Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হাজীদের জন্যে জরুরি কিছু টিপস  

হাজীদের জন্যে জরুরি কিছু টিপস   
জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান। ছবি: বার্তা২৪.কম
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শনিবার (১৮ আগস্ট) দিন শেষে শুরু হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ থেকে এবার পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব এসেছেন সোয়া লাখের বেশি হাজী। সুস্থভাবে হজ সুসম্পন্ন করতে তাদের জন্যে বার্তা২৪.কমের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন ক্যাডারের যুগ্ম সচিব ও জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান।

মক্কায় প্রচণ্ড তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা হাজী সাহেবরা খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে ঠাণ্ডা কাশিতে আক্রান্ত হন।

অনুগ্রহ করে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে প্রচণ্ড রোদে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অনেক কষ্ট করে আপনারা এসেছেন পবিত্র হজ পালন করতে। তাই হজের আগে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।

অনেকেই হজের আগে বেশি বেশি করে নফল ওমরাহ করছেন। এতে করে শারীরিকভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আপাতত সাধ্যের অতিরিক্ত নফল ওমরাহ থেকে বিরত থাকুন।প্রস্তুতি নিন হজের জন্যে। মিনা,মুজদালিফাহ ও আরাফাত এলাকায় উচ্চ তাপে বাইরে অযথা ঘোরাফেরা করবেন না। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাইরে বেড়াতে বা বাজার করতে না যাওয়াই ভালো। এই পবিত্র নগরীতে দয়া করে কেউ একা একা বের হবেন না। বের হলেও সাথে মোয়াল্লেম কার্ড রাখুন।লক্ষ্য রাখবেন যেন নিজে দল ছুট না হয়ে যান। কারণ লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে নিজের হারিয়ে গেলে আপনি যেমন অসহায় বোধ করবেন তেমনি আপনাকে খোঁজাখুঁজি করার জন্যে আপনার সঙ্গীদের বাড়তি পেরেশানিতে পড়তে হবে। হারাম শরিফে নামাজ পড়তে গেলেও দল বেঁধে একত্রে যান। কোন ক্রমেই অচেনা এই নগরীতে একা কোথাও যাবেন না।

মিনা,আরাফাতের ময়দান ও মুজদালিফাহতে  বেশি খাবেন না। বেশি খেলে বেশিবার টয়লেটে যেতে হবে।সেখানে টয়লেটের সংকট রয়েছে। পানি পর্যাপ্ত পান করুন।আরাফাতের ময়দানে আল্লাহর মেহমান হিসেবে বিনামূল্যে অনেকে খাবার পরিবেশন করেন।এই খাবারকে বলা হয় সাবিল।সাবিলের খানা কম খাবেন।নিজের ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন থাকুন। আল্লাহর ঘরে এসে অনেকে নিজের ডায়াবেটিস রোগের কথা একেবারের ভুলে যান।এটা কখনোই সঠিক নয়।আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মক্কায় এসে অনেকে বেশি বেশি খেজুর খান।এটা পরিমিত খাওয়াই উত্তম। প্রচণ্ড গরম থেকে হোটেলে পৌঁছে অনেকে ঠাণ্ডা পানি বেশি বেশি পান করেন।এটাও পরিহার করুন।

ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেলে-ও আপনি বেঁচে যাবেন।কিন্তু মনে রাখবেন কমায় চলে গেলে বা নীল হয়ে গেলে কিন্তু রেহাই নেই। নিজের ডায়াবেটিস আছে কি’না তা যাচাই করে নিন।

আর তাওয়াফ বা সাই করার সময় যদি ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে চকলেট, খেজুর বা কাচা চিনি সঙ্গে রাখুন।

শারীরিক ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকুন। বাড়তি ঝুঁকি নেবেন না। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা হাজী সাহেবরা অনেকেই ঢাকায় হোটেলের খাবার খেয়ে এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার হোটেল বা উড়োজাহাজ দেয়া খাবারের সাথে অভ্যস্ত না হওয়ায় অনেকে না খেয়ে কাটিয়ে দেন। এতে তাদের শরীরে এসিডিটি বেড়ে যায়। অনেকে এখানে এসে বেশি বেশি জুস খান। এতেও অনেকেই পেট খারাপে আক্রান্ত হন। পাতলা পায়খানার মতো অসুখে পড়তে হয়। এসব হলে দ্রুত খাবার স্যালাইন খান।

যদি আল্লাহ না করুন অসুস্থ হয়ে গেলেও চিন্তা নেই। আমরা খবর পেলে প্রয়োজনে আপনার হোটেলে ডাক্তার পাঠিয়ে দেবো। আমাদের ৫টি এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। ১০০শ’য়ের  বেশি অভিজ্ঞ সিনিয়র ডাক্তার ছাড়াও আপনাদের সেবায় রয়েছে আড়াই‘শ দলের বিশাল মেডিকেল টিম। কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে যাবেন- অবস্থা বুঝে আপনাকে তারা পরামর্শ দেবে। সেখানেও আপনাদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে আমাদের দোভাষী টিম।

সৌদি সরকার এখানে সম্মানিত আল্লাহর মেহমানদের জন্যে উদার নীতি নিয়েছেন। হজে এসে কেউ যদি কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হন বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাহলে বিনামূল্যে তার জন্যে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নেবার সুযোগ রয়েছে এখানে। বর্তমানে বেশ কয়েকজন হাজী ওপেন হার্ট সার্জারি, কেমো থেরাপী, আইসিইউ বা সিসিইউ সেবা গ্রহণ করেছেন। এ জন্যে তাদের একটি পয়সাও খরচ করতে হয়নি। 

হারামাইন শরিফ আইনের আওতায় সম্মানিত হাজীরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা এখানে পাবেন বিনামূল্যে।

তবে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে নিজের সুস্থতার ওপর। মনে রাখতে হবে আপনার উদ্দেশ্য পবিত্র হজ সঠিক নিয়মে পালন করা। যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আপনার এতদূরে নিয়ে এসেছে। তাই নিজের সুস্থতার জন্যে আপনার একটু সচেতনতাই যথেষ্ট।

আপনার মতামত লিখুন :

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার

নবীর রওজার গিলাফ উপহার পেলেন ব্রিটিশ বক্সার
নবীর রওজার গিলাফের টুকরা দেখাচ্ছেন আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ব্রিটিশ বক্সার আমির ইকবাল খান এক বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অস্ট্রেলিয়ান বক্সার বিলি ডিবের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। সৌদি আরব যেয়ে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওমরা পালন করেছেন। সেই সঙ্গে নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত গিলাফের একটি টুকরা পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের হয়ে অলিম্পিক পদকজয়ী এই বক্সিং চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফারিয়াল মাকদুমকে নিয়ে কাবা চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে ইহরাম পরিহিত ও রওজার গিলাফের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন। গিলাফের ওই টুকরাটি সবুজ কাপড়ের। সেখানে সাদা রংয়ের ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা লেখা রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563289158690.jpg

আমির খান সম্মাননা পাওয়া রওজার গিলাফের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা শরিফের এক টুকরো কাপড় পেয়ে সম্মানিত ও খুব সৌভাগ্যবান। এটা আমার পুরো জীবনের জন্য উপভোগের বিষয়।’

প্রতি বছরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা শরিফের গিলাফ এবং কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। পরে গিলাফের অংশ বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা হিসেবে উপঢৌকন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীর পর মুসলিম বক্সার হিসেবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা আমির ইকবাল খান এ উপহার পেলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র