ’ হওয়া জরুরি। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে মিলিত হয়ো না। -সূরা বাকারা: ১৮৭

ইমাম কুরতুবি (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, মসজিদ ছাড়া অন্যস্থানে ইতিকাফ সহিহ হবে না। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/৪৪২

ইতিকাফের কাজা আদায়ের পদ্ধতি
কেউ রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফে বসে অসুস্থতার দরুণ শেষ পর্যন্ত পূরণ করতে পারেনি। এক্ষেত্রে তাকে একদিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে। আর তা রমজানেও হতে পারে। এজন্য সে কোনো একদিন সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করবে। অবশ্য রমজানের বাইরে ইতিকাফটি কাজা করতে চাইলে দিনের বেলা নফল রোজা রাখতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৪৪৪-৪৪৫

ইতিকাফরত ব্যক্তি সাধারণ গোসলের জন্য বের হতে পারবে না
রমজান মাসের শেষ দশকের ইতিকাফরত ব্যক্তি সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন না। বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে ফরজ গোসলের জন্য বের হতে পারবেন। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১২

এক কথায়, অভ্যাসবশত দৈনিকের গোসলে জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে না। তবে হ্যাঁ, একান্তই যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে মলমূত্র ত্যাগ করে আসার সময় সুন্দরভাবে অজু করতে যে সময় লাগে ঠিক ওই সময়ের মধ্যে যদি তাড়াহুড়ো করে গোসল করা সম্ভব হয় তবে অজু না করে সময়ের এ শর্ত মেনে গোসল করা যেতে পারে। বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বটে। যা অত্যন্ত সতর্কতার দাবি রাখে।

আবার এর জন্য সহযোগীও দরকার যে আগে থেকেই পানির ব্যবস্থা করে রাখবে, গোসলের পরে কাপড় ধোঁয়ে দেবে। অজুখানায় শাওয়ার থাকলে বিষয়টি কিছুটা সহজ হয়।

ইতিকাফকারী জানাজার নামাজে শরিক হতে পারবেন না
জানাজার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ থাকে না। তাই ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদের বাইরের জানাজার নামাজে শরিক হওয়া যাবে না। বের হলে সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৬৫

নারী ইতিকাফ শুরুর পর তার স্রাব শুরু হলে করণীয়
কোনো নারী নিজ ঘরে সুন্নত ইতিকাফ শুরুর তিন দিন পর তার মাসিক শুরু হলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। যে দিন মাসিক শুরু হয়েছে শুধু সেই একদিনের ইতিকাফ কাজা করে নেওয়া জরুরি। এই এক দিন কাজা করার নিয়ম হলো- একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে। পরবর্তী দিন রোজা থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে। এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭

সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোজা ছাড়া ইতিকাফ হয় না। -সুনানে বায়হাকি: ৪/৩১৭

অন্য বর্ণনায় আছে, সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ইতিকাফকারীর জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/৩০০

ইতিকাফের ফজিলতে অতিরঞ্জিত কথা কাম্য নয়
ইতিকাফের ফজিলত বলতে যেয়ে অনেকে অতিরঞ্জিত করে ফেলেন। কেউ কেউ বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের দশদিন ইতিকাফ করল সে যেন দুই হজ ও দুই উমরা করলো। ইতিকাফের ফজিলত বলতে যেয়ে এসব বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এগুলো মানুষের মাঝে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত আমল। হজরত রাসূলুল্লাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা তা প্রমাণিত। এক রমজানে কোনো কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৬৮

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র