পবিত্র হজ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে

‘হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ হজব্রতপালন যেমন সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির আওতায় এসেছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (১১ জুলাই) সকালে আশকোনা হজক্যাম্পে চলতি (২০১৮) বছরের পবিত্র হজ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালেই তার সরকার হজ উইংয়ের অফিস জেদ্দা থেকে মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানান্তর করে। যেহেতু হজের সকল কার্যক্রম মক্কা থেকেই পরিচালিত হয়ে থাকে। এ সিদ্ধান্তের ফলে গত নয় বছরে হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা প্রদান অনেক সহজতর ও উন্নততর হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।’

এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনে মক্কা নগরীতে যাবেন। হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর সালেহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসাসরিক কর্মকর্তা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হজযাত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিবছর আমি অপেক্ষা করে থাকি যারা হজে যাবেন তাদের সঙ্গে একটু সাক্ষাত হবে এবং আপনাদের কোনো অসুাবিধা থাকলে শুনে নেব এবং সেই সঙ্গে আপনাদের দোয়াও চাইব।’

/uploads/files/hXGQpedURbtHwhGqOJ4vtBAZOK2wgIQ9VmdV4bKw.jpeg

তিনি বলেন, ‘আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে আপনারা যাবেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালোভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ইসলামের প্রচারে জাতির পিতার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী প্রেরণ করেন। যদিও সেসময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভব পর হয়েছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

দেশের হজ ব্যবস্থাপনায় অতীতের বিশৃঙ্খল অবস্থার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ১৯৮৪ সালে প্রথম উমরা এবং পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে হজ পালনের সময় থেকেই হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী না হলেও সৌদি বাদশাহর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পেতেন। তিনি মিনাতে নিজে দেশের হাজি ক্যাম্পগুলো ঘুরে ঘুরে সমস্যা চিহ্নিত করে সৌদি বাদশাহকে অবহিত করার মাধ্যম সেসব দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারই দেশে ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা, হজযাত্রী পরিবহন, মক্কা-মদিনায় আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবাসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্বের সরকারগুলোর সময়কার যাবতীয় অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

হজ বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল এবং হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী মোবাইল অ্যাপস প্রস্তুত করা, অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করে সারাবছরজুড়ে হজযাত্রীদের জন্য হজের প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্নের ব্যবস্থাসহ হজযাত্রীদের পাসপোর্ট, ভিসা, আবাসন, মেডিকেল সুবিধা, সৌদি আরব গমন, প্রত্যাগমন ইত্যাদি বিষয়ে নানাবিধ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানামূখি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল, হজ চিকিৎসক দল, হজ সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আইটি টিম রয়েছে।

বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের অনিয়মকে দূর করাসহ বাংলাদেশ বিমানের বহরে নতুন ছয়টি উড়ো জাহাজ যোগ করে এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাদের সফর স্বস্তিদায়ক হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশম ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান দেশ, জাতি এব মুসলিম উন্মহির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগগ্রতি এবং ‘৭৫’র ১৫ আগষ্ট শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

ইসলাম এর আরও খবর