Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরবানির জন্য যা জানা আবশ্যক

কোরবানির জন্য যা জানা আবশ্যক
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ইসলাম ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোনো ব্যক্তি যদি পশু খরিদ করার সময় শরিক না নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, পরবর্তিতে শরিক নিতে চায়, তাহলে ক্রেতা গরিব হলে শরিক নিতে পারবে না, ধনী হলে পারবে।

যার সব উপার্জন বা অধিকাংশ উপার্জন হারাম, তাকে শরিক হিসেবে নিলে অন্যদের কোরবানিও ফাসিদ হয়ে যাবে।

যদি কোরবানির পশু কেনার সময় সব অংশীদারের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করার নিয়ত থাকে, তাহলে পশু খরিদ করার পর ৭ জন পর্যন্ত নতুন অংশীদার নেওয়া যাবে। কিন্তু যদি তাদের মধ্য থেকে একজন নফল কোরবানি করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আর অতিরিক্ত শরিক নেওয়া যাবে না। তাই শরিক নেওয়ার বিষয়টি পশু খরিদ করার আগেই চূড়ান্ত করে নেওয়া উচিত।

ঋণ করে কোরবানি করা

কোনো ব্যক্তির ওপর সম্পদের হিসাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। কিন্তু তার কাছে নগদ অর্থ নেই, আবার সে কোরবানি জন্য সম্পদ বিক্রিও করতে চায় না, তাহলে সে প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও কোরবানি করবে। যেমন সে তার অন্য প্রয়োজনে ঋণ করে থাকে।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করা জায়েজ আছে। এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি সওয়াবের অধিকারী হবেন এবং এ কোরবানির গোশত সাধারণ কোরবানির মতো যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবে- খেতেও পারবে আবার দানও করতে পারবে। তবে কোরবানি যদি মৃত ব্যক্তির ওসিয়তের ভিত্তিতে হয়, তাহলে সে কোরবানির গোশত কোরবানিদাতার ওপর খাওয়া জায়েজ নয়, বরং তা সদকা করে দিতে হবে।

জীবিত মানুষের নামে কোরবানি

জীবিত মানুষ একজন অপরজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করলে কোরবানি শুদ্ধ হয় এবং যার পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সে তার সওয়াব পেয়ে যায়। আর যদি তার নির্দেশক্রমে হয়, তাহলে তার ওয়াজিব কোরবানি আদায় হয়ে যায়।

নিজ এলাকায় কোরবানি করা

নিজ এলাকায় কোরবানি করা উত্তম। অন্য এলাকায় কোরবানি করালেও জায়েজ আছে।

হাজিদের কোরবানি

কোনো হাজি যদি ৮ জিলহজের ১৪ দিন আগে মক্কায় পৌঁছে তাহলে, সে মক্কায় মুকিম সাব্যস্ত হবে। সে যদি নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তাহলে তাকে হজের কোরবানি ছাড়াও ভিন্ন একটি কোরবানি করতে হবে। এ কোরবানিটি হারামের এলাকায় করা আবশ্যক নয়। নিজ এলাকায়ও করা যায়। তবে সে যদি ৮ জিলহজেও ১৪ দিন আগে মক্কায় না পৌঁছে, তাহলে সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার ওপর সাধারণ কোরবানি ওয়াজিব নয়। তামাত্তু বা কেরান হজ করলে দমে শুকুরের কোরবানি করতে হবে।

নবী করিম (সা.)-এর নামে কোরবানি

নবী করিম (সা.)-এর নামে কোরবানি করা জায়েজ আছে এবং গোশত বণ্টনের বিধান সাধারণ কোরবানির মতোই।

চামড়ার বিধান

কোরবানির চামড়া যদি বিক্রি না করে আপন অবস্থায় রেখে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, তাহলে ওই টাকা সদকা করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে এ টাকা দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ এতে দান ও করা হয় আবার দ্বীনি ইলম শেখার ক্ষেত্রে সাহায্যও করা হয়। চামড়ার টাকার মূল্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা বৈধ নয়।

কোরবানির চামড়ার টাকা মসজিদ মাদরাসা নির্মাণকাজে বা বেতন বাবদ বা অন্য কোনো নেক কাজে খরচ করা জায়েজ হবে না।

যেসব কোরবানির গোশত সদকা করা ওয়াজিব

১. মান্নতের কোরবানির গোশত, ২. মৃত ব্যক্তির ওসিয়তের ভিত্তিতে তার সম্পদ থেকে কোরবানি করা হলে, ৩. কোরবানির পশু খরিদ করার পর সে পশু বাচ্চা দিলে সে বাচ্চা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব, ৪. কোরবানির দিনগুলোয় কোরবানি করতে না পারলে পরবর্তিতে পশু ক্রয় করে জীবিত সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি জবেহ করে দেয়, তাহলে গোশত সদকা করা ওয়াজিব।

অংশীদারদের কোনো একজনের নিয়ত যদি থাকে বিগত বছরের কোরবানি কাজা করা, তাহলে সবারই কোরবানির গোশত সাদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।

আপনার মতামত লিখুন :

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
সবার মাঝে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: এবারের হজের ভুল-ক্রটি সংশোধন করে আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মক্কায় সৌদি সরকারের দক্ষিণ এশিয়া হজ সেবা সংস্থা মোয়াসসাসার সঙ্গে হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মতবিনিময় ও নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আগামীতে হাজিদের আরও সুবিধা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত হাবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেশে ফিরে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজিদের কষ্ট হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোয়াসসাসা চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাইল বদর। তিনি বাংলাদেশি হাজিদের সুবিধায় সৌদি আরব সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'হাজিদের সুবিধা দেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। হাজিদের আল্লাহর মেহমান উল্লেখ করে ড. রাফাত বলেন, ই-ভিসা সিস্টেম ও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মতো সুযোগ-সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, এটা নিয়ে কাজ চলছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566052174957.jpg

হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হজ এজেন্সিগুলোর মালিক, প্রতিনিধি ও ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে হজে আসা বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোয়াসসাসার ডিরেক্টর জেনারেল ওমর সিরাজ আকবর নিজেকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি গর্ববোধ করি বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে পেরে।'

সৌদি আরব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (দক্ষিণ এশিয়া) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ফাহাদ রাহমা, হাব মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদারসহ হাব নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাবের পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মোয়াসসারার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে পৌঁছার পর বিমান বন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গা মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও কংকর নিক্ষেপের স্থান জামারার হাজিদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে মোয়াসসাসা অফিস। মোয়াসসাসার অধীনে প্রায় শতাধিক মুয়াল্লিম রয়েছে। এই মুয়াল্লিমদের মাধ্যমে সৌদি আরবে হাজিদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র