Alexa

বিপর্যয়ের মুখে ভারতের জেট এয়ারওয়েজ

বিপর্যয়ের মুখে ভারতের জেট এয়ারওয়েজ

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা ডেস্ক

আগামী ১ এপ্রিল থেকে কর্ম বিরতিতে চলে যেতে পারেন ভারতীয় বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজের পাইলট এবং বিমান কর্মীরা। এর ফলে চূড়ান্ত সমস্যার মুখে পড়বেন জেট এয়ারওয়েজের যাত্রীরা।

যদি ৩১ মার্চের মধ্যে সংস্থাটি বকেয়া বেতন না মেটায় এবং আর্থিক সংকট সুরাহা না হয়, তাহলে ১ এপ্রিল থেকে কর্মীরা আর বিমান চালাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এমনই জটিলতার ফলে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বেকার হতে পারেন জেট এয়ারওয়েজের প্রায় তেইশ হাজার কর্মী।

সমস্যার মূল কারণ কর্মীদের বকেয়া বেতন। তিন মাস ধরে কর্মীদের বেতন নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম অসামরিক বিমান পরিষেবা সংস্থাটি।

শুধু পাইলট বা বিমান কর্মীরা নয়, সংস্থাটির প্রকৌশলী ইউনিয়নও, দেশের বিমান পরিবহন নিয়ামক ডাইরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যায়ভিয়েশন (ডিজিসিএ)-কে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, বেতন না পেয়ে সংস্থার কর্মীদের মনোবল এতোটাই ভেঙে গিয়েছে যে তার প্রভাব পড়তে পারে উড়ানের সুরক্ষার উপরও।

এহেন সমস্যার ফলে অগ্রিম টিকিত কেটে রাখা যাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত রাজনৈতিক তৎপরতা।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সচিবকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী সুরেশ প্রভু। সমস্যা চূড়ান্ত রূপ নেওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দরজায়। ভারতের লোকসভা ভোটের আগে এই সমস্যা নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির।

মূলত ঋণ ভারে জর্জরিত হয়েই কঠিন সমস্যার মুখে পড়েছে ভারতে বিমান সংস্থাটি। জানা যাচ্ছে কম দামে টিকিট বিক্রির প্রতিযোগিতা এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলেই সংস্থাটির আর্থিক অবস্থা এই প্রকার দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এর আগে ভারতের আরেক বিমান সংস্থা কিংফিশার এয়ারলায়েন্স ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক ডিজিসিএক জানিয়েছে, মানসিক ভাবে চাপের কথা জানালে যেন কর্মচারীদের কাজ করতে বাধ্য না করে জেট এয়ারওয়েজ।

অপর আর এক খবর অনুযায়ী, জেট এয়ারওয়েজের অন্যতম শরিক এত্তিহাদ এয়ারওয়েজ ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। যদি এই সম্ভাবনা সত্যি হয় তবে জেট এয়ারওয়েজের পুনর্জীবন আরও কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেট এয়ারওয়েজের প্রায় ২৩,০০০ কর্মী কাজ হারালে ভোটের মুখে চাপ বাড়বে শাসক দল বিজেপির।

কলকাতা এর আরও খবর