শুভেচ্ছা বৃষ্টিতে ওসাকা, সমালোচিত সেরেনা

সেরেনা-ওসাকার বিতর্ক ছড়ানো এক ফাইনাল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পর এখন শুভেচ্ছা বৃষ্টিতে সিক্ত হচ্ছেন নাওমি ওসাকা। সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন ২০ বছরের এই তরুনী। প্রথম জাপানি হিসেবে পেলেন কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম। ইউএস ওপেন টেনিসের ফাইনালে তিনি জিতেছেন ৬-২ ও ৬-৪ গেমে।

এই সাফল্যের পর এখন চলছে ওসাকা বন্দনা! খোদ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রশংসা করলেন তার। সূর্যোদয়ের দেশটির গর্ব তিনি। শিনজো অাবের টুইট, ‘জাপানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জিতল ওসাকা। জাপানকে লড়াইয়ের শক্তি ও প্রেরণা জোগানোর জন্য ওকে ধন্যবাদ।’

সেরেনার বিপক্ষে তার জয়টা রীতিমতো বিস্ময়কর। কারণ অভিজ্ঞতা, সাফল্য আর বয়স কোন কিছুতেই ওসাকা ওই মার্কিনির ধারে কাছেও ছিলেন না! সেরেনা যখন তার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি হাতে নিয়েছিলেন তখন তার বয়স মাত্র এক। তারপর সেরেনা-ভেনাসদের দেখেই টেনিসে আগ্রহ।

শৈশবের সেই ‘আইডল’ এর বিপক্ষে জয় দিয়েই তিনি উঠে এসেছেন অনন্য উচ্চতায়। ৩৬ বছর বয়সী সেরেনাকে নিউইয়র্কের ফাইনালে অনায়াসেই উড়িয়ে দিলেন ওসাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/09/1536482999833.jpeg

জাপান তাকে নিয়ে গর্ব করলেও তিনি কিন্তু পুরোটা জাপানি নন। তিন বছর বয়স থেকেই থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। তার বাবা হাইতিয়ান আর মা জাপানিজ। দুই ভিন্ন সংস্কৃতির বাহক ওসাকা বেড়ে উঠেছেন ফ্লোরিডার আলো বাতাসে। জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক তিনি। তবে ওসাকা নিজেকে জাপানি বলতেই ভালবাসেন।

ওসাকা যখন অভিনন্দনে ভাসছেন তখন অনেকে সেরেনা উইলিয়ামসের সমালোচনায় মুখর। কারণ ফাইনালে চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। মেজাজ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পেরে ম্যাচ চলার সময়ই আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে উঠেন। রাগে র‍্যাকেট ছুড়ে মারেন। এমন কী বিরতির পর কোর্টে ফেরত আসতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ফিরলেও খেলায় মনোযোগ ছিল না মা হওয়ার পর প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার স্বপ্ন দেখা সেরেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/09/1536483015864.jpeg

২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী এই তারকা হার মেনে নিতে জানেন না! তার অহংকারী আচরণ সবার নজরেও এসেছে। পর্তুগিজ আম্পায়ার রামোসের সঙ্গে হাত তো মেলাননি উল্টো তাকে বলেন, ‘আপনি একজন মিথ্যাবাদী। আপনি যতদিন বাঁচবেন আর কোনোদিন আমার কোর্টে থাকবেন না। কখন আপনি আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন? বলুন যে আপনি দুঃখিত।’

এখানেই শেষ নয়, আম্পায়ারের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘তিনি ছেলেদের কাছ থেকে কখনো ম্যাচ কেড়ে নিতে পারে না! কারণ ওরা তাকে চোর বলে।’ অবশ্য ফাইনালে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে গ্যালারির দর্শকরা ছিলেন সেরেনার সঙ্গেই। কিন্তু এটা তো শুধুই আরেকটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম, যেখানে আম্পায়ারের ভুল হলেও সেরেনার এমন উত্তেজিত হওয়াটা মানতে পারেন নি অনেকেই!

আরো পড়ুন :

ইতিহাস গড়ে ইউএস ওপেন নাওমি ওসাকার

 

খেলা এর আরও খবর