অভিষেকেই আল ইসলামের হ্যাটট্রিক, ঢাকার নাটকীয় জয়

উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচ শেষে হাসিমুখ ঢাকার সমর্থকদের

এম. এম. কায়সার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম

আল ইসলাম কে?

এক ওভারে দুটো ক্যাচ ছাড়ার পর তাকে নিয়ে প্রশ্নটা উঠলো। কেউ তার পুরো পরিচয় দিতে পারলেন না! খানিকবাদে তিনি নিজের বলে আরেকটি ক্যাচ মিস করলেন। সবমিলিয়ে ম্যাচ তার ক্যাচ মিসের সংখ্যা দাড়ালো তিনে। লজ্জায় মাঠের কোথায় দাড়াবেন স্থির করতে পারছিলেন না! সেই তিনিই  প্রায় হঠাৎ করেই ম্যাচের নায়ক হয়ে গেলেন! রংপুর ইনিংসের শেষের দিকে বল করতে এসে টানা তিন বলে তিন উইকেট শিকার করলেন! হ্যাটট্রিক! তাও আবার বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই! প্রায় জিততে বসা রংপুর যে ২ রানে হেরে গেলো ঢাকার অপরিচিত অফস্পিনার আল ইসলামের কাছেই! ম্যাচে তার শিকার সংখ্যা ২৬ রানে ৪ উইকেট। এর মধ্যে হ্যাটট্রিকও আছে!

শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে রংপুরের প্রয়োজন দাড়ায় ১৪ রান। আল ইসলামের করা সেই ওভারের প্রথম দুই বলে দুটো বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শফিউল ইসলাম ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। আরেকবার ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় রংপুরের দিকে। কিন্তু শেষের চার বলে ফের ক্যারিশমা দেখান আল ইসলাম। শেষ চার বলে রংপুর তিন রানের বেশি নিতে পারেনি। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচ জিতে ঢাকা ২ রানে।

আরেকবার প্রমান হলো ক্রিকেট যতটুকু নেয়, তারচেয়ে অনেক বেশি ফিরিয়ে দেয়! অন্তত এই ম্যাচ শেষে ঢাকার অফস্পিনার আল ইসলাম এখন এই শ্লোগানই দেবেন, জোরে সোরে।

হাতের নাগালে চলে আসা ম্যাচ হেরে দুঃখে কাতর রংপুর। শেষ ৩০ বলে জিততে তাদের প্রয়োজন ছিলো ৪২ রানের। হাতে জমা ৮ উইকেট। ঠিক তখনই রাইলি রুশো আউট হন। রবি বোপারাও টিকলেন না। নিজের তৃতীয় ওভারে তখনই যাদু দেখান ঢাকার অফস্পিনার আল ইসলাম। সেই ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ মিঠুনকে বোল্ড করেন। পরের বলেই মাশরাফি বিন মুর্তজার বেলসও উড়ে গেল, বোল্ড! ওভারের ষষ্ঠ এবং শেষ বলে ফরহাদ রেজাকে ক্যাচ বানিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পুরো করেন আল ইসলাম। বিপিএলের ইতিহাসে নিজের অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের অনন্য কৃতিত্ব গড়লেন অফস্পিনার আল ইসলাম।

রান তাড়ায় নামা রংপুরের শুরুটা ভাল হয়নি। পাওয়ার প্লে’ শেষ হওয়ার আগেই ২৫ রানে দুই ওপেনার আউট। তবে সেই ক্ষতিটা পুষিয়ে দেন তৃতীয় উইকেট জুটিতে রাইলি রুশো ও মোহাম্মদ মিঠুন। এই জুটিতে তাদের যোগ করা ১২১ রান রংপুরকে ম্যাচ জয়ের পথেই রাখে। ৪৪ বলে রাইলি রুশো ৮৩ রান করে আউট হতেই যেন রংপুরের ইনিংসের রং হারিয়ে যায়। আর রঙ্গমঞ্চে নতুনভাবে তখন আবির্ভুত হলেন আল ইসলাম! হ্যাটট্রিক উইকেট তুলেন নিলেন নিজের তৃতীয় ওভারে। এবং শেষ ওভারেও দুর্দান্ত বোলিং করে ঢাকাকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন।

অথচ এই ম্যাচের একসময় তিনি এক ওভারে দুটো ক্যাচ ছেড়েছিলেন। তৃতীয় ক্যাচটা মিস করেন নিজের বোলিংয়ে! ম্যাচ শেষে সেই তিনিই ম্যাচ সেরা পারফর্মার!

রাসেল-পোলার্ডের ব্যাটে রান। ক্রিস গেইলের প্রায় ছক্কা হতে যাওয়া বলকে জুটিতে ক্যাচ বানিয়ে ফেলা। রাইলি রুশোর চমৎকার ব্যাটিং। মোহাম্মদ মিঠুনের ৪৯ রানের প্রশংসনীয় ইনিংস। ঢাকা-রংপুরের ম্যাচে এমনসব অনেক স্মৃতিময় ঘটনা ঘটে। তবে সবকিছুকেই পেছনে ফেলে এই ম্যাচের নায়ক হয়ে থাকলেন শুধু একজনই; আল ইসলাম।

খলনায়ক থেকে নায়ক কিভাবে হতে হয়-এই ম্যাচে আল ইসলামের পারফরমেন্স তাই জানায় গেলো!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ঢাকা ডায়নাইমটস: ১৮৩/৯ (২০ ওভারে, জাজাই ১, নারিন ৮, রনি ১৮, সাকিব ৩৬, মিজানুর ১৫, পোলার্ড ৬২, রাসেল ২৩, শুভাগত ৩, সোহান ৪, রুবেল ১*, শফিউল ৩/৩৫, সোহাগ ২/২৮, হাওয়েল ২/২৫)। রংপুর রাইডার্স: ১৮১/৯ (২০ ওভারে, গেইল ৮, রুশো ৮৩, মিঠুন ৪৯, হাওয়েল ১৩, শফিউল ১০*, আল ইসলাম ৪/২৬)। ফল: ঢাকা ২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: আল ইসলাম।

খেলা এর আরও খবর