ফারুকী হত্যায় সরাসরি জড়িত জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগর

মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ও জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগর।

শাহরিয়ার হাসান,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম

 

ঢাকা: চ্যানেল আইয়ের কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৯ জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডের তথ্যসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জেএমবির শীর্ষ নেতা হাদিসুর রহমান সাগর। ইসলামের অপব্যাখ্যা দেওয়ার অপরাধে ফারুকীকে হত্যা করা হয় বলে জানায় নব্য জেএমবির এই শীর্ষ নেতা। 

হাদিসুর রহমান সাগরের জবানবন্দিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে গেছে। মূলত এ বছরই মামলাটি সিআইডিতে আসে, তার আগে দীর্ঘ দিন মামলার তদন্তের ভার ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপর।

সিআইডি সূত্র বলছে, হাদিসুর রহমান সাগর গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত ফারুকী হত্যা মামলা পুরোটা অন্ধকারে ছিল। সাগরকে গ্রেফতারের পর সিআইডি ফারুকী হত্যা সম্পর্কে জানতে আদালতের কাছে তার রিমান্ড আবেদন করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে হত্যা সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেন সাগর। পাশাপাশি তার  নিজের  সম্পৃক্ততাও স্বীকার করে নেন। সর্বশেষ তা আদালতে জবানবন্দি দেন এই জঙ্গি নেতা।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হাদিসুর রহমান সাগর বলেন, ফারুকী হত্যায় তাদের মোট দুটি টিম অংশ নেয়। তাসনিমের নেতৃত্ব একটি টিম ফারুকীর বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালায়। আরেকটি টিম হাদিসুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে ব্যাকআপ টিম হিসেবে বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে সব মিলে এ ঘটনায়  ৯ জন জঙ্গি ছিল বলে সাগর জানায়।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এই  ৯ জঙ্গি হলেন, জঙ্গি শীর্ষ নেতা  হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গি শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহান মানিক,  তাসনিম, আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক, রজব, ইমন, রফিক, নাইম ও আশফাক।

এই জঙ্গিদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে জানতে গিয়ে জানা যায়,  গত ২২ মার্চ রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে নব্য জেএমবির শীর্ষ দুই জঙ্গি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর ও আকরাম হোসেন নিলয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদেরকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কাছে হস্তান্তর করেন।

সে সময় সিটিটিসি থেকে জানা যায়, হাদিসুর রহমান সাগর পুরনো জেএমবির সদস্য। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন পলাতক আসামি ছিলেন। পুলিশের  অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাগর ওই হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিল। জেএমবিতে বোমা তৈরির কারিগর হিসেবেও সাগরের বেশ পরিচিতি আছে।

অন্যদিকে র‍্যাব সদরদফতর থেকে জানা যায়, ৮ অক্টোবর  ২০১৬ তে  র‌্যাবের অভিযানের মুখে পালাতে গিয়ে নিহত হন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) সারোয়ার তামিম গ্রুপের তৎকালীন আমির এই হত্যাকাণ্ডের অন্য সহযোগি সারোয়ার জাহান মানিক। অন্য জঙ্গি জামাই ফারুক গত বছর ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। সাগর ও তাসনিম রয়েছে কারাগারে। বাকিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

৪ বছর আগে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে ১৭৪/পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় ঢুকে স্ত্রী ও স্বজনদের আটকে রেখে, নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

ফারুকী সুন্নী মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তিনি হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব ছিলেন।

ইসলাম এর আরও খবর