Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কঠোর নজরদারির মধ্যেও ভোগান্তির শেষ নেই হাজিদের

কঠোর নজরদারির মধ্যেও ভোগান্তির শেষ নেই হাজিদের
ছবি: বার্তা২৪
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

 

মক্কা ( সৌদি আরব)  থেকে: হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা। কথা মতো হারাম শরিফের কাছে বাসা না দিয়ে বহু দূরে রাখা, খোঁজ খবর না নেয়া, খাবার দাবার ঠিক মতো না দেয়াসহ- দেশে ফেরার পর হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগেই মুখর থাকে হাজিরা।

তবে সেই অভিযোগের কফিনে পেরেক ঠুকতে চেষ্টারও কমতি নেই হজ মিশনের।

অভিযোগ পেলে আর ছাড় নয়। বিশেষ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ গেলে আর রক্ষা নেই। কারণ হাজিদের এখানে দেখা হয় সর্বোচ্চ সন্মানের চোখে দেখা হয়, বলা হয় তাদের আল্লাহর মেহমান।

হজ শেষ, আগামী কাল ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট। চলবে টানা একমাস। শেষ ফিরতি ফ্লাইট হাজিদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে উড়ে যাবে ২৬ সেপ্টেম্বর। এই মধ্যবর্তী সময়টা নিয়েই দু:চিন্তা হজ মিশনের।

কারণ এই সময়টাতেই হাজিদের কাউকে মক্কা থেকে মদিনায়। কাউকে দূরবর্তী বাসা থেকে সরিয়ে এনে হারাম শরিফের কাছে। কাউকে বা দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় এজেন্সিগুলোকে।

আর এই সময়টাতেই সেবার মান নিয়ে উঠতে শুরু করে নানা অভিযোগ আর প্রশ্নের।

ইতোমধ্যে মিনা,আরাফাত আর মুজদালিফায় মোয়াল্লেমদের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই হাজিদের।

খাবারের কষ্ট, তীব্র গরমে এসিহীন তাবুতে রাখা, যানবাহনের ব্যবস্থা না করে আরাফাত থেকে মুজদালিফা হয়ে জামারায় পাথর নিক্ষেপ। সেখান থেকে ফরজ তাওয়াফ ও সায়ী করার জন্যে মক্কায় কাবা শরিফে গমন- এসব স্থানে যানবাহন দূরে থাকা, হজ এজেন্টদের টিকির নাগাল পান নি অনেক হাজি।

তীব্র গরমে দীর্ঘপথ হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হাজিদের অনেকে হয়ে পড়েছেন অসুস্থ।

আবার যাদের হারাম শরীফ থেকে দূরে রাখা হয়েছে,তাদের দিনে অন্তত একবারের জন্য হারাম শরীফে যাতায়াতে বাসের বন্দোবস্ত করার অঙ্গীকার করা হলেও সেই অঙ্গীকার পালন করেন নি বেশ কিছু এজেন্সি। উল্টো দূর্ব্যবহার আর হুমকি ধামকির মধ্যে মুখ বুঝে রয়েছেন হাজীদের অনেকে।

এরই মাঝে হাজিদের সেবায় হজ মিশনের তৎপরতাও ছিলো চোখে পড়ার মতো। জামারায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থানের কাছের এলাকা আজিজিয়া। কাবা শরীফ থেকে হেঁটে যাওয়া পথের দূরত্ব প্রায় ৬ কি:মি:।

সেখানকার একটি হোটেলে হঠাৎ করেই হাজিদের সেবার মান দেখতে একজন সহকর্মী নিয়ে ছুটে যান বাংলাদেশ হজ মিশনের সহকারি হজ অফিসার কনসাল হজ আবুল হাসান(৪০)।

এ সময় তারা ডাইনিং রুমে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন হাজিদের খাবারের মান। এজেন্সির হজ সেবা নিয়েও কথা বলেন হাজিদের সঙ্গে।

২৪ তম প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা জানান, এভাবে আমরা প্রতিটি এজেন্সির সেবার মান কিংবা হাজিদের কি ধরনের খাবার দাবার দিচ্ছেন তা পর্যবেক্ষণে সারপ্রাইজ ভিজিট করছি। সেবার মানের বিষয়ে ব্যতয় হলে আমরা রিপোর্ট করছি।

এটা ঠিক হাজিদের তুলনায় আমাদের জনবল কম। তারপরও সরকারের তরফে আমাদের চেষ্টা বিড়ম্বনাহীন হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

এবার আমরা প্রতিটি হাজিদের ইলেকট্রনিক্স মেডিক্যাল প্রোফাইল তৈরি করেছি। সেখানে তাদের রোগের একটা হিস্ট্রি আছে। কিয়স্ক মেশিন পাসপোর্ট ধরলেই সার্ভার থেকে হাজির সকল তথ্য স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে আসে।

চিকিৎসা নেবার সময় হাজিদের নতুন করে নাম, বয়স বা রোগের হিস্ট্রি জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে না। ফলে দ্রুততর সময়ের মধ্যে হাজিরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। এবার ৪'শ পুরুষ হজ কর্মীর পাশাপাশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৫ জন নারী হজ কর্মী। তারা হারিয়ে যাওয়া নারী হাজিদের খুঁজে মিশনে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে আমরা তাকে নির্দিষ্ট হোটেলে পাঠিয়ে দেই।

প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে প্রতিবছর ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী আসেন কেবল হাজিদের সেবায়। আমাদের দেশ থেকেও এমন ব্যবস্থাপনা চালু হলে অতি সহজেই হাজিরা এখানে তাদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন।

তবে এটা ঠিক,মক্কা ও মদিনায় পৃথক মোয়াল্লেম আর আদিল্লার ( স্থানীয় এজেন্ট) কিছু সেবা আর সমন্বয়হীনতা নিয়ে বরাবরই হাজিদের অভিযোগ থাকে।

আমাদের চেষ্টা হাজিদের এই অভিযোগ শূন্যে নামিয়ে আনা যোগ করেন বাংলাদেশ হজ মিশনের সহকারি হজ অফিসার কনসাল হজ আবুল হাসান।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র